পাতা:প্রকৃতির প্রতিশোধ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আজ স্পষ্ট দেখা যাইতেছে, এই একটিমাত্র আইডিয়া অলক্ষ্যভাবে নানা বেশে আজ পর্যন্ত আমার সমস্ত রচনাকে অধিকার করিয়া আসিয়াছে । কারোয়ার হইতে ফিরিবার সময় জাহাজে প্রকৃতির প্রতিশোধের কয়েকটি গান লিখিয়াছিলাম। বড়ো একটি আনন্দের সঙ্গে প্রথম গানটি জাহাজের ডেকে বসিয়া মুর দিয়া-দিয়া গাহিতে-গাহিতে রচনা করিয়াছিলাম : হ্যাদে গো নন্দরানী, আমাদের শু্যামকে ছেড়ে দাও— আমরা রাখাল বালক গোষ্ঠে যাব, আমাদের শ্যামকে দিয়ে যাও । সকালের সূর্য উঠিয়াছে, ফুল ফুটিয়াছে, রাখাল বালকরা মাঠে যাইতেছে— সেই সূর্যোদয়, সেই ফুল ফোট, সেই মাঠে বিহার, তাহারা শূন্ত রাখিতে চায় না ; সেইখানেই তাহারা তাহদের শ্বামের সঙ্গে মিলিত হইতে চাহিতেছে ; সেইখানেই অসীমের সাজ-পর রূপটি তাহারা দেখিতে চায় ; সেইখানেই মাঠে-ঘাটে বনে-পর্বতে অসীমের সঙ্গে আনন্দের খেলায় তাহারা যোগ দিবে বলিয়াই তাহারা বাহির হইয়া পড়িয়াছে ; দূরে নয়, ঐশ্বর্যের মধ্যে নয়, তাহাদের উপকরণ অতি সামান্য— পীতধড়া ও বনফুলের মালাই তাহাদের সাজের পক্ষে যথেষ্ট— কেননা সর্বত্রই যাহার আনন্দ তাহাকে কোনো বড়ো জায়গায় খুজিতে গেলে, তাহার জন্য আয়োজন আড়ম্বর করিতে গেলেই লক্ষ্য হারাইয়া ফেলিতে হয়। কারোয়ার হইতে ফিরিয়া আসার কিছুকাল পরে ১২৯০ সালে ২৪শে অগ্রহায়ণে আমার বিবাহ হয়, তখন আমার বয়স বাইশ বৎসর ॥৫ • প্রকৃতির প্রতিশোধ প্রসঙ্গে বহু তথ্যের ও রবীন্দ্র-উক্তির সংকলন করেন পুলিনবিহারী সেন । ত্র : রবীন্দ্রগ্রন্থপঞ্জী ( আষাঢ় ১৩৮• ), পৃ. ১১৬-২s ।