পাতা:পৃথিবীর ইতিহাস - প্রথম খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী).pdf/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


¢२ ভারতবর্ষ । তাহাতে অলৌকিকত্বের সমাবেশ করে । প্রাচীন জাতির পুরাণ-পরম্পর, কোমতের মতে, সেই প্রথম স্তরের সামগ্রী। দ্বিতীয় ভরে, বস্তুগত শক্তির অনুভূতিতে, মায়ব অলৌকিক কল্পনার কথা ভুলিয়া যায়। তখনকার ইতিহাস—শক্তি-সামর্থের ও বীরত্বের কাহিনীতে পরিপূর্ণ হয়। তৃতীয় স্তরে, মানুষ যখন বুঝিতে পারে—কি কারণে কি ঘটনা সংঘটিত হইল, তখন তাহার ইতিহাস-বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ; প্রকারাস্তরে তাহাই তাহার সভ্যতার ইতিহাস । নেপোলিয়ন বলিতেন,—“ইতিহাস-প্রচলিত গল্প মাত্র " কিন্তু ইমারসান বলেন,—“যিনি অসংখ্য লোকের শ্রদ্ধা ও ভক্তি আকর্ষণ করিয়া, তাহাদের আদর্শ বা মূৰ্ত্তিরূপে বিরাজমান, তাহার চরিত্র-কথা যাহাতে বিরত আছে—তাহাই ইতিহাস । ইতিহাসের ভিত্তি-ব্যক্তি-বিশেষের জীবনী । সে হিসাবে, এক সময়ের ইউরোপকে বা ফ্রান্সকে ‘নেপোলিয়ন সংজ্ঞা প্রদান করিলেও করা যাইতে পারে ; যেহেতু, তৎকালে জনসাধারণের শক্তি ভঁাহাতে কেন্দ্রীভূত হইয় ছিল ।” আমরা কিন্তু ইতিহাসকে অার এক নুতন সামগ্ৰী বলিয়। মনে করি। আমরা বলি,-যাহ লোকশিক্ষার অমুকুল, অর্থাৎ যদ্বারা মানুষ আপনার জীবনগতি নির্ণয় করিয়া লইতে পারে, তাহাই ইতিহাস। ইতিহাসে অতীতের উজ্জ্বল চিত্র প্রতিফলিত দেখি ; ইতিহাসে বৰ্ত্তমানের ভাব-পরম্পর বিশদীকৃত হয় ; ইতিহাসে ভবিষ্যতের গন্তব্য-পথ প্রশস্ত করিয়া দেয় । অতীত ঘটনার ফলাফল দর্শনে, বর্তমানকে কিরূপভাবে আয়ত্ত করিতে পারিলে, ভবিষ্যতে শুফল লাভ হয়,--ইতিহাস তাহাই নির্দেশ করে। এই জন্যই ইতিহাস - কখনও দর্শন, কখনও বা বিজ্ঞান নামে অভিহিত হইয়া থাকে । বেদাদি শাস্ত্রগ্রন্থনিচয়-তাই জাৰ্য্য-হিন্দুগণের সর্বাবয়ব-সম্পন্ন ইতিহাস । জীবনগতি মিৰ্দ্ধারণে মন্থয্যের যাহ। কিছু DBBBBS B BBB BB BSBBB BBBBB BBBS BBB BSBB BBBBBS BD দৃষ্টান্ত দ্বারা তাহাই নির্ণয় করিয়া দিয়াছেন। আধুনিক ইতিহাসে সদসৎ পাপ-পুণ্য উভয় কৰ্ম্মেরই প্রাধান্য-প্রতিপত্তি দেখিতে পাই । কিন্তু শাস্ত্র, লোক-শিক্ষার উপযোগিতা প্রতিপাদনের উদেখে, অসতের নূ্যনত এবং সতের প্রাধান্ত, অধৰ্ম্মের পরাজয় এবং ধৰ্ম্মের জয়—এই চিত্র হৃদয়ে হৃদয়ে প্রতিফলিত করিবার জন্য, তদুপযোগী উপাদানসমূহ সংগ্ৰহ করিয়া লোক-লোচনের সমক্ষে স্থাপন করিয়াছেন। আধুনিক ইতিহাসে এবং শাস্ত্ৰ-নিহিত ইতিহাসে ইহাই পার্থক্য। রাঙ্গ। কিরূপ প্রঙ্গাপালক হওয়া প্রয়োজন, তাহার কিরূপ ত্যাগশীলতা-আত্মোৎসগ আবগুক,—ঐরামচন্দ্র, হরিশ্চন্দ্র, দাতাকৰ্ণ,যুধিষ্ঠির প্রভৃতির শত শত চিত্রে শাস্ত্র সে শিক্ষা প্রদান করিয়াছেন। সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী প্রভৃতির পতি-ভক্তির আদর্শে সংসার অনুপ্রাণিত হউক ; লক্ষ্মণ, ভরত, শক্রয়, অৰ্জ্জুন প্রভৃতির ভ্রাতৃপ্রেম দেখিয়া জগৎ সৌভ্রাত্র শিক্ষা করুক ; পিতৃভক্তি, স্বজন-প্রতি, আত্মত্যাগ, বীরত্ব,সত্য-ধৰ্ম্ম প্রকৃতির আদর্শ-চিত্র নয়নে নয়নে প্রতিভাত থাকুক ;–শাস্ত্র তাম্বরূপ উপাদান-সামগ্রীই সংগ্ৰহ করিয়া রাখিয়াছেন। যাহা অনাবগুক, যাহাতে লোক-শিক্ষার কোনও বীজ নিহিত নাই,--শাস্ত্রে তাহা পরিত্যক্ত হইয়াছে। শাস্ত্র-নিহিত ইতিহাসের ইহাই বিশেষত্ব। আরও এক কৰা !—জলোচ্ছাসের প্রবল প্লাবনে নগর-জনপদ ভাসমান