পাতা:নেপালে বঙ্গনারী - হেমলতা দেবী.pdf/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৮
নেপালে বঙ্গনারী।

রাজ্যের একতৃতীয়াংশ ইংরাজের হস্তগত হইয়াছিল, তথাপি ভীমসেনের সুযোগ্য শাসনে এবং চেষ্টায় নেপালের বিবিধ উন্নতি সাধিত হয়। (১) সৈন্যসংখ্যাবৃদ্ধি, (২) ধনবৃদ্ধি। ইতিপূর্ব্বে ব্রাহ্মণদিগের বিস্তর ব্রহ্মোত্তর জমি ছিল এবং অসংখ্য দেবমন্দিরের বিস্তর ভূসম্পত্তিও ছিল। ১৮১৪ সালের যুদ্ধের পূর্ব্বে তিনি সমুদায় পণ্ডিত ব্রাহ্মণদিগকে সমবেত কবিয়া দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ভূমি দান করিতে অনুরোধ করেন। অনেকে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্পত্তি দান করেন। কিন্তু ভীমসেন অধিকাংশ ব্যক্তিকে স্বীয় স্বীয় অংশ দিতে বাধ্য করেন। দেবমনিরের ভূসম্পত্তিও সৈন্যরক্ষার জন্য গ্রহণ করা হইল। এই প্রকারে রাজকোষে বিস্তর অর্থাগম হইল। এবং রাজ্যে শান্তি থাকাতে ব্যবসার উন্নতির জন্য ধনাগম হইতে লাগিল। ভীমসেন থাপার হস্তে নেপালের সৈনিকবল এবং অর্থবল বিলক্ষণ বৃদ্ধি পাইয়াছিল। তিনি সৈন্যগণকে সর্ব্বদাই কৃত্রিম যুদ্ধ এবং গোলা বারুদ বন্দুক প্রভৃতির নির্ম্মাণে নিযুক্ত রাখিতেন। সৈন্যগণের হৃদয়ে ভীমসেনের অপ্রতিহত প্রভাব ছিল। মহারাণী ত্রিপুরাসুন্দরী যতদিন বাঁচিয়াছিলেন ভীমসেন থাপার প্রতাপ ততদিন অপ্রতিহত ছিল। ১৮৩২ খৃষ্টাব্দে তাঁহার মৃত্যুর পর ভীমসেনের ভাগ্যাকাশ অন্ধকারময় হইয়া আসিল। মহারাণী ত্রিপুরাসুন্দরী অতি যোগ্যতার সহিত নেপালের রাজকার্য্য নির্ব্বাহ করিতেন। ভীমসেনের ভ্রাতা রণবীর সিংহ থাপা ভীমসেনের প্রতি অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করিতেন। তিনি সেই সময় প্রধান সেনাপতি ছিলেন।