পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


HO হেমচন্দ্র গৃহের বাহিরে আসিলেন । মনোরম র্তাহার সঙ্গে সঙ্গে আসিল । তখন হেমচন্দ্র মনোরমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,—“আমি রুদ্ধ হইয়াছিলাম কেন ?" ম। তাহা পরে বলিব । হে । ষে ব্যক্তি আমাকে রুদ্ধ করিয়াছিল, সে কে ? ম । শান্তশীল । হে ৷ শান্তশীল কে ? ম। চেীরোদ্ধরণিক । হে । এই কি তাহার বাড়ী ? ম। না । হে । এ কাহার বাড়ী ? ম। পরে বলিব । হে। যবন কোথায় গেল ? ম। শিবিরে গিয়াছে । হে। শিবির ! কত যবন আসিয়াছে ? ম। পচিশ হাজার । হে । কোথায় তাহীদের শিবির ? ম । মহাবনে । হে ৷ মহাবন কোথায় ? ম। এই নগরের উত্তরে কিছু দূর । হেমচন্দ্র করলগ্নকপোল হইয়া ভাবিতে লাগিলেন । মনোরম কহিল, “তাবিতেছ কেন ? তুমি কি তাহাদিগের সহিত যুদ্ধ করিবে ?” হে। পচিশ হাজারের সঙ্গে একের যুদ্ধ সম্ভবে ? ম। তবে কি করিবে—ঘরে ফিরিয়া যাইবে ? হে । এখন ঘরে যাব না । ম। কোথায় যাইবে ? হে ৷ মহাবনে । ম। যুদ্ধ করিবে না, তবে মহাবনে যাইবে কেন ? হে। যবনদিগকে দেখিতে । ম। যুদ্ধ করিবে না, তবে দেখিয়া কি হইবে ? হে । দেখিলে জানিতে পারিব, কি উপায়ে তাহাদিগকে মারিতে পারিব । মনোরম। চমকিয়া উঠিলেন । কহিলেন, “বিশ হাজার মানুষ মারিবে ? কি সৰ্ব্বনাশ ! ছি ছি!” ছে । মনোরমা, তুমি এ সকল সংবাদ কোথায় পাইলে ? ম । অারও সংবাদ অাছে । আজ রাত্রিতে তোমাকে মারিবার জন্য তোমার ঘরে দক্ষ আসিবে । আজি ঘরে যাইও না 7 এই বলিয়া মনোরম উৰ্দ্ধশ্বাসে পলায়ন করিল। বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী দ্বাদশ পরিচ্ছেদ অতিথি-সৎকার হেমচন্দ্র গৃহে প্রত্যাগমন করিয়া, এক সুন্দর অশ্ব সজ্জিত করিয়৷ তদুপরি আরোহণ করিলেন এবং অশ্বে কশাঘাত করিয়া মহাবনাভিমুখে যাত্রা করিলেন । নগর পার হইলেন ; তৎপরে প্রান্তর। প্রাস্তরেরও কিয়দংশ পার হইলেন, এমন সময়ে অকস্মাৎ স্কন্ধদেশে গুরুতর বেদন পাইলেন । দেখিলেন, স্কন্ধে একটি তীর বিদ্ধ হইয়াছে ; পশ্চাতে অশ্বের পদধ্বনি শ্রত হইল। ফিরিয়া দেখিলেন, তিন জন অশ্বারোহী আসিতেছে । - হেমচন্দ্র ঘোটকের মুখ ফিরাইয়া, তাহাদিগের প্রতীক্ষা করিতে লাগিলেন । ফিরিবামাত্র দেখিলেন, প্রত্যেক অশ্বারোহী তাহাকে লক্ষ্য করিয়া এক এক শরসন্ধান করিল। হেমচন্দ্র বিচিত্র শিক্ষাকৌশলে করস্থ শূলান্দোলন দ্বারা তীরত্রয়ের আঘাত এককালে নিবারণ করিলেন । অশ্বারোহিগণ পুনৰ্ব্বার একেবারে শরসংযোগ করিল এবং তাহ নিবারিত হইতে না হইতেই পুনবর্বর শরত্রয় ত্যাগ করিল। এইরূপ অবিরতহস্তে হেমচন্দ্রের উপর বাণক্ষেপ করিতে লাগিল । হেমচন্দ্র তখন বিচিত্র রত্নাদিমণ্ডিত চৰ্ম্ম হস্তে লইলেন এবং তৎসঞ্চালন দ্বারা অবলীলাক্রমে সেই শরজtলবর্ষণ নিবারণ করিতে লাগিলেন ; কদাচিৎ দুই এক শ্বর অশ্ব-শরীরে বিদ্ধ হইল মাত্র । স্বয়ং অক্ষত রহিলেন । বিস্মিত হইয়া অশ্বারোহিত্রয় নিরস্ত হইল। পরস্পরে কি পরামর্শ করিতে লাগিল । হেমচন্দ্র সেই অবকাশে এক জনের প্রতি এক শর ত্যাগ করিলেন । সে অব্যর্থ সন্ধান ! শর এক জন অশ্বারোহীর ললাট মধ্যে বিদ্ধ হইল । সে অমনি অশ্বপৃষ্ঠচু্যত হইয়া ধরা তলশায়িত হুইল । - তৎক্ষণাৎ অপর দুই জনে অশ্বে কশাঘাত করিয়া, শূলযুগল প্রণত করিয়া হেমচন্দ্রের প্রতি ধাবমান হইল এবং শূলক্ষেপযোগ্য নৈকট্য প্রাপ্ত হইলে শূলক্ষেপ করিল। যদি তাহারা হেমচন্দ্রকে লক্ষ্য করিয়া শূলত্যাগ করিত, তবে হেমচন্দ্রের বিচিত্র শিক্ষায় তাহ নিবারিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু তাহা না করিয়া আক্রমণকারীরা হেমচন্দ্রের অশ্বপ্রতি লক্ষ্য করিয়া শূলত্যাগ করিয়াছিল। ততদুর অধঃপৰ্য্যন্ত হস্তসঞ্চীলনে হেমচন্দ্রের বিলম্ব হইল। একের শূল নিবারিত