পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१० ১১ জুন ১৯১১ હૈં শিলাইদা কল্যাণীয়াসু হোক না সংসার প্রতিকুল, সমস্ত সংসারের চেয়ে তোমার আত্মা অনেক বেশি বুড়— আজ যাহার কাছে হার মানিয়া কান্নাকাটি করিতেছ হঠাৎ দেখিবে তাহা স্বপ্নের মত মিথ্যা । সে ধোয়ার মত তোমাকে আচ্ছন্ন করিয়াছে— এই ধোয়া বাহির হইতে দেখিতে প্রকাগু কিন্তু তোমার মধ্যে যে মৃত্যুহীন শিখাটি রহিয়াছে তাহা চোখে দেখিতে ছোট হইলেও পৰ্ব্বতপ্রমাণ ধোয়ার চেয়ে বড়। আমি পুনশ্চ বলিতেছি তোমার দুঃখ অবসাদ যতই প্রবল হৌক না কেন, তোমাকে তাহা যতই পীড়া দিক্‌ না কেন তবু আমি তাহাকে তুচ্ছ বলিয়াই মানিব । তাহার দ্বারা তুমি নিজেকে ছোট করিয়া দেখিয়োনা— অস্তরের মধ্যে নিজের মহত্ত্বকে ধ্রুব রূপে অনুভব কর এবং ঈশ্বরের সঙ্গেই তোমার নিত্য সম্বন্ধকে অন্ত সকলের চেয়ে সত্য করিয়া অনুভব করিতে চেষ্টা কর । হাল ছাড়িয়া দিলে চলিবে না। তুমি জয়ী হইবেই, তীরে উত্তীর্ণ হইবেই, রক্ষা পাইবেই ইহা ধ্রুবনিশ্চয় করিয়া জানিয়ো । তোমার জীবনের ইতিহাস একলা তোমার ইতিহাস নহে— ইহার মধ্যে সমস্ত জগতের মঙ্গলের ইতিহাস আছে— অতএব বিশ্বেশ্বর তোমাকে নষ্ট হইতে দিতে পারেন না— তোমার আদ্যকার ব্যর্থতার বেদন সমস্ত বিশ্বের তপস্যার অগ্নিকে ইন্ধন জোগাইতেছে। তুমি 8 X