পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


婚 মৃণালিনী দুর্গাদাস কছিলেন, “র্তাহার পত্নী ৰহুকাল নিরুদ্দিষ্টা, আপনি কি প্রকারে তাহার স্ত্রী ?” যুবতী কহিলেন, “আমি সেই নিরুদ্দিষ্ট কেশবকন্যা । অমুমরণভয়ে পিতা আমাকে এতকাল লুক্কায়িত রাখিয়াছিলেন । আমি আজ কালপূর্ণে বিধিলিপি পুরাইবার জন্য আসিয়াছি।” শুনিয়া পিতাপুত্রে শিহরিয়া উঠিলেন । র্তাহদিগকে নিরুত্তর দেখিয়া বিধবা বলিতে লাগিলেন, “এখন স্ত্রীজাতির কৰ্ত্তব্য কাজ করিব । তোমরা উদ্যোগ কর।” দুর্গাদাস তরুণীর অভিপ্রায় বুঝিলেন । পুত্রের মুখ চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি বল ?” পুত্র কিছু উত্তর করিল না । দুর্গাদাস তখন তরুণীকে কহিলেন, “মা, তুমি বালিকা—এ কঠিন কার্য্যে যেন প্রস্তুত হইতেছ?” তরুণী ক্রভঙ্গী করিয়া কহিলেন, "ব্ৰাহ্মণ হইয়৷ অধৰ্ম্মে প্রবৃত্তি দিতেছ কেন ?—ইহার উদ্যোগ কর।” তখন ব্রাহ্মণ আয়োজন জন্য নগরে পুনৰ্ব্বার চলিলেন । গমনকালে বিধবা দুর্গাদাসকে কহিলেন, “তুমি নগরে যাইতেছ। নগর প্রান্তে রাজার উপবনবাটিকায় হেমচন্দ্র নামে বিদেশী রাজপুত্র বাস করেন । র্তাহাকে বলিও, মনোরম। গঙ্গাতীরে চিতারোহণ করিতেছে—তিনি আসিয়া একবার তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া যাউন, তাহার নিকট ইহুলোকে মনোরমার এইমাত্র ভিক্ষা ।” হেমচন্দ্র যখন ব্রাহ্মণমুখে শুনিলেন যে, মনোরম পশুপতির পত্নীপরিচয়ে তাহার অনুমৃত হইতেছেন, তখন তিনি কিছুই বুঝিতে পারিলেন না । দুর্গাদাসের সমভিব্যাহারে গঙ্গাতীরে আসিলেন । তথায় মনোরমার অতিমলিন, উন্মাদিনীমূৰ্ত্তি, তাহার স্থির গম্ভীর, এখনও অনিন্দ্যসুন্দর মুখকাস্তি দেখিয়া তাহার চক্ষুর জল আপনি বহিতে লাগিল। তিনি বলিলেন, “মনোরম ৷ ভগিনি ! এ কি এ ?” در ایران) ভখন মনোরম জ্যোৎক্ষাপ্রদীপ্ত সরোবর তুল্য স্থিরমূৰ্ত্তিতে মৃদুগম্ভীরস্বরে কহিলেন, “ভাই, যে জন্য আমার জীবন, তাহা আজি চরম সীমা প্রাপ্ত হইয়াছে । আজ আমি আমার স্বামীর সঙ্গে গমন করিব * মনোরমা সংক্ষেপে অন্তের শ্রবণাতীত স্বরে হেমচন্দ্রের নিকট পূৰ্ব্বকথার পরিচয় দিয়া বলিলেন,— *আমার স্বামী অপরিমিত ধনসঞ্চয় করিয়া রাখিয়া গিয়াছেন । আমি এক্ষণে সে ধনের অধিকারিণী । আমি তাহা তোমাকে দান করিতেছি । তুমি তাহা গ্রহণ করিও । নচেৎ পাপিষ্ঠ যবনে তাহা ভোগ করিবে । তাহার অল্পভাগ ব্যয় করিয়া জনাৰ্দ্দন শৰ্ম্মাকে কাশীধামে স্থাপন করিবে । জনাৰ্দ্দনকে অধিক ধন দিও না । তাহ হইলে যবনে কাড়িয়া লষ্টবে। আমার দাহের পর তুমি আমার স্বামীর গৃহে গিয়া অর্থের অনুসন্ধান করিও । আমি যে স্থান বলিয়া দিতেছি, সেই স্থান খুঁড়িলেই তাহ পাইবে । আমি ভিন্ন সে স্থান আর কেহই জানে ন৷ ” এই বলিয়া মনোরম যথা অর্থ আছে, তাহ বলিয়া দিলেন । তখন মনোরম আবার হেমচন্দ্রের নিকট বিদায় হইলেন । জনাৰ্দ্দনকে ও র্তাহার পত্নীকে উদ্দেশে প্রণাম করিয়া হেমচন্দ্রের দ্বারা তাহাদিগের নিকট কত স্নেহসূচক কথা বলিয়া পাঠাইলেন । পরে ব্রাহ্মণের মনোরমাকে যথাশাস্ত্র এই ভীষণ ব্লতে ব্ৰতী করাইলেন এবং শাস্ত্রীয় আচারাস্তে, মনোরম। ব্রাহ্মণের আনীত নুতন বস্ত্র পরিধান করি লেন । নববস্ত্র পরিধান করিয়া, দিব্য পুষ্পমালা কণ্ঠে পরিয়া, পশুপতির প্রজ্বলিত চিতা প্রদক্ষিণ পূৰ্ব্বক তদুপরি আরোহণ করিলেন, এবং মহাস্ত আনলে সেই প্রজ্বলিত হুতাশনরাশির মধ্যে উপবেশন করিয়া, নিদাঘসন্তগু কুসুমকলিকার স্তায় অনলতাপে প্রাণত্যাগ করিলেন ।