প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:নিষ্কৃতি নাটক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R নিষ্কৃতি প্রথম অঙ্ক কানাই। বড়ভায়ের সঙ্গে তর্ক ক’রো না বলে দিচ্ছি, মাকে ব’লে দেব । পটল । ( সিদ্ধেশ্বরীর গলা জড়াইয়া ধরিয়া কঁাদ কাদ স্বরে বলিল ) তুমি সেজদাকে বল না বড় মা, আমি কতক্ষণ ধরে শুয়ে আছি যে— কানাই । ( শাসনের স্বরে ) ফের পটল ! ছেলেদের তর্কাতর্কির মাঝে শৈলজা কখন যে দরজার কাছে ছুধের বাট হাতে করিয়া আসিয় দাড়াইয়াছেন, তাহ কেহ লক্ষ্য কয়ে নাই, শৈলজা বিরক্তভাৰে কছিলেন । শৈলজা । ওরে বাবারে, বাবা—একে দিদির অস্থখ! তার ওপর সৰ ঘাড়ের মত চেচাচ্ছে দেখ না ! ঘরে যেন ডাকাত পড়েছে! শৈলজাকে দেখিয়া সঙ্গে সঙ্গে ঘরের অভূতপূৰ্ব্ব পরিবর্তন দেখা গেল—হরিচরণ ‘আনন্দমঠ বালিশের তলায় লুকাইয় রাখিয় পাঠ্যপুস্তক পড়িতে লাগিল, কানাই চীৎকার করির যে বিস্তীর্ণ জলরাশি ইত্যাদি ভূগোলের শব্দগুলি আওড়াইতে লাগিল । পটল ও বিপিন ভয়ে জড়সড হইয় লেপের মধ্যে মুখ লুকাইল । শৈলজা কহিলেন। শৈলজ । ওরে ও “বিস্তীর্ণ জলরাশি” এতক্ষণ হচ্ছিল কি ? কানাই । ( সভয়ে ) পড়ছিলাম— শৈলজ । পড়ছিলে ? পড়ছিলে না ঝগড়া করছিলে ? কানাই। ( সভয়ে ) আমি নয় মা, বিপিন আর পটল । শৈলজা। কোথায় গেল তারা ? কাউকে দেখছি না যে—এরা সৰ পালাল কোথা দিয়ে ? কানাই। কেউ পালায় নি মা, ওরা সব ঐ লেপের ভেতর ঢুকেছে— শৈলজা" (হাসিয়া) দিদি তোমাকে খেয়ে ফেলে যে ! নিৰ্ব্বিবাদে চুপচাপ মড়ার মত কী ক’রে যে পড়ে থাক, তা তুমিই জান। হাত না