প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারীর মূল্য ২৬ পারে না। ইহারা মুখস্থ করিবার ক্ষমতাকেই বুদ্ধি বলিয়া মনে করে, এই মুখস্থ করাটাকেই জ্ঞান বলিয়া জানে। এই জ্ঞান ইহাদের অধিকাংশ অবস্থাতেই যে অনুস্বর-বিসর্গকে অতিক্রম করিতে পারে না, তার একটা দৃষ্টান্ত দিতেছি। মহামহোপাধ্যায় স্বগীয় চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার মহাশয় তাহার শ্রীগোপাল মল্লিক ফেলোশিপের দ্বিতীয় লেকচারে নামকরণ-প্রণালীর মধ্যে বলিয়াছেন, “কেহ কেহ বলেন, মেরুতন্ত্রে লণ্ডন নগরের উল্লেখ আছে, অতএব উহা নিতান্ত আধুনিক ; কিন্তু তাহাদের বিবেচনা করা উচিত যে, পুরাণাদিতে অনেক ভবিষ্যদ্ভুক্তি আছে। মেরুতন্ত্রেও ভবিষ্যদ্ভুক্তি স্থলেই লণ্ডন নগরের উল্লেখ আছে। সুতরাং তদ্বারা মেরুতন্ত্রের আধুনিকত্ব প্রতিপন্ন হইতে পারে না । উহা যে ভবিষ্কৃতুক্তি, তাহা দেখাইবার জন্য মেরুতন্ত্র হইতে কিয়দংশ উদ্ধত হইতেছে— পূর্বান্মায়ে নবশতঃ ষড়শীতিং প্রকীর্তিত ফিরিঙ্গি ভাষয়া মন্ত্রা যেষাং সংসাধনাৎ কলে । অধিপামণ্ডলানাঞ্চ সংগ্রামেস্বপরাজিতাঃ । ইংরেজ নবষট্ পঞ্চ লণ্ড,জাশ্চাপিভাবিনঃ ” অথচ, স্বৰ্গীয় অক্ষয় দত্ত মহাশয় ছদ্ম শাস্ত্রকারগণের জুয়াচুরি সপ্রমাণ করিতে মেরুতন্ত্রের এই শ্লোকটাই তাহার ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়ের উপক্রমণিকায় উদ্ধত করিয়া গিয়াছেন । ইহাদের উভয়ের পাণ্ডিত্যই অতি গভীর ছিল, অথচ একজন যে শ্লোকের অস্তিত্বে শ্লাঘা বোধ করিয়াছেন, আর একজন তাহাকেই ঘূণার সহিত বর্জন করিয়াছেন। এ-স্থলে কাহার বিচার সমীচীন, তাহা বুঝিতেও যেমন বিলম্ব হয় না, স্বগীয় মহামহোপাধ্যায় মহাশয়ের মত দেশপ্রসিদ্ধ পণ্ডিতচূড়ামণির মুখে এমন কথা, সংস্কৃত শ্লোকের উপর এতবড় অন্ধবিশ্বাস দেখিয়াও আর আশা-ভরসার স্থান থাকে না। পণ্ডিত মহাশয় আবার নিজেই বলিয়াছেন—মেরুতন্ত্রের প্রামাণ্য সন্দেহ করিবার অন্ত কারণ আছে ; তাহা এই—পারস্য ভাষায় ও ফিরিঙ্গি