পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজসিংহ 彎 °導 জেব উল্লিস বলিল, “তুমি কে ? কেন লুকাইয়া ছিলে ? মুখের কাপড় খোল ।” সে স্ত্রীলোক তখন মুখের কাপড় খুলিল । দুই জনে সবিস্ময়ে দেখিল—ঙ্গরিয়া বিবি । বড় মুখের সময়, সহসা বিনা মেঘে সম্মুখে বজপতন দেখিলে যেমন বিহবল হইতে হয়, জেব উল্লিস। ও মবারক সেইরূপ হুইল । তিন জনের কেহ কোন কথা কহিল না । অনেকক্ষণ পরে দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়৷ মবারক বলিল, “ইয়। আল্লা ! অামাকে মরিতেই হইবে ।” জেব-উন্নিসা তখন অতি কাতরকণ্ঠে বলিল, “তৰে আমাকেও * দরিয়া বলিল, “তোমরা কে ?” মবারক তাহাকে বলিল, “আমার সঙ্গে আইস ।” তখন মবারক অতি দীনভাবে, জেব-উন্নিসার নিকট বিদায় লইল ।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ অগ্নির নূতন ফুলিঙ্গ রাজসিংহ রাজনীতিতে ও যুদ্ধনীতিতে অদ্বিতীয় পণ্ডিত । মোগল যতক্ষণ না সমস্ত সৈন্ত লইয়া রাণার রাজ্য ছাড়িয়া অধিক দুর যায়, ততক্ষণ শিবির ভঙ্গ করেন নাই বা স্বীয় সেনার কোন অংশ স্থানবিচ্যুত করেন নাই । তিনি শিবিরেই রহিয়াছেন, এমন সময় সংবাদ আসিল যে, বিক্রমসিংহ রূপনগর হইতে দুই সহস্র সেনা লইয়া আসিতেছেন। রাজসিংহ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইলেন । এক জন অশ্বারোহী অগ্রবত্তী হইয়া আসিয়া দূতস্বরূপ রাজসিংহের দর্শন পাইবার কামনা জানাইল । রাজসিংহের অনুমতি পাইয়া প্রতিহারী তাহাকে লইয়া আসিল । সে রাজসিংহকে প্রণাম করিয়া জানাইল যে, রূপনগরাধিপতি বিক্রম সোলাঙ্কি মহারাণার দর্শনমানসে সসৈন্তে আসিয়াছেন । রাজসিংহ বলিলেন, “যদি শিবিরের ভিতরে আসিয়া সাক্ষাৎ করিতে চাহেন, তবে একা আসিতে বলিবে । যদি সসৈন্তে সাক্ষাৎ করিতে চাহেন, তবে শিবিরের বাহিরে থাকিতে বলিবে- অামি সসৈন্তে যাইতেছি।” বিক্রম সোলাস্কি এক শিৰিরমধ্যে আসিয়া সাক্ষাৎ করিতে সম্মত হইলেন । তিনি আসিলে রাজসিংহ ులి ăናሕ তাহাকে সাদরে আসন প্রদান করিলেন। বিক্রমসিংহ রাণাকে কিছু নজর দিলেন । উদয়পুরের রাণা রাজপুতকুলের প্রধান—এ জন্য এ নজর প্রাপ্য। কিন্তু রাজসিংহ ঐ নজর গ্রহণ না করিয়া বলিলেন, “আপনার কাছে এ নজর মোগল বাদশাহেরই প্রাপ্য ।” বিক্রমসিংহ বলিলেন, “মহারাণী রাজসিংহ জীবিত থাকিতে, ভরসা করি, আর কোন রাজপুত মোগল বাদশাহকে নজর দিবে না । মহারাজ ! আমাকে মার্জন করিতে হইবে । আমি না জানিয়াই তেমন পত্ৰখানা লিখিয়াছিলাম । আপনি মোগলকে যেরূপ শাসিত করিয়াছেন, তাহাতে বোধ হয়, সমস্ত রাজপুত মিলিত হইয়া আপনার অধীনে কাৰ্য্য করিলে মোগল-সাম্রাজ্যের উচ্ছেদ হইবে । আমার পত্রের শেষভাগ স্মরণ করিবেন । আমি আপনাকে কেবল নজর দিতে আসি নাই । আমি আরও দুইটি সামগ্ৰী আপনাকে দিতে আসিয়াছি। এক আমার এই দুই সহস্ৰ অশ্বারোহী ; দ্বিতীয়, আমার নিজের এই তরবারি,—আজিও এ বাহুতে কিছু বল আছে, আমাকে যে কার্য্যে নিযুক্ত করিবেন, শরীরপতন করিয়াও সে কার্য্য সম্পন্ন করিব ।” রাজসিংহ অত্যস্ত প্রফুল্ল হইলেন । আপনার আন্তরিক আনন্দ বিক্রমসিংহকে জানাইলেন । বললেন, “আজ আপনি সোলাঙ্কির মত কথা বলিয়াছেন । দুষ্ট মোগল আমার হাতে নিপাত বাইতেছিল, সন্ধি করিয়া উদ্ধার পাইল । উদ্ধার পাইয়া বলে, সন্ধি করি নাই । আবার যুদ্ধ করিতেছে । দিলীর খী সৈন্য লইয়া শাহজাদা আক্কারের উদ্ধারের জন্য যাইতেছে । আপনি অতি সুসময়ে আসিয়াছেন । দিলীর থাকে পথিমধ্যে নিকাশ করিতে হইৰে—সে গিয়া আকৃববরের সঙ্গে যুক্ত হইলে কুমার জয়সিংহের বিপদ ঘটিবে। তজ্জন্ত আমি গোপীনাথ রাঠোরকে পাঠাইতেছিলাম । কিন্তু তাহার সেন অতি অল্প । আমার নিজ সেনা হইতে কিছু র্তাহার সঙ্গে দিব— মাণিকলাল সিংহ নামে আমার এক গুণে সুদক্ষ সেনাপতি আছে—সে তাহ লইয়া যাইবে । কিন্তু ঔরঙ্গজেব নিকটে, আমি নিজে এ স্থান ছাড়িয়া যাইতে পারিতেছি না। অথবা অধিক সৈন্য মাণিকলালের সঙ্গে দিতে পারিতেছি না । আমার ইচ্ছা, আপনিও আপনার আশ্বারোহী সেনা লইয়া সেই যুদ্ধে যান । আপনারা তিন জনে মিলিত হইয়া দিলীর খাকে পথিমধ্যে সসৈন্য সংহার করুন ” বিক্রমসিংহ আছলাদিত হইয়া বলিলেন, “আপনার আজ্ঞা শিরোধাৰ্য্য *