পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৮

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৯৬
তিন সঙ্গী

 “কাল একবার আসবেন এ পাড়াতে ”

 “কেন, কী করতে।”

 “রেবতীর মনে দম দিতে।”

 “আর নিজের মনটা খুইয়ে বসতে।”

 “মন কি আপনার একলারই আছে।”

 “তোমার মনের কিছু বাকি আছে নাকি।”

 “উচ্ছিষ্ট অনেক পড়ে আছে।”

 “তাতে এখনো অনেক বাঁদর নাচানো চলবে।”


তার পরদিনে রেবতী ল্যাবরেটরিতে নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত বিশ মিনিট আগে এসেই উপস্থিত। সোহিনী প্রস্তুত ছিল না, আটপৌরে কাপড়েই তাড়াতাড়ি চলে এল ঘরে। রেবতী বুঝতে পারলে গলদ হয়েছে। বললে, “আমার ঘড়িটা ঠিক চলছে না দেখছি।” সোহিনী সংক্ষেপে বললে, “নিশ্চয়।” এক সময়ে একটু কী শব্দ শুনে রেবতী মনে মনে চমকে উঠে দরজার দিকে তাকালে। সুখন বেহারাটা গ্লাসকেসের চাবি নিয়ে এল ঘরে।

 সোহিনী জিগ্‌গেস করলে, “এক পেয়ালা চা আনিয়ে দেব কি।”

 রেবতী ভাবলে বলা উচিত, হাঁ। বললে, “দোষ কী।”

 ও বেচারার চা অভ্যাস নেই, সর্দির আভাস দিলে বেলপাতাসিদ্ধ গরম জল খেয়ে থাকে। মনে মনে বিশ্বাস ছিল স্বয়ং নীলা আসবে পেয়ালা হাতে।

 সোহিনী জিগ্‌গেসা করলে, “তুমি কি কড়া চা খাও।”

 ও ফস্‌ করে বলে বসল, “হাঁ”

 ভাবলে এ ক্ষেত্রে হাঁ বলাটাই পাকা দস্তুর। এল চা, সেটা কড়া সন্দেহ নেই। কালির মতো রঙ, নিমের মতো তিতে। চা আনলে