পাতা:পৃথিবীর ইতিহাস - প্রথম খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী).pdf/৩৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


IA8 ভারতবর্ষ। প্রভৃতির নামকরণ হইয়াছিল। অঙ্গের বংশে রোমপাদ-নামে এক রাজা জন্মগ্রহণ করেন। ইস্থার সম্বন্ধে পুরাণে বহু মতান্তর দৃষ্ট হয়। বিষ্ণু-পুরাণে লিখিত আছে,—অঙ্গের রক্ষপ্রপৌত্র চিত্ররথের দশরথ নামে এক পুত্র ছিলেন। তাহার অপর নাম—রোমপাদ । রোমপাদের অপুত্রঞ্চ-নিবন্ধন স্বর্য-বংশীয় অঙ্গ-পুত্র দশরথ স্বীয় কঙ্গ শাস্তাকে তাহার কন্যারূপে প্রদান করিয়ছিলেন। আবার ভাগবতে আছে—চিত্ররথের সন্তান হয় নাই ; চিত্ররধই রোমপাদ নামে বিখ্যাত ছিলেন। র্ত্যহার সখ দশরথ র্তাহাকে শান্ত নায়ী কন্যা দান করেন। হরিণী-তনয়শ্বব্যশৃঙ্গ সেই কঙ্গর পানিগ্রহণ করিয়াছিলেন। ভগবতের মতে,—এই রোমপদ স্নাঙ্গার রাজত্বকালেই অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ হইয়াছিল ; এবং বারবনিতাগণের প্রলোভদে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির আগমনে, সে ছুর্ভিক্ষ নিবারিত হয়। এই বংশের অধিরথ রাজার পুত্রের নাম-কর্ণ। কর্ণ র্ত্যুহার ঔরসজাত পুত্র নহেন ;--পালক-পুত্র। পৃথার (কুন্তীর) অবি. বাহিত অবস্থায় সুৰ্য্যের ঔরসে কর্ণের উৎপত্তি হইয়াছিল। লোকাপবাদাশঙ্কায়, কাষ্ঠপিঙ্গর মধ্যে জীবদ্ধ করিয়া, কুন্তী সেই পুত্রকে পরিত্যাগ করেন। অধিরথ সেই পরিত্যক্ত পুত্র প্রাপ্ত হন, এবং তাহাকে আপনার পুত্র-কুপে পালন করেন। কর্ণ-বীর বলিয়। প্রসিদ্ধ। কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধে তিনি কুরুপক্ষে সেনাপতির পদ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন । এই কর্ণ ই দাতাকর্ণ নামে বিখ্যাত। দুৰ্য্যোধনের পক্ষ-গ্রহণে দিগ্বিজয়ে বহির্গত হইয়। বহু সভ্য ও অসভ্য জাতিকে জয় করিয়ী কর্ণ যখন প্রত্যাবৃত্ত হন ; তাহার অল্প দিন পরেই দুর্য্যোধন একটি বৈঞ্চব-ঘঙ্গের অকুষ্ঠান করিয়াছিলেন । সেই যজ্ঞোপলক্ষে কর্ণ প্রতিজ্ঞ করেন,—“যত দিন আমি অর্জুনকে বধ করিতে না পরিব, তত দিন আমার নিকট যে যাহা প্রার্থনা করিবে আমি তাহাই প্রদান করিব।” এই সময় ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণ, বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করিয়া, কর্ণের দাতুত্ব-শক্তির পরীক্ষা করিতে আসেন। সে পরীক্ষা-ভীষণ পরীক্ষা! বুদ্ধ ব্রাহ্মণ কর্ণের একমাত্র পুত্র বৃষকেতুর মাংস ভক্ষণ করিতে চাহেন। কর্ণের স্ত্রী পদ্মাবতী ও কর্ণ উভয়ে স্বহস্তে পুত্রের খুণ্ড ছেদন করিখেন এবং পরাবতী স্বয়ং সেই মাংস রন্ধন করিয়া দিবেন-বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ এইরূপ প্রার্থনা করিয়ছিলেন। কর্ণ ও পরাবতী তাহতেই সক্ষত হন। অতিথি-সংকারে প্রাণ সমর্পণ করিতে পারিব ভাবিয়া, পুল্ল বৃষকেতুও আপনাকে ধন্ত বলিয়। মনে করেন। অতঃপর পিতা-মাত উতরে মিলিয়া-পুত্র কৃষকেতুকে ছেদন করিয়া, অতিথি-সেবার জন্য সেই মাংস রন্ধন করির গে। কর্ণ ও পরবর্তী উভয়েই এই বিষম পরীক্ষার উত্তীর্ণ হইলে, ব্রাহ্মণবেশী ভগবান, মৃতসঙ্গীবনী বিদ্যা-প্রভাবে তাহাদের মৃতপূর্বে পুনৰ্জ্জীবন দান করেন। এই অলৌকিক দান-ব্যাপারে, কর্ণ দাতাকৰ্ণ নাম প্রসিদ্ধ হন । .