পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


影 : বঙ্কিমচঞ্জের গ্রন্থাবলী কোথাও ভোজনাবশিষ্ট পাখাগুলি পড়িয়া আছে। ঃইসিগুল শৃগালে মারিয়াছে। ময়ুরগুলা বুনো হইয়া গিয়াছে। গোরুগুলার হাড় উঠিয়াছে—আর দুধ দেয় : না । নগেন্দ্রের কুকুরগুলার স্ফূৰ্ত্তি মাই, খেলা নাই, ডাক নাই—বাধাই থাকে। কোনটা মরিয়া গিয়াছে, কোনটা ক্ষেপিয়া গিয়াছে, কোনটা পলাইয়া গিয়াছে। ঘোড়াগুলার নানা রোগ—অথবা নীরোগেই রোগ । আস্তাবলে যেখানে সেখানে খড়কুটা, শুকনা পাতা, ঘাস, ধুলা, আর পায়রার পালক । ঘোড়া সকল ঘাস-দানা কখনও পায়, কখনও পায় না। সহিসের প্রায় আস্তাবলমুখ হয় না ; সহিসিনী মহলেই থাকে। জটালিকার কোথাও আলিশ ভাঙ্গিয়াছে, কোথাও ੇ খসিয়াছে, কোথাও সাঙ্গী, কোথাও খড়খড়ী, কোথাও রেলিং টুটিয়াছে । মেটিঙ্গের উপর বৃষ্টির জল, দেওয়ালের পেন্টের উপর বস্থধারা, বুককেসের উপর কুমীরকার বাসা, ঝাড়ের ফানুসের উপর চড়ুইয়ের বাসার খড়কুট । গৃহে লক্ষ্মী নাই । লক্ষ্মী বিনা এরৈকুণ্ঠও লক্ষ্মীছাড়া হয় । ভালবাসিয়াছিল-কাহাকে বলে নাই, কেহ জানিতে পারে নাই। নগেন্দ্রকে পাইবার কোন বাসন করে নাই ;–আশাও করে নাই, আপনার নৈরাশু আপনি সহ করিত। তাকে আকাশের চাদ ধরিয়া হাতে দিল । তার পর—এখন কোথায় সে চাদ, কি দোষে তাকে নগেন্দ্র পায়ে ঠেলিয়াছেন ? কুন্দ এই কথা রাত্রিদিন ভাবে, রাত্রিদিন কাদে। ভাল, নগেন্দ্ৰ নাই ভালবাস্থন—তাকে ভালবাসিবেন, কুন্দের এমন কি ভাগ্য—একবার কুন্দ তাকে দেখিতে পায় না কেন ? শুধু তাই কি ? তিনি ভাবেন, কুন্দই এই বিপত্তির মূল, সকলেই ভাবে, কুন্দই অনর্থের মূল। কুন্দ ভাবে, কি দোষে আমি সকল অনর্থের মূল । কুক্ষণে নগেন্দ্র কুন্দকে বিবাহ করিয়াছিলেন । যেমন উপাস বৃক্ষের তলায় যে বসে, সেই মরে, তেমনি এই বিবাহের ছায়া যাহাকে স্পর্শ করিয়াছে, সেই মরিয়াছে। আবার কুন্দ ভাবিত, “স্বৰ্য্যমুখীর এই দশা আম হতে হইল। স্বৰ্য্যমুখী আমাকে রক্ষা করিয়াছিল ষে উদ্যানে মালী নাই—ঘাসে পরিপূর্ণ হইয়৷ গিয়াছে, সেখানে যেমন কখনও একটি গোলাপ কি একটি স্থলপদ্ম ফুটে, এই গৃহমধ্যে তেমনি একা কুন্দনন্দিনী বাস করিতেছিল । যেমন আর পাঁচ জনে ; খাইত পরিত, কুন্দও তাই । যদি কেহ তাহাঁকে গৃহিণী ভাবিয়া কোন কথা কহিত, কুন্দ ভাবিত, আমায় তামাসা করিতেছে। দেওয়ানজী যদি কোন কথা জিজ্ঞাসা করিয়া পাঠাইতেন, ভয়ে কুন্দের বুক ছড়-দুড় করিত। বাস্তবিক কুন্দ দেওয়ানজীকে বড় — আমাকে ভগিনীর দ্যায় ভালবাসিত—তাহাকে পথের কাঙ্গালী করিলাম ; আমার মত অভাগিনী কি আর আছে ? আমি মরিলাম না কেন ? এখন মরি ন কেন ? আবার ভাবিত, “এখন মরিব না । তিনি আমুন —তাকে আর একবার দেখি —তিনি কি আর আসিবেন না ?” কুন্দ স্বৰ্য্যমুখীর মৃত্যুসংবাদ পায় নাই। তাই মনে মনে বলিত, “এখন শুধু শুধু মরিয়া কি হইবে ? যদি স্বৰ্য্যমুখী ফিরিয়া আসে, তবে মরিব । আর তার সুখের পথে কাটা হব না।” gভয় করিত। ইহার একটি কারণও ছিল। নগেন্দ্র কুন্দকে পত্র লিখিতেন না ; সুতরাং নগেন্দ্র দেওয়ান কুঁজীকে যে পত্রগুলি লিখিতেন, কুন্দ তাছাই চাহিয়া ত্ৰিচত্বারিংশত্তম পরিচ্ছেদ শুমানিয়া পড়িত। পড়িয়া আর ফিরাইয়া দিত না —সেইগুলি পাঠ তাহার সন্ধ্যাগায়ত্রী হইয়াছিল। সৰ্ব্বদা ভয়, পাছে দেওয়ান পত্রগুলি ফিরাইয়া চায়। এই ভয়ে দেওয়ানের নাম শুনিলেই কুন্দের মুখ -দেওয়ান হীরার কাছে এ কথা জানিয়া هي عبد * ন। পত্রগুলি আর চাহিতেন না। আপনি নকল রাখিয়া কুন্দকে পড়িতে দিতেন । বাস্তবিক স্বৰ্য্যমুখী যন্ত্রণ পাইয়াছিলেন–কুন্দ কি পাইতেছে না ? স্বৰ্য্যমুখী স্বামীকে ভালবাসিতেন —কুমা কি বাসে না ? সেই ক্ষুদ্র হৃদয়খানির মধ্যে অপরিমিত প্রেম | প্রকাশের শক্তি নাই বলিয়া, তাহা বিরুদ্ধ বায়ুর স্তায় সতত কুদেৱলে হৃদয়ে আঘাত করিত। বিবাহের অগ্রে, বাল্যকৃগিৰিধি কুল নগেন্দ্রকে প্রত্যাগমন কলিকাতার অবিশু্যক কাৰ্য্য সমাপ্ত হইল। দানপত্র লিখিত হইল। তাহাতে ব্ৰহ্মচারীর এবং অজ্ঞাতনাম ব্রাহ্মণের পুরস্কারের বিশেষ বিধি রহিল। তাহা হরিপুরে রেজিষ্ট্ৰী হইবে, এই কারণে দানপত্র সঙ্গে করিয়া নগেন্দ্র গোবিন্দপুরে গেলেন । শ্ৰীশচন্দ্রকে যথোচিত যানে অমুসরণ করিতে উপদেশ দিয়া গেলেন । ঐশচন্দ্র তাহাকে দানপত্রদির ব্যবস্থা এবং পদব্রজে গমন ইত্যাদি কাৰ্য্য হইতে বিরত করিবার জন্য অনেক ষত্ব করিলেন, কিন্তু সে যত্ন নিষ্ফল হইল । অগত্য তিনি নদীপস্থায় তাহার অনুগামী হুইলেন । মন্ত্রী ছাড়া হইলে কমলমণির চলে না, স্বতরাং তিনিও