পাতা:ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ডাক্তার বাবু।


লেন। এক দিবস শিক্ষাবিভাগের একজন কর্ম্মচারী আমাদিগের পরীক্ষা লইলেন, এবং যাইবার সময় আমার প্রতি লক্ষ্য করিয়া শিক্ষক মহাশয়কে বলিয়া গেলেন, ‘আমি যতদিন শিক্ষাবিভাগে কর্ম্ম করিতেছি, তাহার মধ্যে এরূপ বুদ্ধিমান বালক আমার নয়নগোচর হয় নাই। যদি ইহার চরিত্র কলুষিত না হয়, তাহা হইলে এই বালকটী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটী উজ্জ্বল রত্ন হইবে।’

 আমি এই কথাগুলি শুনিলাম; শুনিয়া আমার মনে কেমন এক প্রকার আনন্দ হইল—নূতন ভাবের আবির্ভাব হইল। কিন্তু সেই ভাব মনে গোপন রাখিতে পারিলাম না। বাটীতে যাইবামাত্র প্রথমে মা, তৎপরে শিক্ষককে সবিশেষ বলিলাম। তাঁহারা সকলেই শুনিলেন, কিন্তু কেহই কিছু বলিলেন না।

 পূর্ব্বে আমার হৃদয়ে যে ভাবের ছায়া পড়িয়াছিল, ক্রমে তাহা আরও স্পষ্টরূপে প্রত্যক্ষ হইতে লাগিল। মনে মনে সর্ব্বদা ভাবিতে লাগিলাম, আমার মত বুদ্ধিমান বালক আর নাই। আমি যেরূপ লেখা পড়া শিখিতেছি, সেরূপ অন্যের অসাধ্য।

 এইরূপে বৎসর বৎসর সুখ্যাতির সহিত পারিতোষিক পাইয়া প্রথম শ্রেণীতে উত্থিত হইলাম। তখন আমার বয়ঃক্রম চতুর্দ্দশ বৎসর, কিন্তু ১৬ বৎসর বয়ঃক্রম না হইলে সেই সময়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা দিবার অধিকার ছিল না; সুতরাং সেই শ্রেণীতে তিন বৎসর কাল থাকিতে হইল। সেই সময় আমার শিক্ষক—যিনি আমাদের বাটীতে থাকিয়া নিয়ত আমার উন্নতি চেষ্টা করিতেন—যাঁহার যত্ন ও পরিশ্রমের গুণে সকলেই