পাতা:পাহাড়ে মেয়ে - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পাহাড়ে মেয়ে।
২১

করিয়া উঠিতে পারিলেন না। এদিকে ক্রমে অপত্য-স্নেহ আসিয়া তাঁহার হৃদয় অধিকার করিতে লাগিল।

 “এই ঘটনার দুই চারিদিবস পরেই আমি জানতে পারিলাম যে, আমার পিতামাতা আমার সমস্ত ব্যাপার স্বচক্ষে দেখিতে পাইয়াছেন। আরও বুঝিতে পারিলাম, আমার পিতার উদ্দেশ্য ভাল নহে; সুযোগ পাইলে, তিনি আমাদিগের উভয়ের প্রাণ নষ্ট করিতে কুণ্ঠিত হইবেন না। তখন মনে বড় ভয় হইল, প্রাণে মায়া জন্মিল, অথচ সুখের চরমসীমা দেখিতে ইচ্ছা হইল। তখন মনে মনে আর কোন উপায় স্থির করিতে না পারিয়া, সময়মত সকল কথা ‘তাহাকে’ কহিলাম। তখন ‘তিনিও’ তাঁহার দুষ্কার্য্যের নিমিত্ত তাঁহার পিতা মাতা, ভ্রাতা ভগিনী ও আত্মীয়-স্বজনের জ্বালায় জ্বালাতন, প্রতিবেশীদিগের কঠোর অত্যাচারে প্রপীড়িত; সুতরাং ‘তিনিও’ অপর আর কোন উপায় স্থির করিয়া উঠিতে পারলেন না। অগত্যা উভয়ে পরামর্শ করিয়া যাহা কিছু সংগ্রহ করিতে পারিলাম, তাহা লইয়া, পিতা, মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামের মায়া পরিত্যাগ করিয়া, একদিবস রজনীতে উভয়েই গ্রাম হইতে বহির্গত হইলাম, ও ক্রমাগত সমস্ত রাত্রি চলিয়া অতি প্রত্যুষে একটী রেলওয়ে ষ্টেশনে গিয়া উপস্থিত হইলাম।

 “হায়! আমি প্রথমে বুঝিতে পারিয়াছিলাম না বলিয়াই, আমি আমার অমূল্য সতীত্বরত্ন হারাইয়াছিলাম! এবং পরিশেষেও বুঝিতে না পারিয়া, সামান্য প্রাণের মায়ায় মুগ্ধ হইয়া অকিঞ্চিৎকর সুখে মন মজাইয়া আত্মীয়-স্বজন ও স্বদেশ পর্য্যন্ত পরিত্যাগ করিয়াছিলাম। আমার দেশ পরিত্যাগ করিবার পূর্ব্বেই যদি আমার পাপের উপযুক্ত দণ্ড গ্রহণ করিতাম, পিতামাতা বা গ্রামের অপর