পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (দ্বিতীয় ভাগ).djvu/২১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

:x °

  • “j”.-, i. ( एंदै

শুনিত। যে পাচক ব্রাহ্মণ প্রত্যহ তাহার কুণ-ভাত লইয়া আসিত, তাহাকে জিজ্ঞাস করিয়া গঙ্গারাম উৎসবের বৃত্তান্তু শুনিয়াছিল। শুনিল যে, রাজ্যের সমস্ত লোক অতি বৃহৎ উৎসবে নিমগ্ন—কেবল সেই এক অন্ধকারে আর্দ্রভূমিতে মুষিকদষ্ট হইয়া, কীটপতঙ্গপীড়িত হইয়া, শৃঙ্খলভার বহন করিতেছে। মনে মনে বলিতে লাগিল, “রমার কবে এই রকম স্থান মিলিবে ।" যেমন অন্ধকারে বিদ্যুৎ জলে, তেমনি গঙ্গারামের একটা কথা মনে পড়িল । যদি ঐ বাচিয়া থাকিত ! ঐ একবার প্রাণভিক্ষা করিয়া লইয়াছিল, আবার ভিক্ষ চাহিলে কি ভিক্ষ পাইত না ? আমি যত পাপী হই না কেন, শ্ৰী কখনও আমাকে পরিত্যাগ করিত না । এমন ভগিনীও মরিল ! দুই প্রহর রাত্রিতে ঝঞ্চন বাজাইয়। কারাগুহে বাহিরের শিকল খুলিল। গঙ্গারামের প্রাণ শুকাইল —এত রাত্রিতে কেন শিকল খুলিতেছে ? আরও কিছু নুতন বিপদ আছে না কি ? আগ্রে রাজপুরুষের প্রদীপ লইয়া প্রবেশ করিল। গঙ্গারাম স্তম্ভিত হইয় তাহাদের প্রতি চাহিয়া রহিল । কোন কথা জিজ্ঞাসা করিতে পারিল না । তাহার পর জয়ন্তীকে দেখিল—উচ্চৈঃস্বরে চীৎকার করিয়া বলিল "রক্ষা কর । রক্ষ কর । আমি কি করিয়াছি ?” জয়ন্তী বলিল, “বাছা ! কি করিয়াছ, তাহ জান । কিন্তু তুমি রক্ষা পাইবে । ত্রকে মনে আছে কি ?” গঙ্গা । ঐ । যদি ঐ বাঢ়িয় থাকিত ! জয়ন্তী । ঐ বাচিয়া আছে । তার অনুরোধে আমি মহারাজের কাছে তোমার জীবন-ভিক্ষ চাহিয়াছিলাম। ভিক্ষ পাইয়াছি । তোমাকে মুক্ত করিতে আসিয়াছি। পলাও গঙ্গারাম ! কাল প্রভাতে এ রাজ্যে আর মুখ দেখাইও না । দেখাইলে আর তোমাকে বঁাচাইতে পারিব না । গঙ্গারাম বুঝিতে পারিল কি ন সন্দেহ । বিশ্বাস করিল না, ইহা নিশ্চিত । কিন্তু দেখিল যে রাজ পুরুষের বেড়ী খুলিতে লাগিল । গঙ্গারাম নীরবে দেখিতে লাগিল । জিজ্ঞসিা করিল, “ম, রক্ষ। করিলে কি ?” জয়ন্তী বলিলেন, “বেড়া খুলিয়াছে, চলিয়া যাও।” গঙ্গারাম উৰ্দ্ধশ্বাসে পলায়ন করিল । সেই রাত্রিতেই নগর ত্যাগ করিল। 豊 বঙ্কিমচক্সের গ্রন্থাবলী ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ 修 গঙ্গারামের যুক্তির আজ্ঞা প্রচার করিয়া, জয়ন্ত্রীর আজ্ঞামত দ্বার মুক্ত রাখিবার অনুমতি প্রচার করিয়া রাজা শয্যাগৃহে আসিয়া পর্যাঙ্কে শয়ন করিলেন । নন্দ তখনই আসিয়া পদসেবায় নিযুক্ত হইল । রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন, “রম কেমন আছে ?” রমার পীড়া । সে কথা পরে বলিব । নন্দ উত্তর করিল, “কই—কিছু বিশেষ হইতে ত দেখিলাম না ।" রাজ। —আমি এত রাত্রিতে তাহাকে দেখিতে যাইতে পারিতেছি না, বড় ক্লান্ত আছি, তুমি আমার স্থলাভিষিক্ত হইয়া যাও—তাহাকে আমি যেমন যত্ন করিতাম, তেমনি যত্ন করিও : আর আমি যে জন্য যাইতে পারিলাম না, তাহাও বলিও ” কথাটা শুনিয়া পাঠক সীতারামকে ধিক্কার দিবেন । কিন্তু সে সীতারাম আর নাই । ষে সীতারাম হিন্দু-সামাজ সংস্থাপন জন্য সৰ্ব্বস্ব পণ করিয়াছিলেন, সে সীতারাম রাজ্যপালন ত্যাগ করিয়৷ কেবল শ্রীকে খুজিয় বেড়াইল । সে সীতারাম আপনার প্রাণ দিয় শরণাগত বলিয়। গঙ্গারামের প্রাণ-রক্ষা করিতে গিয়াছিলেন-সেই সাতারাম রাজা হইয়া, রাজদণ্ড প্রণেত হইয়া শ্রীর লোভে গঙ্গারামকে ছাড়িয়া দিল । যে লোকবৎসল ছিল, সে এখন আন্ধুবৎসল হইতেছে । নন্দ বুঝিল, প্রভু আজ এক থাকিতে ইচ্ছুক হুইয়াছেন । নন্দ আর কথা ন কহিয়া চলিয়। গেল । সীতারাম তখন পর্যাঙ্কে শয়ন করিয়া শ্রীর প্রতীক্ষা করিতে লাগিলেন । সীতারাম সমস্ত দিন ও রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর পর্য্যন্ত পরিশ্রম করিয়া ক্লান্ত ছিলেন । অন্ত দিন হইলে পড়িতেন আর নিদ্রায় অভিভূত হইতেন, কিন্তু আজ স্বতন্ত্র কথা—যাহার জন্ত রাজসুখ বা রাজ্যভার ত্যাগ করিয়া, এত কাল ধরিয়া দেশে দেশে নগরে নগরে ভ্রমণ করিয়াছেন, যাহার চিস্ত অগ্নিস্বরূপ দিবারাত্র হৃদয় দাহ করিতেছিল, তাহার সাক্ষাৎলাভ হইবে ই সীতারাম জাগিয়া রহিলেন । কিন্তু নিদ্রাদেবীও ভুবনবিজয়িনী । যে যতই বিপদাপন্ন হউক না কেন, এক সময়ে না এক সময়ে তাহারও নিদ্র আসে । সীতারাম বিপদাপন্ন নহেন, সুখের আশায় নিমগ্ন, সীতারামের একবার তন্দ্রা আসিল । কিন্তু মনের ততটা চাঞ্চল্য থাকিলে তন্দ্রাও বেশীক্ষণ থাকে না। ক্ষণকাল-মধ্যেই সীতারামের