পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজসিংহ న) চঞ্চল। পাইবার জঙ্ক কি ভজে ? তুমি কি পাইবার জন্য ঔরঙ্গজেব বাদশাহকে ভজিয়াছ ? নিৰ্ম্মল । আমি ঔরঙ্গজেবকে ভজিয়াছি, যেমন বেরাল ইন্দুর ভজে। আমি যদি ঔরঙ্গজেবকে না পাই, তা নয় আমার বেরলিখেলাটা এ জন্মের মত রহিয়া গেল। তোমারও কি তাই ? চঞ্চল । আমারও না হয়, সংসারের খেলাট এ জন্মের মত রহিয়া গেল । নিৰ্ম্মল । বল কি রাজকুঙার! ছবি দেখিয়া কি এত. হয় ? চঞ্চল । কিসে কি হয়, তা তুমি আমি কি জানি ? কি হইয়াছে, তাই কি জানি ?” আমরাও তাই বলি । চঞ্চলকুমারীর কি হইয়াছে, তা ত বলিতে পারি না । শুধু ছবি দেখিয় কি হয়, তা ত জানি না । অনুরাগ ত মানুষে মানুষে, ছবিতে মানুষে হইতে পারে কি ? পারে, যদি তুমি ছবিছাড়াটুকু আপনি ধ্যান করিয়া লইতে পার । পারে, যদি আগে হইতে মনে মনে তুমি কিছু গড়িয়া রাখিয়া থাক, ভার পর ছবিখানাকে ( বা স্বপ্নটাকে ) সেই মনগড়া জিনিসের ছবি বা স্বপ্ন মনে কর । চঞ্চলকুমারীর কি তাই কিছু হইয়াছিল ? তা আঠার বছরের মেয়ের মন আমি কেমন করিয়া বুঝিব বা বুঝাইব ? চঞ্চলকুমারীর মন যাই হোক, মনের আগুনে এখন ফু দিয়া সে ভাল করে নাই । কেন না, সম্মুখে বড় বিপদ । কিন্তু সে সকল বিপদের কথা বলিতে আমাদের এখনও অনেক বিলম্ব আছে । চতুর্থ পরিচ্ছেদ বুড়ী বড় সতর্ক যে বুড়ী ছবি বেচিয়াছিল, সে ফিরিয়া বাড়ী আসিল । তাহার বাড়ী আগ্রা । সে চিত্রগুলি দেশে বিদেশে বিক্রয় করে । বুড়ী রূপনগর হইতে আগ্রা গেল। সেখানে গিয়া দেখিল, তাহার পুত্র আসিয়াছে । তাহার পুত্র দিল্লীতে দোকান করে । কুক্ষণে বুড়ী রূপনগরে চিত্র বিক্রয় করিতে গিয়াছিল । চঞ্চলকুমারীর সাহসের কাণ্ড যাহা দেখিয়া আসিয়াছিল, তাহ কাহারও কাছে বলিতে পাইয়া বুড়ীর মন অস্থির হুইয়। উঠিয়াছিল । যদি নৰ্ম্মলকুমারী তাছাকে পুরস্কার দিয়া কথা প্রকাশ রিতে নিষেধ করিয়া না দিত, তবে ষোধ হয়, বুড়ীর R মন এত ব্যস্ত না হইলেও হইতে পারিত । কিন্তু যখন সে কথা প্রকাশ করিবার জন্য বিশেষ নিষেধ হইয়াছে, তখন বুড়ীর মন কাজে কাজেই কথাটি বলিবার জন্য বড়ই আকুল হইয়া উঠিল । বুড়ী কি করে, একে সত্য করিয়া আসিয়াছে, তাহাতে হাত পাতিয়া মোহর লইয়া নিমক খাইয়াছে, কথা প্রকাশ পাইলেও দুরস্ত বাদশাহের হস্তে চঞ্চলকুমারীর বিশেষ অনিষ্ট ঘটিবার সম্ভাবন, তাহাও বুঝিতেছে । হঠাৎ কথা কাহারও সাক্ষাতে বলিতে পারিল না ! কিন্তু বুড়ীর আর দিবসে আহার হয় না—রাত্রিতে । নিদ্রা হয় না । শেষ আপন আপনি শপথ করিল ষে, এ কথা কাহারও সাক্ষাতে বলিব না । তাহার পরেই তাহার পুত্ৰ আহার করিতে বসিল—বুড়ী ছেলের সানকির উপর একটু রসাল কাবাব তুলিয়া দিয়া বলিল, “খ ! বাবাজান ! খা, খা লেও, ম্বৈস। কাবাব রূপনগরসে আনেকে বকৃত এক রোজ বান৷ থা, ঔর কভী নেহিন বন ।" ছেলে খাইতে খাইতে বলিল, “আম্মাজী ! রূপনগরকা যে কেসস আপ ফরমায়েঙ্গে বোলীৰ্থী ।” ম৷ বলিল, "চুপ রহ, বাত, মুহ,মে মৎ লেও বাপজানু! মেয়নে কেয়া বোলীৰ্থী ? খেয়ালুমে বোলীৰ্থী শায়েদ lo বুড়ী এখন ভুলিয়া গিয়াছিল যে, পূৰ্ব্বে এক সময়ে চঞ্চলকুমারীর কথাটা তাহার উদরমধ্যে অত্যন্ত ংশন আরম্ভ করায়, তিনি পুত্রের সাক্ষাতে একটু উঃ আঃ করিয়াছিলেন । এবারকার উত্তর শুনিয়া ছেলে বলিল, “চুপ রহেঙ্গে কাহে মাজী ? য়ৈসা কিয়া বাহু হোগী ?” মা ! শুননেক মাফিক বাত নেহিন বাপজানু! ছেলে । তবু রহনে দিঙ্গিয়ে । - মা ! ঔর কুছ নেহিন, রূপনগরওয়ালী কুমারীনকি বাত । ছেলে । বহ, কুমারীন বড় খুবস্থরত ? স্নেহ য়ৈসা পুষিদ বাত । মা। সে নেহিন –বাদাঁকি বড় দেমাগ। ইয়। আল্লা ! মেয়নে কেয়া বোলচুক ! ... • ছেলে । কঁহি৷ রূপনগর গড়, কাহা ওঁহাকা রাজকুমারীনকি দেমাগ—ইয়ে বাত আপকা বোল । নাই কিয়া জরুর—হামারা শুন নাই কিয়া জরুর ? মা ! স্রেফ দেমাগ বাপ জান্‌! লোণ্ডীনে । বাদশাহে আলমকে নেহিন মামৃতী ! - ছেলে । বাদশাহুে আলমকে গালি দিই হোগী ? ম। গালি-বাপ জাম্‌! উস্সেভ জবর ক্ল ছ।