পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬ জ্ঞান | যুদ্ধ করুিয়া লাভ কর। মনুষ্যজীবন, প্রকৃতির সঙ্গে দীর্ঘ সময় মাত্র-যখন তুমি সমরজী হইলে তখনই কিঞ্চিৎ মুখলাভ করিলে। কিন্তু মনুষ্যবল হইতে প্রাকৃতিক বল অনেক গুণে গুরুতর। অতএব মনুষ্যের জয় কদাচিৎ—প্রকৃতির জয়ই প্রতিনিয়ত ঘটিয়া থাকে। তবে জীবন যন্ত্রণাময়। আর্য্য মতে ইহার আবার পৌনঃপুন্য আছে। ইহজন্মে, অনন্তদুঃখ কোনরূপে কাটাইয়া প্রাকৃতিক রণে শেষে পরাস্ত হইয়া, যদি জীব দেহত্যাগ করিল—তথাপি ক্ষমা নাই-আবার জন্মগ্রহণ করিতে হইবে, আবার সেই অনন্ত দুঃখভোগ করিতে হইবেআবার মরিতে হইবে, আবার জন্মিতে হইবে—আবার দুঃখ । এই অনন্ত দুঃখের কি নিবৃত্তি নাই ? মন্থয্যের নিস্তার নাই ? ইহার দুই উত্তর আছে। এক উত্তর ইউরোপীয়, আর এক উত্তর তারতবর্ষীয়। ইউরোপীয়েরা বলেন, প্রকৃতি জেয় ; যাহাতে প্রকৃতিকে জয় করিতে পার সেই চেষ্টা দেখ। এই জীবন রণে প্রকৃতিকে পরাস্ত করিবার জন্য আয়ুধ সংগ্রহ কর । সেই আয়ুধ, প্রকৃতিকে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি নিজেই বলিয়া দিবেন। প্রাকৃতিক তত্ত্ব অধ্যয়ন কর—প্রকৃতির গুপ্ত তত্ত্ব * সকল অবগত হইয়া, তাহারই বলে তাহাকে বিজিত করিয়া, মনুষ্যজীবন সুখময় কর । এই উত্তরের ফল-ইউরোপীয় বিজ্ঞান শাস্ত্র। জ্ঞারতবর্ষীয় উত্তর এই, যে প্রকৃতি অজেয়-যতদিন প্রকৃ. র্তির সঙ্গে সম্বন্ধ থাকিবে ততদিন দুঃখ থাকিবে। অতএব প্রকৃতির সঙ্গে সম্বন্ধ বিচ্ছেদই দুঃখ নিবারণের একমাত্র উপায় । সেই সম্বন্ধবিচ্ছেদ কেবল জ্ঞানের দ্বারাই হইতে পারে। এই উত্তরের ফল ভারতবর্ষীয় দর্শন। সেই জ্ঞান কি? আকাশ কুসুম বলিলেও একটি জ্ঞান হয়--