পাতা:জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩৪

দারােগার দপ্তর, ২০২ সংখ্যা।


 রসময় বাবুর বাড়ীখানি সুন্দর, প্রকাণ্ড ও ত্রিতল। বাড়ীতে লোকজন অনেক। সদর দ্বারে উপস্থিত হইবা মাত্র একজন ভৃত্য আসিয়া আমার আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করিল। আমার কথা শুনিয়া সে প্রস্থান করিল এবং তখনই রসময় বাবুকে সঙ্গে লইয়া পুনরায় দ্বারদেশে প্রত্যাগমন করিল।

 আমাকে দেখিয়া রসময় বাবু অতি সমাদরে ত্রিতলের একটা বৈঠকখানায় লইয়া গেলেন।

 বৈঠকখানাটী বেশ সাজানো। আমি ভিতরে গিয়া একখানি চেয়ারে উপবেশন করিলাম। রসময় বাবু অপর একখানি চেয়ারে আমার সম্মুখে বসিলেন। তাঁহার মুখ দেখিয়া আমার স্পষ্টই বোধ হইল যে, তিনি হরিসাধন বাবুর মৃত্যুতে অত্যন্ত শোকান্বিত হইয়াছেন। তাহার বিষণ্ণ বদন দেখিয়া আমার আর এক সন্দেহ জন্মিল। আমি ভাবিলাম, রসময় হরিসাধনের জ্ঞাতি ভাই। ইনি তাঁহার মৃত্যুতে যেরূপ শোকাতুর হইয়াছেন, শক্তিসাধন আপন সহোদর হইয়া সেরূপ দুঃখিত নহেন কেন?”

 সে যাহা হউক, কিছুক্ষণ চিন্তার পর আমি রসময়বাবুকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “এখন ত আপনাদের বিশ্বাস হইয়াছে যে, হরিসাধনবাবুকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে?”

 একটা দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়া অত্যন্ত দুঃখিতভাবে রসময়বাবু বলিলেন, “যখন সরকারী ডাক্তার হরিসাধনের মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া ঐ কথা বলিয়াছেন, তখন আর আমাদের অবিশ্বাসের কারণ কি? কিন্তু আমি আশ্চর্য্যান্বিত হইতেছি যে, শক্তিসাধন পূর্ব্বে একথা কেমন করিয়া জানিতে পারিল এবং কেই বা হরিসাধনের উপর এতদূর শত্রুতা করিল?”