পাতা:দুর্গেশনন্দিনী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

অলৌকিক আভরণ

১৮১

 অনেক দিন তিলোত্তমার মুখে হৰ্ষবিকাশ হয় নাই; বিমলার কথা শুনিয়া তিলোত্তমার মুখ আজ হৰ্ষোৎফুল্লচ্ছইল।

 বিমলা দেপিয়া অন্তরে পুলকপূর্ণ হইলেন: বাষ্পগদগদম্বরে কছিলেন, “তবে আমি চলিলাম।”

 তিলোত্তম কিঞ্চিৎ সঙ্কোচের সহিত কঙ্গিলেন, “দেখিতেছি, তুমি ভুর্গের সকল সংবাদ পাইয়াছ, আমাদিশের আত্মীয়বর্গ কোথায়? কে শকেমন আছে বলিয়। যা ও”

 সিমলা দেখিলেন এ বিপদসাগরে ও জগংসিংহ তিলোত্তমান মনোমুধ্যে জাগিতেছেন। বিমল রাজপুত্রের নিষ্ঠুর পত্র পাষ্টয়াছেন, তাহাতে তিলোত্তমার নাম ও নাই; এ কথা তিলোত্তম। শুনিলে কেবল দগ্ধের উপর দগ্ধ হইবেন মাত্র; অতএব সে সকল কথা কিছুমাত্র না বলিয়া উত্তর করিলেন, “জগংসিংহ এই ফুর্গমধেষ্ট আছেন; তিমি শারীরিক কুশলে আছেন।”

 তিলোত্তম, নীরব হইয়। রছিলেন।

 বিমলা চক্ষু মুছিতে মুছিতে তথা হইতে গমন কবিলেন।