পাতা:পৃথিবীর ইতিহাস - প্রথম খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী).pdf/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেদ-চতুষ্টয় । $6 উপাসনা করিতেছেন । আরও দেখিতে পাই—হিন্দু যাগ-যজ্ঞ করিতেছেন, হিন্দু বলি-প্রদান করিতেছেন, হিন্দু যজ্ঞাহুতি কাৰ্য্যে ব্ৰতী আছেন। এক দিকে হিন্দুর—এই ভাব ! অন্যদিকে আবার দেখিতে পাই,--হিন্দুর ঈশ্বর-অবাঙ্কনসোগোচর ; হিন্দুর ঈশ্বর-অনাদি, অনন্ত ; হিন্দুর ঈশ্বর-চিন্তার অতীত, জ্ঞানের অতীত, ধারণার অতীত । ফলতঃ, হিন্দু কখনও সাকাররূপে নাম-মুক্তি কল্পনা করিয়া ঈশ্বরের উপাসন করিতেছেন ; আবার কখনও বা নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ বলিয়া তন্ময় হইয়া আছেন । হিন্দু কখনও ইহ-সংসারেই তাহার স্বরূপ-মূৰ্ত্তি প্রত্যক্ষ করিতেছেন ; হিন্দু কখনও অগণ্য অসংখ্য— তেত্রিশ কোটি দেবতার-অগ্নি, বায়ু, বরুণ, ইন্দ্র, শিব, নারায়ণ, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কালী, দুর্গ প্রভৃতির—উপাসনা করিতেছেন ; আবার কখনও বা তিনি একমেবাদ্বিতীয়মৃ বলিয়া নিশ্চিন্ত হইয়া আছেন । এইরূপে নান-শ্রেণীর জন্য নানা পথ নির্দিষ্ট হইয়া আছে । বশিতে গেলে, বুঝিতে গেলে, ইহাই অধিকারিভেদ । যাহার যেরূপ শক্তি, র্যাহার যেরূপ জ্ঞান, র্যাহার যেরূপ ধ্যান-ধারণা, তিনি তদনুরূপ অনুষ্ঠানের অধিকারী। ইহাই হিন্দুর অধিকারিভেদ । বেদে সকল শ্রেণীর সকল হিন্দুর সকল উপাসনার সার-সামগ্ৰী নিহিত আছে । পরবৰ্ত্তি-কালে সংসারে যত কিছু উপাসনা-পদ্ধতি প্রচলিত হইয়াছে, সকলই ৰৈদিক উপসনার অনুকৃতি মাত্র । তাই বেদে দেখিতে পাই,-বৈদিক ঋষিগণ, প্রকৃতির তৃণাদপিতৃণ তুচ্ছ সামগ্ৰী হইতে আরম্ভ করিয়া, মহৎ হইতে মহত্তর মহত্তম পথে আপনাদের লক্ষ্য সঞ্চালন করিয়াছেন । র্তাহারা কখনও নদ-নদীর উপাসন BBBBBS BBBS BBBB BBBBSBBBBB BBB BBB BBBBS BBB BBBB ক্ষিত্যপতেজোমরুদ্ব্যোম পঞ্চভূতের আরাধনায় ব্ৰতী রহিয়াছেন; আবার কখনও বার্তাহার প্রকৃতির যিনি স্বষ্টিকৰ্ত্ত, সকলের ৰিনি আদিভূত, তাহারই অনুধ্যানে ব্যাকুল হইয়া আছেন। দুই একটা বৈদিক মস্ত্রের উল্লেখ করিতেছি ; তাহার মৰ্ম্ম অক্ষুধাবন করিলেও, আর্য্যগণের সেই উপাসনা-পদ্ধতির আভাস পাওয়া যাইতে পারে। ঋগ্বেদের প্রথম স্থক্তের প্রথম শ্লোকের অধুনা-প্রচলিত অর্থ —“যজ্ঞের পুরোহিত অধিষ্ঠাতৃ-দেবতা বহুরত্বপ্রদাতা ঋত্বিক অগ্নিকে আমরা স্তুতি করি। প্রাচীন এবং আধুনিক ঋষিগণ কর্তৃক অগ্নি স্তুত হইয়াছেন ও হইতেছেন । দেবগণকে তিনি যজন-কার্য্যে যজ্ঞস্থলে আহবান করুন।" এইরূপ দ্বিতীয় স্থক্তের বায়ু দেবতার উপাসনায় দেখিতে পাই, মধুচ্ছন্দ ঋষি স্তুতি করিতেছেন,— "হে বায়ু আমাদের আহবান শ্রবণ করুন, আমাদিগের এই সোমরস পান করুন।” অষ্টম স্থক্তে ইন্দ্রের উপাসনায় দেখিতে পাই, সেই ঋষিই আবার প্রার্থনা করিতেছেন—“হে ইন্দ্ৰ ! আমাদিগের সম্ভোগের উপযুক্ত শক্রবিজয়ক্ষম প্রচুর ধন প্রদান করুন । হে ইন্দ্ৰ ! আপনার কর্তৃক রক্ষিত হইয়। আমরা যেন বজের ন্যায় কঠোর অস্ত্র ধারণ করিতে পারি এবং উন্নতশির শক্রকে জয় করিতে সমথ হই ।” এক দিকে যেমন এইরূপ ৰ্যষ্টিভাবের এক এক স্তোত্রে এক এক দেবতার স্তুতি-গান দেখিতে পাই, অন্য দিকে আবার সেইরূপ সমষ্টি-ভাবেও ভগবদারাধনা দেখিতে পাওয়া যায়। প্রথম মণ্ডলেরই উন-নবতি হুক্তের শেষে ঋষি কশ্ব বিশ্বদেবতার স্তোত্রে বলিতেছেন,—“তুমি অদিতি, তুমি আকাশ, ভূমি অণ্ডরীক্ষ,