পাতা:প্রকৃতির প্রতিশোধ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহীর সঙ্গে সন্ন্যাসীর যখন মিলন ঘটিল, তখনই সীমায় অসীমে মিলিত হইয়া সীমার মিথ্যা তুচ্ছতা ও অসীমের মিথ্যা শূন্তত দূর হইয়া গেল। আমার নিজের প্রথম জীবনে আমি যেমন একদিন আমার অন্তরের একটা অনির্দেশু্যতাময় অন্ধকার গুহার মধ্যে প্রবেশ করিয়া বাহিরের সহজ অধিকারটি হারাইয়া বসিয়াছিলাম, অবশেষে সেই বাহির হইতেই একটি মনোহর আলোকই হৃদয়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়া আমাকে প্রকৃতির সঙ্গে পরিপূর্ণ করিয়া মিলাইয়া দিল— এই প্রকৃতির প্রতিশোধেও সেই ইতিহাসটিই একটু অন্যরকম করিয়া লিখিত হইয়াছে। পরবর্তী আমার সমস্ত কাব্যরচনার ইহাও একটা ভূমিকা। আমার তো মনে হয়, আমার কাব্যরচনার এই একটিমাত্র পালা । সে পালার নাম দেওয়া যাইতে পারে, সীমার মধ্যেই অসীমের সহিত মিলনসাধনের পালা । এই ভাবটাকেই আমার শেষ বয়সের একটি কবিতার ছত্রে প্রকাশ করিয়াছিলাম : বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি সে আমার নয় ॥৩ তখনো আলোচনা° নাম দিয়া যে ছোটো ছোটো গদ্য প্রবন্ধ বাহির করিয়াছিলাম তাহার গোড়ার দিকেই প্রকৃতির প্রতিশোধের ভিতরকার ভাবটির একটি তত্ত্বব্যাখ্যা লিখিতে চেষ্টা করিয়াছিলাম । সীমা যে সীমাবদ্ধ নহে, তাহ যে অতলস্পর্শ গভীরতাকে এক কণার মধ্যে সংহত করিয়া দেখাইতেছে, ইহা লইয়া আলোচনা করা হইয়াছে। তত্ত্বহিসাবে সে ব্যাখ্যার কোনো মূল্য আছে কি না এবং কাব্য হিসাবে প্রকৃতির প্রতিশোধের স্থান কী তাহ জানি না কিন্তু ২ কলিকাতার সদর স্ত্রীটে যে অভূতপূর্ব উপলব্ধি হয় তাহার বিবরণ রহিয়াছে জীবনস্মৃতির ‘প্রভাতসংগীত’ অধ্যায়ে । এ স্থলে সেই সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হইয়াছে । ৩ দ্রষ্টব্য, নৈবেদ্য, সংখ্যা ৩• s ঐ গ্রন্থে ( আচলিত রবীন্দ্র-রচনাবলী ২ -ধূত) দ্রষ্টব্য : ধৰ্ম্ম’ ও ‘ডুব দেওয়া । ভারতী পত্রে যথাক্রমে প্রথম প্রচার : চৈত্র ১২৯• ও বৈশাখ ১২৯১ । প্রকৃতির প্রতিশোধ হইতে উক্ত । নিবন্ধমালায় নানা অংশের বহুশঃ সংকলন । У о