পাতা:জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩২

দারােগার দপ্তর, ২০২ সংখ্যা।


কলেরায় মারা পড়িয়া থাকেন, তাহা হইলে তোমার কি দুর্দ্দশা হইবে ভাবিয়া দেখিয়াছ কি?

 বাধা দিয়া শক্তি বলিয়া উঠিলেন, “সে বিষয় নিশ্চিন্ত থাক, দুর্গা! দাদা নিশ্চয়ই বিষপানে মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছেন।”

 রমণী আর কোন কথা কহিল না। শক্তিও আর কোন উচ্চবাক্য করিলেন না। রাত্রি প্রায় নয়টা বাজিল দেখিয়া আমি আর সেখানে অপেক্ষা করিলাম না, তখনই থানার দিকে ফিরিলাম। পথে একখানি ভাড়াটিয়া গাড়ীতে আরোহণ করিয়া কোচমানকে থানায় লইয়া যাইতে আদেশ করিলাম। কিছু দূর যাইলে পর ভাবিলাম, রসময় কেমন লোক, না জানিলে এ রহস্য কিছুতেই বুঝিতে পারিব না। শক্তিশাধন সামান্যলোক নহে। যখন তিনি উপকারী জেষ্ঠ্যের মৃত্যুতে নিজের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিতে উদ্যত, তখন তাঁহার অসাধ্য কর্ম্ম জগতে অতি বিরল। বিশেষতঃ, তিনি বহুকাল হইতে নীচ জাতীয়া রমণীর সহিত বসবাস করিয়া আসিতেছেন বলিয়া তাঁহার নিজের মনোবৃত্তি সকল নিস্তেজ হইয়া গিয়াছে, ব্রাহ্মণ-সন্তান হইয়া এবং উচ্চ-বংশে জন্মগ্রহণ করিয়াও নানাবিধ নীচ কার্য্যে প্রবৃত্তি জন্মিয়ছে। সুতরাং তাঁহার কথায় কোনরূপে বিশ্বাস করা উচিত নহে। যক্ষণ না বিশিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাইবে, ততক্ষণ রসময়বাবুর উপর কোন প্রকার অত্যাচার করিতে দিব না।

 এইরূপ চিন্তা করিতে করিতে আমি থানায় আসিয়া উপস্থিত হইলাম। পরে ছদ্মবেশ ত্যাগ করিয় কিছু বিশ্রাম করিতে মনস্থ করিলাম।