পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లిషి বাঙ্কচন্দ্রের 3 ঐ শুন । কালপেচা ডাকিল । তুমি সরিয়া টুম্বাইবে, আর কুন্দনন্দিনীর ভয় করিবে ! দেখিলে বিদ্যুৎ ! তুমি সরিও না, কুন্দনন্দিনীর ভয় করিবে ! ঐ দেখ, আবার কালে মেঘ পবনে চাপিয়া যে যুদ্ধে ছুটিতেছে। ঝড়বৃষ্টি হইবে । কুন্দকে কে আশ্রয় দিবে ? দেখ, তুমি গবাক্ষ মুক্ত করিয়াছ, ঝণকে ঝণকে পতঙ্গ আসিয়া তোমার শষ্যাগৃহে প্রবেশ করিতেছে । .কুদ মনে করিতেছে, কি পুণ্য করিলে পতঙ্গজন্ম হয়। কুদ ! পতঙ্গ ষে পুড়িয়া মরে । কুন্দ তাই চায়। মনে করিতেছে, “আমি পুড়িলাম—মরিলাম ম৷ কেন ?” নগেন্দ্র সার্সী বন্ধ করিয়া সরিয়া গেলেন । নির্দয় ! ইহাতে কি ক্ষতি ? না, তোমার রাত্রি জাগিয়া কাজ নাই—নিদ্রা যাও—শরীর অসুস্থ হইবে । কুন্দনন্দিনী মরে মরুক । তোমার মাথা না ধরে, কুন্দনন্দিনীর কামনা এই ৷ এখন আলোকময় গবাক্ষ যেন অন্ধকার হইল । চাহিয়া, চাহিয়া, চাহিয়া, চক্ষের জল মুছিয়া, কুন্দ নলিনী উঠিল । সম্মুখে যে পথ পাইল—সেই পথে চলিল। কোথায় চলিল ? নিশাচর পিশাচ ঝাউগাছের সৰু সৰ্ব শব্দ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল,-“কোথায় স্বাও ” তালগাছের তবৃতরূ শব্দ করিয়া বলিল, “কোথায় যাও?” পেচক গম্ভীর নাদে বলিল, কোথায় যাও ?” উজ্জ্বল গবাক্ষশ্রেণী বলিতে লাগিল, “ষায় যাউক—আমরা আর নগেন্দ্র দেখাইব না ।” তৰু কুন্দনন্দিনী—নিৰ্ব্বোধ কুন্দনন্দিনী ফিরিয়া ফিরিয়া সেই দিকে চাহিতে লাগিল । কুন্দ চলিল, চলিল—কেবল চলিল। আকাশে আরও মেঘ ছুটিতে লাগিল-মেঘ সকল একত্র হইয় জাকাশেও রাত্রি করিল—বিদ্যুৎ হাসিল—আবার হাসিল—আবার । বায়ু গর্জল, মেঘ গৰ্জিল ; বায়ুতে মেখেতে একত্র হইয় গৰ্জিল আকাশ আর রাত্রি একত্র হইয়া গৰ্জিল । কুন্দ ! কোথায় ৰাইবে ? ঝড় উঠিল । প্রথমে শব্দ, পরে ধুলি উঠিল, পরে গাছের পাতা ছিড়িয়া লইয়া বায়ু স্বয়ং আসিল । শেষে পিষ্ট পটু —পটু পটু —হু হু ! বৃষ্টি আসিল । কুন্দ ] কোথায় যাইবে ? বিদ্যুতের আলোকে পথিপাশ্বে কুন্দ একটা সামান্য গৃহ দেখিল । গৃহের চতুস্পার্থে মৃৎপ্রাচীর ; মৃৎপ্রাচীরের ছোট চাল ; কুন্দনন্দিনী আসিয়া তাহার আশ্রয়ে দ্বারের নিকটে বসিল স্বারে পিঠ রাখিয়৷ ৱিলিল। দ্বার পিঠের স্পর্শে শতি হইল। গৃহস্থ গ্রন্থাবলী সজাগ, দ্বারের শব্দ তাহার কাণে গেল । গৃহস্থ মনে করিল, ঝড় ; কিন্তু তাহার দ্বারে একটা কুকুর শয়ন করিয়া থাকে—সেটা উঠিয়া ডাকিতে লাগিল । গৃহস্থ তখন ভয় পাইল। আশঙ্কায় দ্বার খুলিয়া দেখিতে আইল । দেখিল, আশ্রয়হীন স্ত্রীলোক মাত্র। জিজ্ঞাসা করিল, “কে গা তুমি ?” কুন্দ কথা কহিল না । “কে রে মাগি ?” কুন্দ বলিল, “বৃষ্টির জন্য দাড়াইয়াছি।” গৃহস্থ ব্যগ্রভাবে বলিল, “কি ? কি ? কি ? আবার বল ত ?” কুন্দ বলিল, “বৃষ্টির জন্য দাড়াইয়tছ ” গৃহস্থ বলিল, “ও গলা যে চিনি। বটে ? ঘরের ভিতর এস ত ” গৃহস্থ কুন্দকে ঘরের ভিতর লইয়া গেল । আগুন করিয়া অ'লো স্বালিল কুন্দ তখন দেখিল,—হীর । হীরা বলিল, “বুঝিয়াছি, তিরস্কারে পলাইয়াছ । ভয় নাই। আমি কাহারও সাক্ষাতে বলিব না । আমার এইখানে দুই দিন থাক " উনবিংশ পরিচ্ছেদ ষ্টীরার রাগ হীরার বাড়ী প্রাচার-অঁাট। দুইটি ঝরঝরে মেটে ঘর। তাহাতে আলেপনা-পদ্ম আঁকা—পার্থী আঁকা —ঠাকুর অঁাকা । উঠান নিকান—এক পাশে রাঙ্গা শাক, তার কাছে দোপাটি, মল্লিক, গোলাপফুল । বাবুর বাড়ীর মালী আপনি আসিয়া চারা আনিয়া ফুলগাছ পুতিয়া দিয়া শিয়াছিল-হীরা চাহিলে, চাই কি বাগান শুদ্ধই উহার বাড়ী তুলিয়া দিয়া যায়। মালীর লাভের মধ্যে এই, হীরা আপন হাতে তামাকু সাজিয়া দের । হীর কালে চুড়িপয়া হাতখানিতে হুক ধরিয়া মালীর হাতে দেয়, মালী বাড়ী গিয়া রাত্রে তাই ভাবে । হীরার বাড়ী হীরার অায়ী থাকে, আর হীরা । এক ঘরে আল্পী, এক ঘরে হীরা শোয় । ইয়া কুন্দকে আপনার কাছে বিছানা করিয় রাত্রে গুয়াইল। কুন্দ শুইল-ঘুমাইল না । পর দিন তাহাকে সেইখানে রাখিল । বলিল, “আজিকালি দুই দিন থাক ; দেখ, রাগ না পড়ে, পরে যেখানে ইচ্ছা, সেইখানে যাইও ।” কুন্দ রছিল। কুন্দের ইচ্ছানুসারে তাহাকে লুকাইয়