পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৭

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৫৫
শেষ কথা

কয়ে। সেটাই ওর অভ্যেস হয়ে গেছে। ও যখন চুপ করে থাকে তখনই আমার ঘরটা যেন ছমছম করতে থাকে, আমার মনটাও। ও জানে সে-কথা। আমার ভয় করে পাছে ওকে কেউ ভুল বোঝে।”

 বুড়োর গলা জড়িয়ে ধ’রে অচিরা বললে, “বুঝুক-না দাদু, অত্যন্ত অনিন্দনীয়া হতে চাই নে, সেটা অত্যন্ত আন্‌ইণ্টারেস্টিঙ।”

 অধ্যাপক সগর্বে বলে উঠলেন, “জানেন সেনগুপ্ত, আমার দিদি কিন্তু কথা কইতে জানে, অমন আমি কাউকে দেখি নি।”

 “তুমি আমার মতো কাউকে দেখে নি দাদু, আমিও কাউকে দেখি নি তোমার মতো।”

 আমি বললুম, “আচার্যদেব, যাবার আগে আমাকে কিন্তু একটা কথা দিতে হবে।”

 “আচ্ছা বেশ।”

 “আপনি যতবার আমাকে আপনি বলেন, আমি মনে মনে ততবার জিভ কাটতে থাকি। আমাকে তুমি যদি বলেন, তা হলে সেটাতেই যথার্থ আপনার স্নেহের সম্মান পাব। এ বাড়িতে আমাকে তুমি-শ্রেণীতে তুলে দিতে আপনার নাতনীও সাহায্য করবেন।”

 “সর্বনাশ! আমি সামান্য নাতনী, হঠাৎ অত উঁচুতে নাগাল পাব না, আপনি বড়োলোক। আমি বলি আর-কিছুদিন যাক, যদি ভুলতে পারি আপনার ডিগ্রিধারী রূপ, তা হলে সবই সম্ভব হবে। কিন্তু দাদুর কথা স্বতন্ত্র। এখনই শুরু করো। দাদু, বলো তো, তুমি কাল খেতে এসো, দিদি যদি মাছের ঝোলে নুন বেশি দিয়ে ফেলে, তা হলে ভালোমানুষের মতো সহ্য কোরো, বোলো, বাঃ, কী চমৎকার, পাতে আরো একটু দিতে হবে।”

 অধ্যাপক সস্নেহে আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, “ভাই, আরকিছুকাল আগে যদি আমার দিদিকে দেখতে, তা হলে বুঝতে পারতে, আসলে ও লাজুক। সেইজন্য ও যখন আলাপ করা কর্তব্য মনে