পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিয়া টাকা দিত। ফিরাইয়া দিতে গেলে বলিত,— ‘ও আমার টাকা নয়’,—দুইবার বলিতে গেলে গালি দিয়া তাড়াইয় দিত। তাহার দানের কথা মুখে আনিলে মারিতে আসিত । বাস্তবিক রামসদয় বাবুর ঘর না থাকিলে, আমাদিগের দিনপাত হইত না । তবে যাহা রয় সয়,-ভাই বলিয়া, মাত৷ লবঙ্গের কাছে অধিক লইতেন না । দিনপাত হইগেই আমরা সন্তুষ্ট থাকিতাম । লবঙ্গলতা আমাদিগের . নিকট রাশি রাশি ফুল কিনিয়। রামসদয়কে সাজাইত—সাজাইয়া বলিত, “দেখ রতিপতি!” রামসদয় বলিত, “দেখ, সাক্ষাৎ— অঞ্জনানন্দন ৷” সেই প্রাচীনে নবীনে মনের মিল ছিল, দর্পণের মত দুই জনে দুই জনের মন দেখিতে পাইত। তাহদের প্রেমের পদ্ধতিটা এইরূপ— রামসদয় বলিত, “ললিতলবঙ্গলতাপরিশী—?” লবঙ্গ আঞ্জে, ঠাকুরদাদামহাশয়, দাসী ছাজির । রাম । আমি যদি মরি ? লবঙ্গ । “আমি তোমার বিষয় খাইব । লবঙ্গ মনে মনে বলিত, “আমি বিষ খাইব ।” রামসদয় তাহা মনে মনে জানিত । লবঙ্গ এত টাকা দিত, তবে বড়বাড়ীতে ফুল যোগান দুঃখ কেন ? শুন । এক দিন মা’র জর । অন্তঃপুরে বাবা যাইতে পারিবেন না—তবে আমি বৈ আর কে লবঙ্গলতাকে ফুল দিতে যাইবে ? আমি লবঙ্গের জন্ত ফুল লইয়া চলিলাম । অন্ধ হই, যা-ই হই—কলিকাতার রাস্তা সকল আমার নখদর্পণে ছিল । বেত্ৰহস্তে সৰ্ব্বত্র যাইতে পারিতাম, কখন গাড়ী ঘোড়ার সম্মুখে পড়ি নাই । অনেকবার পদচারীর ঘাড়ে পড়িয়াছি বটে— তাহার কারণ, কেহ কেহ অন্ধযুবতী দেখিয়া সাড়া দেয় না, বরং বলে, "অ মলে, দেখতে পাসনি ? কাণ না কি ?” আমি ভাবিতাম, "উভয়তঃ ” ফুল লইয়া গিয়া লবঙ্গের কাছে গেলাম। দেখিয়া লবঙ্গ বলিলেন, “কি লো কাণী,—আবার ফুল লইয়া মৰ্বতে এসেছিস কেন ?” কাণী বলিলে আমার হাড় জলিয়া যাইত—আমি কি কদৰ্য্য উত্তর দিতে যাইতেছিলাম ; এমন সময় সেখানে হঠাৎ কাহার পদধ্বনি শুনিলাম—কে আসিল । যে আসিল—সে বলিল, "এ কে ছোট মা ?” ছোট যা –ভবে রামসদয়ের পুস্ত্র । রামসদয়ের cरून् श्रूय ? बर्फ़ भूखब्र क% ७क निम ब्रडेनेौ . 股· শুনিয়াছিলাম, সে এমন অমৃতময় নছে—এমন করিয়া কৰ্ণবিবর ভরিয়া সুখ ঢালিয়া দেয় নাই । বুঝিলাম, এ ছোট বাবু । ছোট মা বলিলেন,–এবার বড় মৃত্ত্বকণ্ঠে বলিলেন,—“ও কাণ ফুলওয়ালী।” “ফুলওয়ালী ? আমি বলি বা কোন ভদ্রলোকের মেয়ে ” লবঙ্গ বলিলেন, “কেন গা, ফুলওয়ালী হইলে কি ভদ্রলোকের মেয়ে হয় না ?” ছোট বাবু অপ্রতিভ হইলেন । বলিলেন, “হৰে না কেন ? এটি ত ভদ্রলোকের মেয়ের মত বোধ হইতেছে। ত ওটি কাণ হ’লো কিসে ?” লবঙ্গ ৷ ও জন্মান্ধ । ছোট বাবু। দেখি ? ছোট বাবুর বড় বিদ্যার গৌরব ছিল । তিনি অন্যান্য বিদ্যাও সেরূপ যত্নের সহিত শিক্ষা করিয়াছিলেন, অর্থের প্রত্যাশী না হইয়া চিকিৎসাশাস্ত্রেও সেইরূপ যত্ন করিয়াছিলেন । লোকে রাষ্ট্র করিত ষে, শচীন্দ্র বাবু (ছোট বাবু) কেবল দরিদ্রগণের বিনামূল্যে চিকিৎসা করিবার জন্য চিকিৎসা শিখিতেছিলেন । “দেখি” বলিয়া আমাকে বলিলেন, "একবার দাড়াও ত গ৷ ” আমি জড়সড় হইয়া দাড়াইলাম । ছোট বাবু বলিলেন, “আমার দিকে চাও ” চাব কি ছাই ! “আমার দিকে চোখ ফিরাও * কাণ চোখে শব্দভেদী বাণ মারিলাম । ছোট বাবুর মনের মত হইল না, তিনি আমার দাড়ি ধরিয়া মুখ ফিরাইলেন । ডাক্তারির কপালে আগুন জেলে দি । সে চিবুকম্পর্শে আমি মরিলাম । সে স্পর্শ পুষ্পময় । সেই স্পর্শে যুখী, জাতি, মল্লিকা, শেফালিকা, কামিনী, গোলাপ, সেউতি— সব ফুলের ঘ্রাণ পাইলাম । বোধ হইল, আমার আশে পাশে ফুল, আমার মাথায় ফুল, আমার পায়ে ফুল—আমার পরনে ফুল, আমার বুকের ভিতর ফুলের রাশি । আ মরি মরি ! কোনূ বিধাতা এ কুসুমময় স্পর্শ গড়িয়াছিল ! বলিয়াছি ত, কাণার সুখ-দুঃখ তোমরা বুঝিবে না । আ মরি মরি— সে নবনীভ-স্নকুমার পুষ্পগন্ধময় বীণাধানিবৎ স্পর্শ। । বীণাধবনিবৎ স্পর্শ, যার চোখ আছে, সে বুঝিৰে। কি প্রকারে ? আমার সুখ-দুঃখ আমাতেই থাকুক, যখন সেই স্পর্শ মনে পড়িত, তখন কত বীণাধৰনিৰৎ