প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:নিষ্কৃতি নাটক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম দৃপ্ত নিষ্কৃতি ● হয় তোমার নাই উঠে, তাই বলে কী একবার ধৰ্ম্মকাতেও পার না ? ( বিপিন ও পটলের গা হইতে লেপ খুলিয়া লইয়া) ওরে—এইসব ছেলেরা বেরো–চল আমার সঙ্গে— সিদ্ধেশ্বরী। ওরা যা কচ্ছে তা কচ্ছে, তা তুইই বা বিরক্ত হচ্ছিস্ কেন? শৈলজ । বিরক্ত হ’বে না, একে রোগের জাল, তার ওপর এই ছেলে দের চীৎকার—একি ভাল লাগে ? - সিদ্ধেশ্বরী। হ্যা আমার ভাল লাগে, তোকে বকৃতেও হবে না আর মারধোরও করতে হবে ন-যা তুই এখান থেকে। লেপের ভেতর ছেলেরা সব হাপিয়ে উঠেছে ! শৈলজা। (হাসিয়া)—আমি কী ওদের শুধু মারধোরই করি দিদি । সিদ্ধেশ্বরী। করি বৈ কি শৈল, বড় করি ; তোকে দেখলে ওদের মুখ ধেন কালীবর্ণ হয়ে যায়। আচ্ছ যা না বাপু ওদের স্বমুখ থেকে, ওরা বেরুক । শৈলজা । আমি ওদের নিয়ে তবে যাব। অমন করে দিবারাত্রি জালাতন কবৃলে তোমার অস্থখ সারবে না। সিদ্ধেশ্বরী। ছেলেপুলে কাছে থাকূলে অস্থখ যদি না সারে, ত না লাক্লক ; আমি অমন খালি বিছানায় শুতে পারি না । শৈলজা । বেশ ত ! খালি বিছানায় শুতে যদি তোমার কষ্ট হয়, পটল সবচেয়ে শান্ত, সেই শুধু তোমার কাছে শোবে, আর সকলকে আজ থেকে আমার কাছে শুতে হবে। এখন তুমি ওঠে। দেখি, এই দুধটুকু খেয়ে নাও। ( সহসা হরির প্রতি ) হ্যারে হরি ? সাড়ে ছটার সময় তোর মাকে ওষুধ দিয়েছিলি ত ? হরিচরণ। (আমৃত আমৃতা করিয়া) ওষুধ কই ? তা ত— শৈলজা। বুঝতে পেরেছি ; মনে ছিল না?