পাতা:নবীন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নবীন

রইলো সসঙ্কোচে ছায়ার আড়ালে। ঐ অবগুষ্ঠিতাদের সাহস দাও। বেরিয়ে পড়বার হাওয়া বইলো যে, বকুলগুলো রাশি রাশি ঝরতে বল্চে, যা হয় তো হোক্ গে, আমের মুকুল নির্ভয়ে বলে উঠচে, দিয়ে ফেলবো একবারে শেষ পর্য্যন্ত। যে-পথিক আপনাকে বিলিয়ে দেবার জন্যেই পথে বেরিয়েচে তা’র কাছে আত্মনিবেদনের থালি উপুড় ক’রে দিয়ে তবে তাকে আনতে পারবে নিজের আঙিনায়। কৃপণতা ক’রে সময় বইয়ে দিলে তা চলবে না।

হে মাধবী, দ্বিধা কেন, আসিবে কি ফিরিবে কি,
আঙিনাতে বাহিরিতে মন কেন গেল ঠেকি’।
    বাতাসে লুকায়ে থেকে
    কে-যে তোরে গেছে ডেকে,
পাতায় পাতায় তোরে পত্র সে-যে গেছে লেখি’।
কখন দখিণ হ’তে কে দিল দুয়ার ঠেলি’
চমকি’ উঠিল জাগি’ চামেলি নয়ন মেলি’।
    বকুল পেয়েছে ছাড়া,
    করবী দিয়েছ সাড়া,
শিরীষ শিহরি’ উঠে দূর হ’তে কারে দেখি’।

দেখতে দেখতে ভরসা বেড়ে উঠ্চে, পাবো না তো কি? যখন দেখা দেয় না তখনো যে সাড়া দেয়। যে পথে চলে সেখানে-যে তা’র চলার রঙ লাগে। যে-আড়ালে থাকে তা’র ফাঁক দিয়ে আসে তা’র মালার গন্ধ। দুয়ারে অন্ধকার যদি-বা চুপচাপ থাকে, আঙিনায় হাওয়াতে চলে কানাকানি। পড়তে