পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


و یا ت: # , , - - . ধ্ৰুবলিল, “তা করিৰ ৰৈ কি। সকলেরই ভাই শরীরের ভাল-মন্দ আছে—তা এক মনিবের চাকর—করিব নে?” ইরান্তু ইচ্ছা ছিল যে, কৌশল্যা ষে উত্তরই :দিউক না, তাঁহাতেই ছল ধরিয়া কলহ করিবে । &অতএব তখন মস্তক হেলাইয়া তর্জনগর্জন করিয়া ঠুকছিল, “কি ল কুশি, তোর যে বড় আম্পৰ্দ্ধা দেখতে পাই ? তুই গালি দিস ।” কৌশল্য। চমৎকৃত হইয়া ; বলিল, আ মরি! আমি কখন গালি দিলাম ?” _ হীরা। আ মলো ! আবার বলে কখন গালি দিলাম ? কেন, শরীরের ভাল-মন্দ কি লা ? আমি কি মরুতে বসেছি না কি ? আমাকে শরীরের ভাল'মলা দেখাবেন, আবার লোকে বলুবে, উনি আশীৰ্ব্বাদ কবৃলেন । তোর শরীরের ভাল-মন্দ হউক । কে । হয় হউক। তা বোন রাগ করিস কেন?” মরিতে ত হবেই এক দিন—ষম ত আর তোকেও ভুলবে না, আমাকেও ভুলবে না । হীরা । তোমাকে যেন –প্রাতর্বাক্যে কখনও না ভোলে । তুমি আমার হিংসায় মর! তুমি যেন হিংসাতেই মর! শীগগির অল্পাই যাও, নিপাত যাও, নিপাত যাও, নিপাত যাও ! তুমি যেন দুটি চক্ষের भf५ीं शी७ ।। শৌশল্য আর সহ করিতে পারিল না। তখন কৌশল্যাও আরম্ভ করিল । “তুমি দুটি চক্ষের মাথা খাও ! তুমি নিপাত যাও ! তোমায় যেন যম না ভোলে ! পোড়ারমুখি! আবাগি ! শতেকখোয়ারি ” কোলবিদ্যায় হীরার অপেক্ষা কৌশল্য পটুতর! 'সুতরাং হীরা পাটকেলটি খাইল । হীরা তখন প্রভুপত্নীর নিকট নালিশ করিতে চলিল ; যাইবার সময় যদি হীরার মুখ কেহ নিরীক্ষণ করিয়া দেখিত, তবে দেখিতে পাইত যে, হীরার ক্রোধলক্ষণ কিছুই নাই, বরং অধরপ্রান্তে একটু হাসি আছে। হীরা স্বৰ্য্যমুখীর নিকট যখন গিয়া উপস্থিত হইল, তখন বিলক্ষণ ক্ৰোধলক্ষণ ধ্ৰুং সে প্রথমেই স্ত্রীলোকুের ঈশ্বরদত্ত অস্ত্র ছাড়িল অর্থাৎ কাদিয়া দেশ ভাসাইল। স্বৰ্য্যমুখী নালিশী আরজী মোলাহেঙ্গা করিয়া, ৱিস্থিত বিচার করিলেন। দেখিলেন, হীরারই দোষ, ষ্ঠথাপি হীরার অনুরোধে কৌশল্যাকে যৎকিঞ্চিৎ গ্ৰন্থযোগ করিলেন, হীরা তাহাতে সন্তুষ্ট না হইয়া বলিল, “ও মাগীকে ছাড়াইয়া দাও, নহিলে আমি থাকিব না।” - * তখন স্থৰ্যমুখী হীরার উপর বিরক্ত হইলেন । বলিলেন, “হীরে, তোর বড় জাদর বাড়িয়াছে। তুই জাগে নিলি গ’ল-দোষ সর্ব তোর–আবার তোর কথায় ওকে ছাড়াইব ? আমি এমন অন্যায় করিতে পারিব না—তোর যাইতে ইচ্ছা হয় যা, আমি থাকিতে বলি না।” হীরা ইহাই চায় ; তখন “আচ্ছা, চল্লেম” রলিয়া হীরা চক্ষের জলে বুক ভাসাইতে ভাসাইতে বহিবাটতে বাবুর নিকট গিয়া উপস্থিত হইল । বাৰু বৈঠকখানায় একা ছিলেন—এখন একাই থাকিতেন । হীরা কাদিতেছে দেখিয়া নগেন্দ্র বলিলেন, “হীরে, কাদিতেছিস কেন ?” হী। আমার মাহিনাপত্র হিসাব করিয়া দিতে হুকুম করুন। ন । ( সবিস্ময়ে ) সে কি ? কি হয়েছে ? হী। আমার জবাব হয়েছে । মা ঠাকুরাণী আমাকে জবাব দিয়াছেন । ন। কি করেছিস তুই ? হী। কুলী আমাকে গালি দিয়াছিল—আমি নালিশ করিয়াছিলাম । তিনি তার কথায় বিশ্বাস করিয়া আমাকে জবাব দিলেন । নগেন্দ্র মাথা নাড়িয়া হাসিতে হাসিতে বলিলেন, "সে কাজের কথা নয় হীরে, আসল কথা কি, বল্‌ ৷” হীরা তখন ঋজু হইয়া বলিল, “আসল কথা, আমি থাকিব না ।” ন । কেন ? হী । মা ঠাকুরাণীর মুখ বড় এলোমেলে। হয়েছে-কারে কখন কি বলেন, ঠিক নাই । নগেন্দ্র ক্র কুঞ্চিত করিয়া তীব্রস্বরে বলিলেন, “সে কি ?” . হীরা যাহা বলিতে আসিয়াছিলঞ্চ তাছা এইবার বলিল । সে দিন কুন্দঠাকুরাণীকে কি না বলিয়াছিলেন । শুনিয়া কুন্দঠাকুরাণী দেশত্যাগী হয়েছেন । আমাদের ভয়, পাছে আমাদের সেইরূপ কোম্ দিন কি বলেন,—আমরা তা হ'লে বাচিব না তাই আগে হইতে সরিতেছি ।” ন । সে কি কথা ? হী । আপনার সাক্ষাতে লজ্জায় তা জামি বলিতে পারি না। শুনিয়া নগেন্দ্রের ললাট অন্ধকার হুইল । তিনি হীরাকে ৰলিলেন, “আজ বাড়ী যা, কাল ডাকাব।" হীরার মনস্কাম সিদ্ধ হইল। সে এই জন্ত কৌশল্যার সঙ্গে বচসা স্বজন করিয়াছিল । নগেন্দ্র উঠিয়া স্বৰ্য্যমুখীর নিকটে গেলেন । হীরা পা টিপিয়া টিপিয়া পশ্চাৎ পশ্চাৎ গেল ।