প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:পণ্ডিতমশাই-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একাদশ পরিচ্ছেদ - ৭৯ চিকিৎসকের মর্য্যাদা কিছুই গ্রাহ করিল না, রাত্রি ভোর না হইতেই গোপাল ডাক্তারের বিশ্ব-বিশ্রত হাত-যশ খারাপ করিয়া বাপের কাছে চলিয়া গেল । . মৃতপুত্র ক্রোড়ে করিয়া সদ্য-বিধবা জননীর মৰ্ম্মান্তিক বিলাপে বৃন্দাবনের বুধের ভিতরটা ছিড়িয়া যাইতে লাগিল । তাছার নিজের ছেলে আছে, সে আর সহ করিতে না পারিয়া ঘরে পলাইয়া আসিয়া চরণকে প্রাণপণে বুকে চাপিয়া কাদিতে লাগিল। নিজের অন্তরের মধ্যে চাহিয়া সহস্রবার মনে মনে বলিল, মানুষের দোষের শাস্তি আর যা ইচ্ছে হয় দিয়ে ভগবান, শুধু এই শাস্তি দিয়ে না—জানি না, এ প্রার্থনা জগদীশ্বর শুনিতে পাইলেন কি না, কিন্তু নিজে আজ সে নি:সংশয়ে অনুভব করিল, এ আঘাত সহ করিবার শক্তি আর ফাঁহারই থাক, তাহার নাই। ইহার পর দিন দুই-তিন নিৰ্ব্বিঘ্ৰে কাটিল, কিন্তু তৃতীয় দিবসে শোনা গেল, তাছাদের প্রতিবেশী রসিক ময়রার স্ত্রী ওলাউঠায় মর মর হইয়াছে। মা দেখিতে গিয়াছিলেন, বেলা দশটার সময় তিনি চোখ মুছিতে মুছিতে ফিরিয়া আসিলেন এবং ঘন্টা-থানেক পরে আর্ল্ড ক্রদনের রোলে বুঝিতে পারা গেল, রসিকের স্ত্রী ছোট ছোট চার-পাচটি ছলে-মেয়ে রাখিয়া ইহলোক ত্যাগ করিয়া প্রস্থান করিল। এইবার গ্রামে মহামারি সুরু হইয়া গেল। যাহার পলাইবার স্থান ছিল, সে পলাইল ; অধিকাংশেরই ছিল না, তাহারা ভাত শুষ্ক মুখে সাহস টানিয়া । আনিয়া কহিল, অন্ন-জল ফুরাইলেই ধাইতে হইবে, পলাইয়া কি করিব ? বৃন্দাবনের বাড়ির স্বমুখ দিয়াই গ্রামের বড়ু পথ, তথায় যখন-তখন ভয়ঙ্কর হরিধ্বনিতে ক্রমাগতই জানা যাইতে লাগিল, ইহাদের অনেকেরই অম্ন-জল প্রতিনিয়তই নিঃশেষ হইতেছে। আশ-পাশের গ্রামেও দুই-একটা মৃত্যু শোনা যাইতে লাগিল বটে,