পাতা:নবীন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নবীন

কোন্ মাধুরীর মহাশ্বেতা সেই ডালি কোলে নিয়ে ব’সে আছে; ক্ষণে ক্ষণে রাজহংসের ডানার মতো তা’র শুভ্র মেঘের বসনপ্রান্ত আকাশে এলিয়ে পড়চে। আজ ঘুমভাঘা রাতের বাঁশিতে বেহাগের তান লাগ্লো।

নিবিড় অমা-তিমির হ’তে
বাহির হ’লো জোয়ার স্রোতে
 শুক্লরাতে চাঁদের তরণী।
ভরিল ভরা অরূপ ফুলে,
সাজালো ডালা অমরা-কূলে
 আলোর মালা চামেলি-বরণী।
 শুক্লরাতে চাঁদের তরণী॥
তিথির পরে তিথির ঘাটে
আসিছে তরী দোলের নাটে,
 নীরব হাসে স্বপনে ধরণী।
উৎসবের পসরা নিয়ে
পূর্ণিমার কূলেতে কি এ
 ভিড়িল শেষে তন্দ্রাহরণী
 শুক্লরাতে চাঁদের তরণী॥

দোল লেগেচে এবার। পাওয়া আর না-পাওয়ার মাঝখানে দোল। এক প্রান্তে বিরহ, আর প্রান্তে মিলন, স্পর্শ ক’রে ক’রে দুলচে বিশ্বের হৃদয়। পরিপূর্ণ আর অপূর্ণের মাঝখানে এই দোলন। আলোতে ছায়াতে ঠেকতে ঠেকতে রূপ জাগচে—