পাতা:ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪৬

ডিটেক্‌টিভ পুলিস, ১ম কাণ্ড।


পড়িয়া তাহার মর্ম্ম অবগত হইলেন। সন্তুষ্ট হইয়া বলিলেন, “এখন আমি জানিতে পারিলাম যে, ডাক্তার সাহেব আমার নিমিত্ত একান্তই পরিশ্রম করিতেছেন।” সেইদিবস অবশিষ্ট সহস্র মুদ্রা তাঁহার নিকট হইতে লইয়া ইচ্ছানুযায়ী খরচ করিয়া ফেলিলাম। কিন্তু পরদিবস জাল রসিদ আনিয়া দিতে ভুলিলাম না।

 ইতিমধ্যে আরও একখানি পত্র জাল করিলাম; এখানি মহামান্য ষ্টেট্ সেক্রেটরীর নাম-স্বাক্ষরিত। ইহাতে উল্লেখ রহিল, “আপনার বিষয় বিশেষরূপে বিবেচিত হইবে ও তাহার ফল পরে জানিতে পারিবেন।” পত্রখানি পূর্ব্বোক্ত উপায়ে জমীদার মহাশয়কে আনিয়া দিলাম; আমার উপর তাঁহার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হইল। এইরূপে পাঁচ সহস্র টাকা আত্মসাৎ করিয়া নিজ নিকৃষ্টবৃত্তি চরিতার্থ করিলাম সত্য; কিন্তু মনে মনে ভাবিলাম, এখন কোন উপায় অবলম্বন করিয়া, জমীদার মহাশয়কে বুঝাইব যে, তাঁহার মনোস্কামনা পূর্ণ হইয়াছে। যাহা হউক এইরূপে কিয়দ্দিবস গত হইল। জমীদার মহাশয় মধ্যে মধ্যে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন, “কৈ ডাক্তার! এখন পর্য্যন্ত গবর্ণমেন্ট হইতে আর কোন সংবাদ আসিল না, আর কত দিবস এরূপ কষ্টভোগ করিতে হইবে?” আমি বলিলাম, “মহাশয়! গবর্ণমেন্টের কার্য্যের গতিকই এইরূপ, কোন কার্য্য সহজে ও শীঘ্র সম্পন্ন হয় না। যাহা হউক, আমি অদ্যই নিজে যাইয়া অনুসন্ধান লইব। সেই আফিসে আমার একজন বন্ধু কর্ম্ম করেন, তাঁহার নিকট সমস্ত সংবাদ পাইব।” এই বলিয়া সে দিবস চলিয়া আসিলাম।