পাতা:প্রত্নজীব (কবিতা).pdf/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করার সময় সমস্যা ছিল।

তিন
বেঁচে আছে, কিছু সাদা ঘাস। বাকি সব হিমে কঠিনে
ঢেকে গেছে, মাঝেমধ্যে কালো বেড়ালের নিঃশ্বাস
শোনা যায় আর হলদে চোখ জ্বলে থাকে, ক'দিনে
উঠে গেছে গ্রামগঞ্জ; গলিত শরীর, হাড় মাস
মিশে যায় ক্রমে মাটিতে। বিষাক্ত মেঘ, হাওয়া, ফাঁস
চেপে বসে আছে আকাশে। শুধু মৃত মর্যাদায়
আগুন পাহাড় একলা দাঁড়িয়ে রয়েছে, উচ্ছ্বাস
প্রেম, কম্পন সব শেষ। আর এখন ওর যা দায়

রয়েছে তা শুধু স্মৃতিরই: খাদ্যপ্রাণে ও প্রোটিনে
ভরে গেছে হাওয়া রৌদ্র। আকাশে মেঘের অভ্যাস
তত বেশি নেই। 'চল্‌ চল্‌, মিত্রায় অর ব্রতীনে
আবার ঝগড়া, মিটিয়ে দি' আসি আমরা।' সব বাস
চলে গেছে। ফাঁকা রাজপথ। দেশলাই আর উদ্ভাস
একটি মুখের। কালো হ্রদ। ঘন গ্রীল। টানা পর্দায়
ঢেউ দিলো হাওয়া, রাত্রি। একটি নিরীহ কৃকলাস
পাঁচিল পেরিয়ে ছুটল। মেয়েটি শান্ত শ্রদ্ধায়

অধ্যাপকের সামনে। এক্ষুণি একশ তিনের
মাথায় আউট বয়কট। কেবিন এবং দ্রুত শ্বাস,
ঘন দুটি ঠোঁট কাঁপছে। 'ভয় নেই তোর সতীনের
দোরে কাঁটা দিয়ে দিয়েছি'। চারজন লোক বসে তাস
খেলে৷ 'মা আচার করেছে। তোরা ভাগ করে নিয়ে যাস’
সমস্ত বাড়ি নিঃঝুম; শুধু দোতলার জানালায়
একটি দেহের আবছা, খোলা কালে চুল, সন্ত্রাস
নামছে তা থেকে…আর নয়। তুমি সবটুকু মিথ্যায়
ভরিয়ে দিয়েছ। আসলে কালো বেড়ালের নিঃশ্বাস
ছাড়া কিছু নেই, হলদে চোখ জ্বলে। হিমে, ঠাণ্ডায়
ছেয়ে গেছে গ্রাম, আর সব ছবি তো মিথ্যে উচ্ছ্বাস—
এত সব ভুল ছবিকে কেউ কবিতায় স্থান দেয়?

৩৮