প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:প্রহাসিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রহাসিনী কেদারায় হেলান দিয়ে। আমি ঠাট্টা করে বলে থাকি, আমার জীবনের প্রথম পালা কল্যাণ রাগে, তখন সুস্থ শরীরে চলাফের চলত, দ্বিতীয় পালা এই কেদারা রাগিণীতে আচল ঠাটে বাধা । আকাশ ছিল মেঘলা, ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে, বৃষ্টি হচ্ছে টিপ, টিপ করে। সুধাকান্ত বসে আছে পাশের চৌকিতে । হঠাৎ আমাকে বকুনি পেয়ে বসল। একটা কথা শুরু করলুম অকারণে, বলে গেলুম— যখন মনে ভাবি কিছু একটা হল, সুখদুঃখের তীব্রতা নিয়ে এমন করে হল যে কোনো কালে তার ক্ষয় হবে বলে ধারণাই হয় না, ঠিক সেই মুহূর্তে ই মহাকাল পিছনে বসে বসে মুখ ঢেকে তার চিহ্নগুলো মুছতে শুরু করে দিয়েছেন। কিছুকাল পরে দেখি সাদা হয়ে গেছে ; মনে যদি বা স্মৃতি থাকে তবু যে অমুভূতি তার সত্যতার প্রমাণ, আজি লেশমাত্র তার বেদনা নাই । তা হলে যেটা হল শেষ পর্যন্ত সেটা কী। সংস্কৃত শ্লোকে প্রশ্ন আছে– রঘুপতির অযোধ্যাপুরী গেল কোথায় ! রঘুপতির অযোধ্যা বহু লোকের বহু কালের নানাবিধ সুস্পষ্ট অনুভূতিতেই প্রতিষ্ঠিত, সেই বিপুল অনুভূতি গেল শূন্ত হয়ে । তা হলে যা ছিল সে কী ছিল ? মস্ত একটা "না" প্রকাণ্ড একটা "হা"এর আকার ধরেছিল । নাস্তিত্ব সে অস্তিত্বের জাল গেঁথেই চলেছে, আবার সে জাল গুটিয়ে নিচ্ছে নিজের মধ্যে। - এই দুর্বোধ রহস্তকে বাস্তব বলব কেমন করে ? এই-যে ইন্দ্রজাল এর মধ্যে দুইয়ের মিল চলেইছে, তাই একে মিত্রাক্ষর কাব্য বলতে হবে— একের উপাদানে স্বষ্টি হয়ই না । স্বষ্টি জোড়-মিলনের কাব্য । গদ্যের ধারা শেষকালে মুখে মুখে ছড়ার ছন্দে লাইনে লাইনে গাঠ বেঁধে চলল । অসুস্থ শরীরে, ও আমার একটা অপ্রকৃতিস্থতার লক্ষণ হয়ে উঠেছে। সুধাকান্ত এরই ফলের প্রত্যাশায় বসে থাকেন। আজ বাদল-সন্ধ্যায় হাজরে দেওয়া তিনি কাজে লাগিয়েছেন তার প্রমাণ দিই । —কবিতা । ১৩৪৭ চৈত্র, পৃ. ১ ৪১ ৷ শাস্তিনিকেতন-রবীন্দ্রসদনে হাতে-লেখা তাৎকালিক (তাৎক্ষণিক বলিলেও হয়তো ভুল হইত না ) যে পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় তাহাতে দেশ কাল ও ১৩৮