পাতা:নবীন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নবীন

২১

তোমারি মতো আমারো উত্তরী
আগুন রঙে দিয়ো রঙীন করি’,
অস্তরবি লাগাক্‌ পরশমণি
প্রাণের মম শেষের সম্বলে॥

 মন থাকে সুপ্ত, তখনো দ্বার থাকে খোলা, সেইখান দিয়ে কার আনাগোনা হয়; উত্তরীয়ের গদ্ধ আসে ঘরের মধ্যে, ভূঁইচাপা ফুলের ছিন্ন পাপড়িগুলি লুটিয়ে থাকে তা'র যাওয়ার পথে; তা’র বীণা থেকে বসন্ত-বাহারের রেশটুকু কুড়িয়ে নেয় মধুকর-গুঞ্জরিত দক্ষিণের হাওয়া; কিন্তু জান্তে পাইনে সে এসেছিলো। জেগে উঠে দেখি তা’র আকাশপারের মালা সে পরিরে গিয়েচে,কিন্তু এ-যে বিরহের মালা।

কখন্‌ দিলে পরায়ে
স্বপনে বরণ মালা, ব্যথার মালা।
প্রভাতে দেখি জেগে
অরুণ মেঘে
বিদায় বাঁশরী বাজে অশ্রু গালা॥
গোপনে এসে গেলে
দেখি নাই আঁখি মেলে।
আঁধারে দুঃখ-ডোরে
বাঁধিল মোরে,
ভূষণ পরালে বিরহ-বেদন-ঢালা॥