পাতা:পৃথিবীর ইতিহাস - প্রথম খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী).pdf/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আর্য্য-জাতি । ९* সহস্ৰাধিক বৎসর পূৰ্ব্বে শৈত্যাধিক্যে উত্তর-মেরু-বাসের অযোগ্য হইয়াছিল। সেই সময়, আট সহস্ৰ হইতে পাচ সহস্ৰ পূৰ্ব্ব-পৃষ্টাব্দের মধ্যে, আর্য্যগণ উত্তর মেরু পরিত্যাগ করিয়। বিভিন্ন স্থানে গমন করেন।” তিলকের মতে,—“বৈদিক মন্ত্র-সমূহ খৃষ্টজন্মের সাড়ে চারি হাজার বৎসরের অধিক পূৰ্ব্বে বিরচিত হয় নাই ।“ এই সকল কথা বলিয়া, তিনি প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা পাইয়াছেন,–“বৈদিক মস্ত্রে মেরু-প্রদেশের যে বর্ণনাভাস পাওয়া যায়, তাহ। আৰ্য্যগণের পূৰ্ব্ব-স্মৃতির নিদর্শন।" বলা বাহুল্য, তিলক আর্য্যগণের মেরু-প্রদেশ পরিত্যাগের যে কাল-পরিমাণ নির্দেশ করিয়াছেন, তাহ প্রধানতঃ মার্কিণের ও ইউরোপের কয়েক জন পাশ্চাত্য-পণ্ডিতের মতের প্রতিধ্বনি মাত্র । ৬ কিন্তু সেই সকল মতকে ভিত্তিস্বরূপ গ্রহণ করিয়া, বৈদিক-মন্ত্রের কালনির্দেশ করা এবং আর্য্যগণের উত্তর-মেরু-বাসের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া,—কতদূর যুক্তিযুক্ত হইয়াছে, সামান্ত আলোচনাতেই তাহা বুঝিতে পারা DB S BBBSBBBBB BBBB BBBB KD BBSBBS BB BBBS BBBB BBBBB মেরুপ্রদেশ-বাসের পূর্ব-স্মৃতি বিজড়িত রহিয়াছে বুঝিতে হইবে,—ইহা বড়ই অস্তৃত সিদ্ধান্ত ! স্বয়ং তিলকের সিদ্ধান্তেই দেখা যায়,-মেরু-প্রদেশ ত্যাগের অনুন সাড়ে চারি হাজার বৎসর পরে বৈদিক মুক্ত বিরচিত হইয়াছিল । তাহাই যদি হয়, সাড়ে চারি হাজারু বৎসর পরে পূৰ্ব্ব-স্মৃতি কিরূপে প্রস্ফুটিত হইতে পারে ? যাহারা উত্তর-মেরু পরিত্যাগ করিয়া জাসিয়াছিলেন, তাহারা কি সাড়ে চারি হাজার বৎসর পরেও জীবিত ছিলেন যে, সেই স্মৃতি হৃদয়ে এতকাল পোষণ করিয়া রাখিয় পরিশেষে তাহার অভিব্যক্তি করিলেন ? উত্তর-মেরু ত্যাগের ও বেদ-রচনার মধ্যবর্তী যে সুদীর্ঘ সাড়ে চারি হাজার বৎসর অতীত হইল, সেই সময়ে তাহারা যে নানারূপ কষ্ট সহ করিয়া নানাদেশে মুরিয়া বেড়াইলেন – তাহার কোনও নিদর্শন রহিল না ; অথচ, য’ত কিছু নিদর্শন রহিল—তৎপূর্ব কালের ! ইহ। বিচিত্র নহে কি ? সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধি অনুসারেই যদি সকল কথা মানিয়া লইতে হয়, তাহ। হইলে এ সকল সংশয়-প্রশ্নে কখনও উপেক্ষ করা যায় না । এখনও দেখিতে পাওয়া যায়, দক্ষিণাত্যের কতকগুলি বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ আপনাদিগকে ঋগ্বেদীয় ঋষিগণের বংশধর বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকেন। কিন্তু তাহার কেহই নির্দেশ করিয়া দেখাইতে পারেন না— উহাদের পূর্ব-বাপ কোথায় ছিল ? এই ভারতবর্ষেরই—আর্যাবর্তের কোনও এক নির্দিষ্ট স্থান হইতে দাক্ষিণাত্যে গমন করিয়া, কয় দিনের মধ্যেই তাহার পূৰ্ব্ব-স্মৃতি বিস্কৃত হইয়া গেলেন ;– আর সাড়ে চারি হাজার বৎসর পরেও সেই সুদূর উত্তর-মেরু-প্রদেশের পুর্বস্থতি স্মরণ রহিল –ইহা বড়ই আশ্চৰ্য্য বলিয়া মনে হয় না কি ? ভারতবর্ষের এক স্থানের সহিত অস্ত স্থানের সম্বন্ধ-সংস্রব কখনই বিছিন্ন হয় নাই ; সকল প্রদেশে সকলেরই গতিবিধি সৰ্ব্বথা অক্ষুণ্ণ আছে। এ অবস্থায়, ভারতবর্ষের অধিবাসী

  • আমেরিকার বোষ্ট্রন-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ডাক্তার ওয়ারেণ, উত্তর-মেরু সম্বন্ধে যে গ্রন্থ রচনা করেন, তাহা হইতেই প্রথমে তিলকের মনে ঐ চিস্তার উদয় হয় । তাহার পর মিঃ জিলবার্ট, মিঃ উইঞ্চেল, অধ্যাপক স্পেন্সার প্রভৃতি মাকণ পণ্ডিতগণের এবং অধ্যাপক গিকি, মিঃ মালার্ড রিড (ইংলণ্ডে ) মন য়াট ঞ্জেরাফ { নরওয়ে ) প্রভূতির যত আলোচনা করিয়াও তিনি ঐ সিদ্ধান্তে উপনীত হন । ।