পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& e সমভিব্যাহারী এক জন ভাষাজ্ঞ ব্যক্তি বলিয়া দিতে লাগিল, “ইহারা যবন রাজার দূত ” এই বলিয়। ইহারা প্রাস্তপাল ও কোষ্ঠপালদিগের নিকট পরিচয় দিয়াছিল—এবং পশুপতির অঙ্কিাত্ৰমে সেই পরিচয়ে . নিৰ্ব্বিয়ে নগরমধ্যে প্রবেশলাভ করিল। সপ্তদশ অশ্বারোহী রাজদ্বারে উপনীত হইল । বৃদ্ধরাজার শৈথিল্য আর পশুপতির কৌশলে রাজপুরী প্রায় রক্ষকহীন । রাজসভা ভঙ্গ হইয়াছিল—পুরীমধ্যে কেবল পৌরজন ছিল মাত্র-আল্পসংখ্যক দৌবারিক দ্বার রক্ষা করিতেছিল। এক জন দৌবারিক জিজ্ঞাসা করিল, “তোমরা কি জন্ত আসিয়াছ ?” যবনের উত্তর করিল, “আমরা যবন রাজপ্রতিনিধির দুত ; গোঁড়রাজের সহিত সাক্ষাৎ করিব।” দেীবারিক কহিল, “মহারাজাধিরাজ গৌড়েশ্বর এক্ষণে অন্তঃপুরে গমন করিয়াছেন—এখন সাক্ষাৎ হইবে না ।” যবনের নিষেধ না শুনিয়া মুক্ত দ্বারপথে প্রবেশ করিতে উদ্যত হইল । সৰ্ব্বাগ্রে এক জন খৰ্ব্বকায় দীর্ঘবাহু কুরূপ যবন । দুর্ভাগ্যবশতঃ দৌবারিক তাহার গতিরোধ জন্য শুলহস্তে তাহার সম্মুখে ট্রাড়াইল । কহিল, “ফের—নচেৎ এখনই মারিব।” “আপনিই তবে মর!” এই বলিয়া ক্ষুদ্রকায় যবন দেীবারিককে নিজ করন্থ তরবারে ছিন্ন করিল। দেীবারিক প্রাণত্যাগ করিল। তখন আপন সঙ্গীদিগের মুখাবলোকন করিয়া ক্ষুদ্রকায় যবন কহিল, *এক্ষণে আপন আপন কাৰ্য্য কর ।* আমনি বাক্যহীন • ষোড়শ অশ্বারোহীদিগের মধ্য হইতে ভীষণ জয়ধ্বনি সমুখিত হইল। তখন সেই যোড়শ যবনের কটিবন্ধ হইতে ষোড়শ অসিফলক নিস্কোষিত হইল –এবং অশনিসম্পাতসদৃশ তাহারা দৌবারিকদিগকে আক্রমণ করিল। দৌবারিকের রণসজ্জায় ছিল না— অকস্মাৎ নিরুদ্যোগে আক্রান্ত হইয়। আত্মরক্ষার কোন চেষ্টা করিতে পারিল না—মুহূৰ্ত্তমধ্যে সকলেই निहङ इङ्ग्रेठा । ক্ষুদ্রকায় যবন কহিল, “যেখানে যাহাকে পাও, বধ কর । পুরী অরক্ষিতা—বৃদ্ধ রাজাকে বধ কর।” তখন ষবনের পুরমধ্যে তাড়িতের ন্তায় প্রবেশ করিয়া বালবৃদ্ধবনিতা পৌরজন যেখানে যাহাকে দেখিল, তাহাকে অসি দ্বারা ছিন্নমস্তক, অথবা শূলাগ্রে বিদ্ধ করিল। পৌরজন তুমুল আৰ্ত্তনাদ করিয়া ইতস্ততঃ পলায়ন করিতে লাগিল । সেই ঘোর আর্তনাদ অন্তঃপুরে ৰথ বৃদ্ধ রাজা ভোজন করিতেছিলেন, তথা প্রবেশ বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী করিল। তাছার মুখ শুকাইল । জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি ঘটিয়াছে—ষবন আসিয়াছে ?” পলায়নতৎপর পৌরজনেরা কহিল, “যবন সকলকে বধ করিয়া আপনাকে বধ করিতে আসিতেছে ।” কবলিত অল্পগ্রাস রাজার মুখ হইতে পড়িয়া গেল । তাহার শুষ্ক শরীর জলস্রোতঃপ্ৰহত বেতসের দ্যায় কঁাপিতে লাগিল । নিকটে রাজমহিষী ছিলেন —রাজা ভোজনপাত্রের উপর পড়িয়। যান দেখিয়া মহিষী তাহার হস্ত ধরিলেন ; কহিলেন,-“চিস্তা নাই—আপনি উঠুন " এই বলিয়া তাহার হস্ত ধরিয়া তুলিলেন। রাজা কলের পুত্তলিকার স্তায় দাড়াইয়া উঠিলেন । মহিষী কহিলেন, “চিন্তু কি ? নৌকায় সকল দ্রব্য গিরাছে, চলুন, আমরা খিড়কীদ্বার দিরা সোনারগ। যাত্রা করি ।” এই বলিয়া মহিষী রাজার অধৌত হস্ত ধারণ করিয়া খিড়কীদ্বারপথে সুবর্ণগ্রাম যাত্রা করিলেন । সেই রাজকুলকলঙ্ক, অসমর্থ রাজার সঙ্গে গৌড়রাজ্যের রাজলক্ষ্মীও যাত্র করিলেন । ষোড়শ সহচর লইয়া মৰ্কটাকার বখতিয়ার খিলিজি গৌড়েশ্বরের রাজপুরী অধিকার করিল। যষ্টি বৎসর পরে যবন ইতিহাসবেত্ত মিনহাজউদ্দীন এইরূপ লিথিয়াছিলেন । ইহার কতদুর সত্য, কত দুর মিথ্যা, তাহা কে জানে। যখন মনুষ্যের লিখিত চিত্রে সিংহ পরাজিত, মনুষ্য সিংহের অপমানকর্তৃ স্বরূপ চিত্রিত হইয়াছিল, তখন সিংহের হস্তে চিত্রফলক দিলে কিরূপ চিত্র লিখিত হুইত ? মনুষ্য মূষিকতুল্য প্রতীয়মান হইত সন্দেহ নাই। মন্দভাগিনী বঙ্গভূমি সহজেই দুৰ্ব্বল, আবার তাহাতে শক্রহস্তে চিত্রফলক। পঞ্চম পরিচ্ছেদ জাল ছিড়িল গৌড়েশ্বরপুরে অধিষ্ঠিত হইয়াই বখতিয়ার খিলিজি ধৰ্ম্মাধিকারের নিকট দূত প্রেরণ করিলেন। ধৰ্ম্মাধিকারের সহিত সাক্ষাতের অভিলাষ জানাইলেন। র্তাহার সহিত যবনের সন্ধিবন্ধন হইয়াছিল, তাহার ফলোৎপাদনের সময় উপস্থিত। পশুপতি ইষ্টদেবীকে প্রণাম করিয়া, কুপিতা মনোরমার নিকট বিদায় লইয়া, কদাচিৎ উল্পালিত i