পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


... * ľa এখন আমি দেশত্যাগ করিয়া চলিলাম।” যদি কুন্দনন্দিনীকে ভুলিতে পারি, তবে আবার আসিব । নচেৎ তোমার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ ” এই শেল-সম কথা শুনিয়া স্বৰ্য্যমুখী কি বলিলেন ? কয়েক মুহূৰ্ত্ত প্রস্তরময়ী মূৰ্ত্তিবৎ পৃথিবীপানে চাহিয়৷ রছিলেন। পরে সেই ভূতলে অধোমুখে শুইয়া পড়িলেন । মাটীতে মুখ লুকাইয়া স্বৰ্য্যমুখী—কাদিলেন কি ? হত্যাকারী ব্যাঘ্র স্বেরূপ হতজীবের যন্ত্রণা দেখে, নগেন্দ্র, সেইরূপ স্থিরভাবে দাড়াইয়া দেখিতেছিলেন । মনে মনে বলিতেছিলেন, “সেই ভ মরিতে হুইবে— তার আজকাল কি ? জগদীশ্বরের ইচ্ছা,—আমি কি করিব ? আমি কি মনে করিলে ইহার প্রতীকার করিতে পারি? আমি মরিতে পারি, কিন্তু তাহাতে দুৈর্ঘ্যমুখী বাচিবে ?” না ; নগেন্দ্ৰ ! তুমি মরিলে স্বৰ্য্যমুখী বাচিবে না, কিন্তু তোমার মরাই ভাল ছিল । দণ্ডেক পরে স্বর্য্যমুখী উঠিয়া বসিলেন । আবার স্বামীর পায় ধরিয়া বলিলেন—“এক ভিক্ষ| ” নগেন্দ্র । কি ? স্বৰ্য্য। আর এক মাসমাত্র গৃহে থাক । ইতিমধ্যে যদি কুন্দনন্দিনীকে না পাওয়া যায়, তবে তুমি দেশত্যাগ করিও। আমি মানা করিব না। নগেন্দ্র মৌনভাবে বাহির হইয়া গেলেন । মনে মনে আরও এক মাস থাকিতে স্বীকার করিলেন । স্বৰ্য্যমুখীও তাঁহা বুঝিলেন । তিনি গমনশীল নগেন্দ্রের মূৰ্ত্তিপ্রতি চাহিয়াছিলেন। স্বৰ্য্যমুখী মনে মনে বলিতেছিলেন, “আমার সর্বস্ব ধন ! তোমার পায়ের কাটাটি তুলিবার জন্য প্রাণ দিতে পারি । তুমি পাপ স্বৰ্য্যমুখীর জন্য দেশত্যাগী হইৰে ? তুমি বড় ন৷ .चििक्ष बज्रं * - দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ চোরের উপর বাটপাড়ি হীর দাসীর চাকরী গেল, কিন্তু দত্তবাড়ীর সঙ্গে লম্বন্ধ ঘুচিল না । সে বাড়ীর সংবাদের জন্য হীরা সৰ্ব্বদা ব্যস্ত। সেখানকার লোক পাইলে ধরিয়া বসাইয়া গল্প ফাদে । কথার ছলে স্থৰ্যমুখীর প্রতি নগেঞ্জের কি ভাব, তাহী জানিয়া লয় । যে দিন কাহারও সাক্ষাৎ না পায়, সেদিন ছল করিয়া ৰাবুদের ধীজীতেই আসিয়া বলে। দাসী-মহলে পাচ রকম কথা পাড়িয়া, অভিপ্রায় সিদ্ধ করিয়া চলিয়৷ ষায় । ”·出常 - ة عن مهم – " نه." . - • :w এইরূপে কিছুদিন গেল। কিন্তু এক দিন একটি গোলযোগ উপস্থিত হইবার সম্ভাবন হুইয়া উঠিল ;– ' দেবেন্দ্রের নিকট হীরার পরিচয়াবধি, হীরার বাড়ী মালতী গোয়ালিনীর কিছু ঘন ঘন যাতায়াত হইতে লাগিল। মালতী দেখিল, তাহাতে হীর বড় সন্তুষ্ট নহে । আরও দেখিল, একটি ঘর প্রায় বন্ধ থাকে । সে ঘরে, হীরার বুদ্ধির প্রাখৰ্য্য হেতু, বাহির হইত্তে । শিকল এবং তাঁহাতে তালাচাবী অঁাটা থাকিত, কিন্তু এক দিন অকস্মাৎ মালতী আসিয়া দেখিল, তালাচাৰী দেওয়া নাই। মালতী হঠাৎ শিকল খুলিয়া দুয়ার ঠেলিয়া দেখিল । দেখিল, ঘর ভিতর হইতে বন্ধ ; তখন সে বুঝিল, ইহার ভিতর মানুষ থাকে । - মালতী হীরাকে কিছু বলিল না, কিন্তু মনে মনে । ভাবিতে লাগিল,-মানুষটা কে ? প্রথমে ভাবিল, পুরুষমানুষ। কিন্তু কে কার কে, মালতী সকলই ত জানিত—এ কথা সে বড় মনে স্থান দিল না"। শেষে তাহার মনে মনে সন্দেহ হইল—কুন্দই বা এখানে আছে । কুন্দের নিরুদ্দেশ হুওয়ার কথা মালতী সকলই শুনিয়াছিল। এখন সন্দেহ-ভঞ্জনার্থ শীঘ্র সদ্বপায় করিল। হীরা বাবুদের বাড়ী হইতে একটি হরিণশিশু আনিয়াছিল । সেটি বড় চঞ্চল বলিয়া বাধাই থাকিত । এক দিন মালতী তাঁহাকে আহার করাইতেছিল । আহার করাইতে করাইতে হীরার অলক্ষ্যে তাহার বন্ধন খুলিয়া দিল ; হরিণশিশু মুক্ত হইবামাত্র বেগে বাহিরে পলায়ন করিল। দেখিল, হীরা ধরিবার জন্ত তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ গেল । হীরা যখন ছুটিয়া যায়, মালতী তখন ব্যগ্রস্বরে ডাকিতে লাগিল, “হীরে ৷ ও হীরে ! ও গঙ্গাঙ্গল ।” হীরা দুরে গেলে মালতী আছাড়িয়া কাদিয়া উঠিল, *ও মা ! আমার গঙ্গাজল এমন হলো কেন ?" এই বলিয়৷ কঁাদিতে কঁাদিতে কুন্দের দ্বারে ঘা মারিয়া কাতরস্বরে বলিতে লাগিল—“কুন্ঠাকরুণ। কুন্দ । শীঘ্র বাহির হও । গঙ্গাজল কেমন হয়েছে " সুতরাং কুন্দ ব্যস্ত হইয়া দ্বার খুলিল। মালতী তাঁহাকে দেখিয়া হি হি করিয়া হাসিয়া পলাইল । কুন্দ দ্বার রুদ্ধ করিল। পাছে হীর তিরস্কার করে বলিয়। হীরাকে কিছু বলিল না। মালতী গিয়া দেবেন্দ্রকে সন্ধান বলিল F দেবেঞ্জ স্থির করিলেন, স্বয়ং হীরার বাড়ী গিয়া এসপার কি ওসপার, যা হয় একটা করিয়া আসিবেন । কিন্তু সেদিন একটা “পার্টি" ছিল—মুক্তরাং জুটিতে পারিলেন না। পরদিন যাইবেন । , : r