পাতা:ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

লেখকের বক্তব্য।

৮৭


দিলেন। এবং এই বিষয় সম্বন্ধে গবর্ণমেন্টে রিপোর্ট করাও হইল। ছোট লাট দেখিলেন, যখন একজনকে জেল হইতে মুক্তিপ্রদান করিলে সে চিরদিবসের নিমিত্ত সুখে কালাতিবাহিত করিতে পারিবে, তখন তাহাকে মুক্তিপ্রদান করাই কর্ত্তব্য। পাগল হইয়া চিরদিবস একটী লোকের জীবন যাপনের বিষম কষ্ট দর্শন করা অপেক্ষা, তাঁহাকে অব্যাহতি প্রদান করিলে যদি তাঁহার সেই উৎকট-রোগ আরোগ্য হয়, তাহা হইলে কোন্ সদাশয় ব্যক্তি ক্ষমতা স্বত্ত্বে এরূপ দয়াপ্রকাশ করিতে কুণ্ঠিত হইতে পারেন? লেপ্টেনেন্ট গবর্ণর সাহেব তাহাই করিলেন। ডাক্তারগণের প্রার্থনা-অনুযায়ী তিনি তাহাকে ছাড়িয়া দিবার আদেশ প্রদান করিলেন। ডাক্তার বাবু এইস্থান হইতে বহির্গত হইয়া, আপনার আলয়-অভিমুখে প্রস্থান করিলেন। শুনিয়াছি, এখন তাহার সমস্ত পাগলামী ভাল হইয়া গিয়াছে, তিনি পুনরায় তাহার পূর্ব্ব অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছেন।”

 পাগলা হাঁসপাতাল হইতে এই সকল বিষয় অবগত হইয়া বুঝিলাম, কি প্রকারে ডাক্তার বাবু এই কঠিনদণ্ডের হস্ত হইতে নিষ্কৃতিলাভ করিয়াছেন। ভাবিলাম, গবর্ণমেণ্ট ইহাকে অব্যাহতি দিয়া ভালই করিয়াছেন, রাজার কর্ত্তব্যই করিয়াছেন। কিন্তু পরিশেষে আমি যাহা অবগত হইতে পারিয়াছিলাম,তাহাতে মনে অতিশয় কষ্ট হইয়াছিল। রাজা প্রজার সম্মুখে বিশেষরূপে বঞ্চিত হইলে সহৃদয় প্রজার মনে যেরূপ কষ্ট হয়, এ সেইরূপ কষ্ট। পরে বুঝিয়াছিলাম, জেল হইতে খালাস হওয়াও ডাক্তার বাবুর জুয়াচুরি কাণ্ডের অপর আর এক অধ্যায়।