পাতা:পৃথিবীর ইতিহাস - প্রথম খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী).pdf/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেদ-চতুষ্টয় । 8& গিয়াছেন মাত্র । অধিক বলিব কি, হিন্দুজাতির অন্তভুক্ত বৈষ্ণব-সম্প্রদায় পৰ্য্যন্ত এই হিসাবে স্বতন্ত্র হইয়া পড়িয়াছেন। তার পর, যাহার। ঐ সকল নুতন সম্প্রদায়ের জন্তভূক্ত হইয়া আছেন, র্তাহারাই কি আপনাপন সংস্কার পরিত্যাগ করিতে পারিয়াছেন ? হয় তো কোথাও কোথাও আহারে ব্যবহারে বা লৌকিকতায় তাহাদের এক-জাক্তিত্ব প্রতিপন্ন হইতে পারে ; কিন্তু বিবাহাদি ব্যাপারে, এখনও তাহীদের পরস্পরের মধ্যে জাতিগত সংস্কারের ফল বিশেষ রূপে প্রত্যক্ষীভূত হয় না কি ? সে সংস্কার—আমরা কোথায় না দেখিতে পাই ? এক-জাতি মধ্যে পরিগণিত হইলেও, পূৰ্ব্বে যিনি ব্রাহ্মণাদি উচ্চ-বর্ণের অন্তভুক্ত ছিলেন, তিনি নিঃসঙ্কোচে কখনও চণ্ডালাদি অস্ত্যজ বর্ণের সহিত বিবাহাদি-সম্বন্ধে সম্বন্ধমুক্ত হইতে পারেন কি ? হয় তো তিনি র্তাহার দৃষ্টিতে শিক্ষিতসভা-ভবা কোনও নীচ জাতির সহিত সম্বন্ধ-স্থাপনে কুষ্টিত না হইতে পারেন ; কিন্তু অসভ্য কদাচারী, ব্যক্তির সহিত কখনই তিনি সম্বন্ধ-বন্ধনে আবদ্ধ হইবেন না । আধুনিক বহু সম্প্রদায়ের আচার-ব্যবহার দেখিয়া, অন্ততঃ এই কথাই আমাদের মনে হয় । ফলতঃ, একাকারের পক্ষপাতী হইলেও, সকলেরই মধ্যে জাতিভেদের ফন্তু-প্রবাহ প্রবাহিত রহিয়াছে । কেবল এ দেশে বলিয়া নহে ;–পাশ্চাত্য ইউরোপেও এ ভাবের অসস্তাব নাই। যদিও এদেশের সহিত সে দেশের তুলনা হইতে পারে না এবং সে তুলনা করিতেও চাহি না ; তথাপি মোটামুটি দেখিতে পাই,—এক ধৰ্ম্ম-সম্প্রদায়ের অন্তভুক্ত হইলেও, সেখানকার কোনও অভিজাত ব্যক্তি কখনও কোনও নাচ-বংশীয়ের সহিত সম্বন্ধ-বন্ধনে আবদ্ধ হইতে চাহেন না ; সময় সময়, এক পংক্তিতে ভোজনেও তঁাহাদের আপত্তি দেখা যায়। কি হিন্দু, কি অহিন্দু, কি আর্য্য, কি অনার্য্য, সকল সম্প্রদায়ের মধ্যেই কোন-না-কোন আকারে এই জাতিভেদ-প্রথার বীজ নিহিত আছে । আর সেই BBBSBBBD B DBBB BBS BBD DBBB BBBB BBBS BBBBS BBBS স্বতঃই মনে হয়। তবে, ভারতের সহিত অন্যান্য দেশের যে পার্থক্য দৃষ্ট হয়, তাহার কারণ,- ভারতবর্ষ সৰ্ব্বাবয়বসম্পন্ন সভ্যতা লাভ করিয়াছিল, তাই ভারতীয় হিন্দুগণের জাতিভেদ-প্রথার সর্বাঙ্গীণ পুষ্টি সাধিতৃ হইয়াছিল । জন্মগত অধিকার-ভেদ-আর্যহিন্দুগণের সেই সৰ্ব্বাঙ্গীন সভ্যতারই পরিচায়ক । আমরা প্রধানতঃ দেখিতে পাই—জন্মাগত জাতি-বর্ণানুক্রমে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির উন্মেষ হইয়া থাকে। ব্রাহ্মণাদি উচ্চ-বর্ণের বুদ্ধি-বৃত্তির সহিত নিয়তম বর্ণের বুদ্ধি-বৃত্তির তারতম্য—কে না লক্ষ্য করিয়াছেন ? কৃষকপুত্রের কৃষিকার্য্যে সংস্কার আপনিই সঞ্চিত হয় ; কৰ্ম্মকার, কুম্ভকার, স্বত্রধর প্রভৃতি বৃত্তিজীৰীদিগের সস্তান-সন্ততির উপর বংশানুক্রমিক প্রভাব আপনি আসিয়া পড়ে ; অন্যান্স জাতিবর্ণ-সম্বন্ধেও সেই একই ভাব দেখিতে পাই । ইহাই বংশামুগত বর্ণ-ধৰ্ম্মের ভিত্তি । সেই জন্তই, ধৰ্ম্মম্ভর পরিগ্রহ করিয়াও, মানুষ আপন সংস্কার পরিত্যাগ করিতে পারে না। বিপদে বা প্রলোভনে পতিত হইয়া, মানুষ অনেক সময় ধৰ্ম্মান্তর গ্রহণ করে ; কিন্ত । সৰ্ব্বথ তাহার পূর্বসংস্কার দূর হয় কি ? তাই দেখিতে পাই, মুসলমান-ধৰ্ম্ম অবলম্বন করিয়াও, এ দেশের বহু অধিবাসী আঞ্জি ও হিন্দু-দেব দেখার উপাসনায় যোগ দেয় ।