পাতা:পাহাড়ে মেয়ে - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পাহাড়ে মেয়ে।
৩৩

এবং যে সে ব্যক্তি আসিয়া আমার বিছানায় বসিতেও পারে না; তথাপি আমার পসারের কিছুমাত্র ক্ষতি না হইয়া, ক্রমেই বৃদ্ধি হইতে লাগিল।

 “এইরূপে প্রায় দশ পনর বৎসর অতীত হইয়া গেল; যৌবন জোয়ারে ভরা নদীর উপর সুখের ঢেউ বহিতে লাগিল। মনে করিলাম, পূর্ণ জোয়ারে এইরূপ চিরকাল সাঁতার দিব, সুখের তরঙ্গে এইরূপ হেলিতে দুলিতে জীবন-নদী পার হইব।

 “যখন আমার জীবনে এইরূপ সুখের তরঙ্গ উঠিতেছে, সেই সময় কালীবাবু নামক একটী বাবুর সহিত আমার বড়ই প্রণয় জন্মিয়াছিল। কালীবাবু বড় লোক ছিলেন না, গরিবের ছেলে, সামান্য দালালী করিয়া আপনার জীবিকা নির্ব্বাহ করিতেন; কিন্তু দেখিতে অতি সুপুরুষ ছিলেন। একদিবস একটি বাবুর সহিত তিনি সর্ব্বপ্রথম আমার বাড়িতে আসিয়াছিলেন, আমিও সেইদিবস তাঁহাকে প্রথম দেখিয়াছিলাম; কিন্তু তাঁহাকে যে কি ক্ষণে দেখিয়াছিলাম, তাহা বলিতে পারি না। সেই প্রথম দর্শনই আমার সর্ব্বনাশ করিয়াছিল; সেই দিবস হইতেই কালীবাবুর যে ছায়া আমার হৃদয়পটে অঙ্কিত হইয়াছিল, সে ছায়া আর কখনও আমার হৃদয় হইতে অন্তর্হিত হইল না; বরং ক্রমেই উহা আমার হৃদয়ের স্তরে স্তরে প্রবেশলাভ করিল? ক্রমে কালীবাবুর উপর আমার এরূপ হইয়া উঠিল যে, এক মুহূর্ত্তের নিমিত্ত আমি তাঁহাকে আমার নয়নের অন্তরাল করিতে পারিতাম না। অতি অল্প সময়ের নিমিত্তও তিনি কোন স্থানে গমন করিলে, আমার হৃদয় ব্যাকুল হইয়া পড়িত, মন অস্থির হইত; যতক্ষণ তিনি প্রত্যাবর্তন না করিতেন, ততক্ষণ কোনক্রমেই সুস্থ হইতে