পাতা:পৃথিবীর ইতিহাস - প্রথম খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী).pdf/৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষড়বেদাঙ্গ । १& एजब्र আবার নানা শাখ আছে । শ্রেীত-স্থত্রের শাখার মধ্যে—অখিলায়ন, সাস্থ্যায়ন, মশক, লাট্রায়ন, দ্রাহ্বায়ন, বৌধায়ন, ভারদ্বাজ, আপস্তম্ব, হিরণ্যকেশীন, কাত্যায়ন , । ধৰ্ম্মস্থত্রের শাখার মধ্যে – বাসিষ্ঠ, গৌতম, বৌধায়ন, আপস্তম্ব ; গুহ-সুত্রের শাখার মধ্যে-সাখ্যায়ন, আশ্বলায়ন, পারস্কর এবং গোভিল প্রভূতি উল্লেখযোগ্য । শ্ৰেীত-স্থত্রের আশ্বলায়ন এবং সাস্থ্যায়ন শাখা—ঋগ্বেদের অন্তর্গত ; মশক, লাট্রায়ন এবং দ্রাহ্যয়ন,--সামবেদের অন্তর্গত ; বোধায়ন, ভারদ্বাজ, আপস্তম্ব ও হিরণ্যকেশীন,— কৃষ্ণ-যজুৰ্ব্বেদের অন্তর্গত ; কাত্যায়ন শাখা-শুক্ল-যজুৰ্ব্বেদের অন্তর্গত। আশ্বলায়ন, সুবিখ্যাত শৌনকের শিষ্য ছিলেন । কথিত হয়,-শৌনক এবং অশ্বলায়ন, গুরু শিষ্য একযোগে, ঐতরেয় আরণ্যকের শেষ দুই ভাগ সঙ্কলন করিয়াছিলেন। শৌনক-প্রণীত যোগস্থত্র তাহার প্রিয় শিস্য আশ্বলায়নের নামেই প্রচারিত হয়। কেহ কেহ বলেন-ঋগ্বেদে শৌনক ঋষি গৃৎসমদ নামে পরিচিত ছিলেন । এদিকে আবার জন্মেজয় পরীক্ষিতের যজ্ঞক্ষেত্রেও শৌনকের অাবিৰ্ভাৰ দেখিতে পাই । ইহাতে মনে হয়, শৌনকবংশ বহুকাল হইতেই পাণ্ডিত্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন । শ্রেীত-সূত্রের সাঙ্খায়ন শাখা পশ্চিমে এবং আশ্বলায়ন শাখ পুৰ্ব্ব-প্রদেশে প্রচলিত বলিয়। অনুমিত হয় । সামবেদের অন্তর্গত মশক শ্রেীত-স্থত্রে ভিন্ন ভিন্ন যজ্ঞকৰ্ম্মের মন্ত্র-সমূহ ধারাবাহিকরূপে সজ্জিত আছে, এবং লাট্রায়ন শ্রেীত-সুত্রে ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের উপদেশ-সমূহ নিবদ্ধ হইয়াছে। সামবেদের তান্দ্য বা পঞ্চবিংশ ব্রাহ্মণের সহিত এই দুই স্থত্রের বিশেষ সম্বন্ধ বিদ্যমান। লাট্রায়নের সহিত দ্রাহ্যায়নের পার্থক্য অতি অল্পই দেখিতে পাওয়া যায়। বৌধায়ানাদি কৃষ্ণ-যজুৰ্ব্বেদান্তর্গত শ্রেীত-স্বত্র-চতুষ্টয়ে কৃষ্ণ-যজুৰ্ব্বেদের যজ্ঞাদি প্রণালী বর্ণিত আছে । কাত্যায়ন শ্রেীত-স্বত্র প্রধানতঃ শতপথ-ব্রাহ্মণের অনুসরণকারী। এই স্বত্রের প্রথম অষ্টাদশ কণ্ডিকার (অধ্যায়ের ) সহিত শতপথ ব্রাহ্মণের প্রথম নয় অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সাদৃত - রহিয়াছে। কাত্যায়ন কেবল শ্রেীত-সূত্র-রচয়িত বলিয়া নহেন ; গৃহস্থত্র এবং প্রতিহারস্বত্র রচনায়ও তাহার যথেষ্ট থ্যাতি আছে । ধৰ্ম্মস্থত্রের মধ্যে প্রধান ধৰ্ম্ম স্বত্র ছিল—“মানব ধৰ্ম্ম-স্বত্র" অর্থাৎ মন্থর স্বত্র । প্রাচীন ক’লে সেই স্বত্রই অধিকতর আদরণীয় ছিল। কিন্তু এখন আর তাহ৷ সন্ধান করিয়া পাওয়া যায় না। তবে বাপিষ্ঠ ও গৌতম ধৰ্ম্মস্থত্রের মধ্যে তাহার অনেকাংশ উদ্ধৃত হইয়াছিল এবং সেই সকল অংশ এখনও প্রচলিত আছে । মকু এবং যাজ্ঞবল্ক্য প্রভৃতির সংহিতা-সমূহ, বল বাহুল্য, ধৰ্ম্মস্বত্র হইতেই সমুদ্ভূত হইয়াছিল। পূৰ্ব্বে যে স্বত্র-সমূহ কণ্ঠে কণ্ঠে অধিষ্ঠিত ছিল, পরবৰ্ত্তি-কালে পরিবর্দ্ধিত আকারে তাহাই স্মৃতিরূপে প্রকটিত হয়। বিবাহের সময়, উপনয়নের সময়, শ্রাদ্ধের সময়, যে যজ্ঞ কৰ্ম্মাদি হইয়া থাকে, গৃহস্থত্র অনুসারেই তাহা সম্পন্ন হয়। গৃহস্বত্র আজিও হিন্দুর দৈনন্দিন কৰ্ম্মপরম্পর নির্দেশ করিয়া রাখিয়াছে। শ্রেীত-মুত্র, ধৰ্ম্মস্বত্র, গৃহ-স্বত্র—এই তিন স্বত্র একযোগে কল্প-স্বত্র নামে অভিহিত হইয় থাকে। আপস্তম্বের কল্প-স্বত্র এখনও বর্তমান আছে। তাহার প্রথম চতুৰ্ব্বিংশ প্রশ্নে বা ভাগে শ্রেীত বা যাগযজ্ঞের কথা আছে, ষড়বিংশ ও সপ্তবিংশ ভাগে গৃহ-হুত্রের বা গৃহ-ধৰ্ম্মের কথা আছে ; অষ্টাবিংশ ও উনত্রিংশ