পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৯

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১১৭
ল্যাবরেটরি

 “সেটা ভালো খবর। মা বলেছেন, কিছুতে আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে দেবেন না। তা হলে আমি আত্মহত্যা করব।”

 “কোনো বাধা আমি মানব না, আমাদের বিয়ে হবেই হবে।”

 কাঁধের উপর মাথা রেখে নীলা বললে, “তুমি হয়তো জানো না, তোমাকে কতখানি চাই।”

 নীলার মাথাটা আরো বুকের কাছে টেনে নিয়ে রেবতী বললে, “তোমাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে এমন কোনো শক্তি নেই।”

 “জাত?”

 “ভাসিয়ে দেব জাত।”

 “তা হলে রেজিস্টারের কাছে কালই নোটিস দিতে হবে।”

 “কালই দেব, নিশ্চয় দেব।”

 রেবতী পুরুষের তেজ দেখাতে শুরু করেছে।

 পরিণামটা দ্রুতবেগে ঘনিয়ে আসতে লাগল।

 আইমার পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর আশঙ্কা আসন্ন। যে পর্যন্ত মৃত্যু না হয় সোহিনীকে তিনি কিছুতে ছাড়বেন না। এই সুযোগটাকে দুহাত দিয়ে আঁকড়িয়ে ধ’রে নীলার উন্মত্ত যৌবন আলোড়িত হয়ে উঠেছে।

 পাণ্ডিত্যের চাপে রেবতীর পৌরুষের স্বাদ ফিকে হয়ে গেছে— তাকে নীলার যথেষ্ট পছন্দ নয়। কিন্তু ওকে বিবাহ করা নিরাপদ, বিবাহোত্তর উচ্ছৃঙ্খলতায় বাধা দেবার জোর তার নেই। শুধু তাই নয়। ল্যাবরেটরির সঙ্গে যে লোভের বিষয় জড়ানো আছে তার পরিমাণ প্রভূত। ওর হিতৈষীরা বলে ল্যাবরেটরির ভার নেবার যোগ্যতর পাত্র কোথাও মিলবে না রেবতীর চেয়ে, সোহিনী কিছুতে ওকে হাতছাড়া করবে না, এই হচ্ছে বুদ্ধিমানদের অনুমান।

 এ দিকে সহযোগীদের ধিক্কার শিরোধার্য ক’রে রেবতী জাগানী ক্লাবের অধ্যক্ষতার সংবাদ ঘোষণা করতে দিলে সংবাদপত্রে। নীলা