পাতা:নেপালে বঙ্গনারী - হেমলতা দেবী.pdf/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নেপালের প্রধান তীর্থ পশুপতিনাথ।

৩১

স্বয়ম্ভুজ্যোতিকে আচ্ছাদন করিয়া তদুপরি মন্দির নির্ম্মাণ করেন। কালে সেই স্বয়ম্ভুর মন্দির ধূলিসাৎ হয়, এবং স্বয়ম্ভুজ্যোতি ভগ্নাবশেষের ভিতর প্রোথিত হন। সকল চিহ্ন কালে বিলুপ্ত হইল। একদা এক গাভী নিত্য নির্জ্জণে বনের মধ্যে তথায় আসিয়া দুগ্ধদ্বারা সেচন করিতে থাকে। একদিন গোপালক পশ্চাৎ পশ্চাৎ আসিয়া গোপনে সমুদয় ব্যাপার দর্শণ করিল এবং কৌতুহল পরবশ হইয়া সে স্থান খনন করিতে আরম্ভ করে। এবং খনন করিতে করিতে সহসা স্বয়ম্ভুজ্যোতি প্রকাশিত হইয়া তাহাকে ভস্মসাৎ করিয়া ফেলিলেন।

 নীমুনি (যাহার নাম হইতে নেপাল নামের উদ্ভব) এই গোপালকের পুত্রকে রাজা করিলেন। এবং ইহারই রাজত্ব কালে পশুপতিনাথের পুনঃ প্রতিষ্টা হয়। পূরাকালে সেই স্বয়ম্ভু বর্ত্তমান কালে এই পশুপতিনাথ। কিন্তু এখনও কাটমণ্ডু সহরের অদূরে স্বয়ম্ভুনাথের (স্বিম্ভুনাথের) প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ মন্দির দেখিতে পাওয়া যায়।

 বর্ত্তমান সময়ে নেপালে প্রায় ২৭৩৩টী দেব মন্দির আছে; তন্মধ্যে পশুপতিনাথের মন্দির সর্ব্ব প্রধান। নেপালের উপত্যকায় কাটমণ্ডু সহরের প্রায় তিন মাইল উত্তরপূর্ব্বে বাঘমতি নদীর পশ্চিমে পশুপতিনাথের প্রধান মন্দির অবস্থিত। বর্ত্তমান মন্দিরটী কতদিন নির্ম্মিত হইয়াছে তাহা নিশ্চিত বলা যায় না। তবে বৎসরের হিসাব না করিয়া শতাব্দীর হিসাব করিতে হয়। ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্ম্মের অবনতির সঙ্গে সঙ্গে উক্ত ধর্ম্ম নেপালেও