পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


vტხ” ১৮ এপ্রিল ১৯১৫ હૈં শান্তিনিকেতন কল্যাণীয়াসু মা, এই জগৎসংসারে সুন্দর, মঙ্গল এবং সত্য যে কতদিকে কত পূর্ণ হইয়া আছে একবার সমস্ত মন দিয়া তাহ গ্রহণ কর তাহা হইলেই নিজের মধ্যে যাহা ক্ষুদ্র যাহা কুত্ৰ তাহা মিলাইয়া যাইবে । অতি বিরাট সঙ্গীতে আকাশ প্লাবিত হইয়া যাইতেছে— জীবনের আবরণ মোচন করিয়া একবার সেই সঙ্গীতে দেহমনকে মগ্ন করিয়া ধৌত করিয়া নববর্ষে নূতন জন্ম লাভ কর । পুরাতনকে বারবার ত্যাগ করিয়া তবে আমরা অমৃতলোকের যাত্রায় অগ্রসর হইতে পারিব । যে পুরাতন মলিন, যাহা নিজ্জীব, যাহা জীবনের উপর ভারের মত, তাহাকে প্রাণপণে এই জগদ্ব্যাপী আনন্দসাগরে সৌন্দর্য্যতরঙ্গে বিসর্জন দাও— নিজের ভিতরকার মৃত্যুহীন পবিত্র অমৃত রূপটি দেখ– দেখ একবার জীবন কি মহৎ, জগৎ কি আশ্চর্য্য, যিনি চির দিনের সঙ্গী তিনি কি অন্তরতম— দুঃখগ্রানির ছায়ার খেলা কি তুচ্ছ, মানুষের আত্মার শক্তি মানুষের সংসারের অভিঘাতের চেয়ে কত বড় ! এই নববর্ষ তোমার জীবনে সার্থক হউক । ৫ই বৈশাখ ১৩২২ শুভাতুধ্যায়ী শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর צף