পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিষবৃক্ষ - a চাপা কহিল, “হ্যা ! মর-মানুষ না কি আবার আসিয়া থাকে ?” তখন কুন্দ স্বপ্নবৃত্তান্ত সকল বলিল শুনিয়া চাপা বিস্মিতা হৃষ্টয়া কহিল, “সেই আকাশের গায়ে যে পুরুষ আর মেয়েমানুষ দেখিয়াছিলে, তাহাদের চেন ?” কুন্দ । না, তাহাদের আর কখনও দেখি নাই । সেই পুরুষের মত সুন্দর পুরুষ যেন কোথাও নাই । এমন রূপ কখনও দেখি নাই । এ দিকে নগেন্দ্র প্রভাতে গাত্রোথান করিয়া গ্রামস্থ সকলকে ভাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই মৃতব্যক্তির কন্যার কি হইবে ? সে কোথায় থাকিবে ? তাহার কে আছে ?” ইহাতে সকলেই উত্তর করিল যে, “উহার থাকিবার স্থান নাই, উহার কেহ নাই ।” তখন নগেন্দ্ৰ কহিলেন, “তবে ভোমরা কেন্স উহাকে গ্ৰহণ কর, উহার বিবাহ দিও, তাহার ব্যয় আমি দিব । আর যত দিন সে তোমাদিগের বাটীতে থাকিবে, তত দিন আমি তাঙ্গার ভরণ-পোষণের ব্যয়ের জন্য মাসিক কিছু টাকা দিব ।” নগেন্দ্র যদি নগদ টক ফেলিয়! দিতেন, তাহ। হইলে অনেকেই তাহার কথায় স্বীকৃত ইষ্টতে পারিত । পরে নগেন্দ্র চলিয়া গেলে কুন্দকে বিদায় করিয়া দিত অথবা দাসীবৃত্তিতে নিযুক্ত করিত ; কিন্তু নগেন্দ্র সেরূপ মূঢ় তার কার্য্য করিলেন না । সুতরাং নগদ টাকা না দেখিয়া কেহই তাহার কথায় বিশ্বাস করিল না । তখন নগেন্দ্রকে নিরুপায় দেখিয়া এক জন বলিল, “হ্যামবাজারে ইহার এক মাসীর বাড়ী তাছে । বিনোদ ঘোষ ইহার মেসে । আপনি কলিকাতায় বাইতেছেন, যদি ইহাকে সঙ্গে করিয়া লইয়া গিয়৷ সেইখানে রাখিয় আসেন, তবেষ্ট এই কায়স্থকতার উপায় হয় এবং আপনারও স্বজাতির কাজ করা হয় ।” অগত্যা নগেন্দ্র এই কথায় স্বীকৃত হইলেন এবং কুন্দকে এই কথা বলিবার জন্য তাহাকে ডাকিতে পাঠাইলেন। চাপা কুনাকে সঙ্গে করিয়া লইয়। আসিল । আসিতে আসিতে দূর হইতে নগেন্দ্রকে দেখিয় কুন্দ অকস্মাৎ স্তম্ভিতের ন্যায় দাড়াইল । তাহার পর আর পা সরিল না । সে বিস্ময়োৎফুল্ললোচনে বিমূঢ়ার ন্যায় নগেন্দ্রের প্রতি চাহিয়া রহিল । চাপ কহিল, “ও কি, দাড়ালি ষে ?” কুন্দ অঙ্গুলীনির্দেশের দ্বারা দেখাইয়া কহিল, “এ-ই সে-ই ।” চাপ কহিল, “এই কে ?” কুন্দ কহিল, “যাহাকে, মা কাল রাত্রে আকাশের গায়ে দেখাইয়াছিলেন।” ; তখন চাপাও বিস্মিতা ও শঙ্কিত হইয়া দাড়াইল । বালিকার অগ্রসর হইতে হইতে সঙ্কুচিত হইল দেখিয়া নগেন্দ্র তাহাদিগের নিকট আসিলেন এবং কুন্দকে সকল কথা বুঝাইয়া বলিলেন । কুন্দ কোন উত্তর করিতে পারিল না ; কেবল বিস্ময়বিস্ফারিতলোচনে নগেন্দ্রের প্রতি চাহিয়া রহিল । - পঞ্চম পরিচ্ছেদ অনেক প্রকারের কথা অগত্য নগেন্দ্রনাথ কুন্দকে কলিকাতায় আত্মসমভিব্যারে লইয়া আসিলেন । প্রধমে তাহার মেসে বিনোদ ঘোষের অনেক সন্ধান করিলেন । শু্যামবাজারে বিনোদ ঘোষ নামে কাহাকেও পাওয়া গেল, না । এক বিনোদ দাস পাওয়া গেল—সে সম্বন্ধ অস্বীকার করিল । সুতরাং কুন্দ নগেন্দ্রের গলায় পড়িল । নগেন্দ্রের এক সহোদর ভগিনী ছিলেন । তিনি নগেন্দ্রের অম্বুজ ; তাহার নাম কমলমণি । তাহার: শ্বশুরালয় কলিকাভার । শ্রীশচন্দ্র মিত্র তাহার স্বামী । শ্ৰীশ বাবু প্লাগুর ফেয়ারলির বাড়ীর মুৎসুদি। হোঁস বড় ভারী, শ্ৰীশচন্দ্র বড় ধনবান। নগেন্দ্রের সঙ্গে র্তাহার বিশেষ সম্প্রীতি । কুন্দনন্দিনীকে নগেন্দ্র সেইখানে লইয়া গেলেন। কমলকে ডাকিয়া কুনের" সবিশেষ পরিচয় দিলেন। * কমলের বয়স অষ্টাদশ বৎসর। মুখাবয়ব নগেন্দ্রের ন্যায় ; ভ্রাতা ভগিনী উভয়েই পরম সুন্দর। কিন্তু কমলের সৌন্দৰ্য্যগৌরবের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যার খ্যাতিও ছিল । নগেন্দ্রের পিতা মিস টেম্পলু নায়ী এক জন শিক্ষাদাত্ৰী নিযুক্ত করিয়া কমলমণিকে હવ૬ স্বর্যমুখীকে বিশেষ যত্নে লেখাপড়া শিখাইয়াছিলেন । কমলের শ্বশ্রা বর্তমান । কিন্তু তিনি শ্ৰীশচন্দ্রের পৈতৃক বাসস্থানেই থাকিতেন, কলিকাতায় কমলই গৃহিণী । o নগেন্দ্র কুন্দের পরিচয় দিয়া কহিলেন, “এখন তুমি ইহাকে না রাখিলে আর রাখিবার স্থান নাই। পরেঃ আমি যখন বাড়ী যাইব—উহাকে গোবিন্দপুরে লইয়: যাইব ।” : কমল বড় দুষ্ট । নগেন্দ্র এই কথা বলিয়া, পশ্চাৎ ফিরিলেই কমল কুন্দকে কোলে তুলিয়া লইয়৷ দৌড়িলেন । একটা টবে কতকট{