পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


هك গণিকাগণের কদর্ঘ্য চরিত্রের গুণগান মুখকর, না দেবতাদিগের অসীম মহিমাগান সুখকর ? হারিয়া দ্বিতীয় উত্তরে গেলাম । বলিলাম, “কোকিল গায় কোকিল পত্নীকে মোহিত করিবার জন্য। মোহনার্থ যে শারীরিক স্মৃত্ত্বি, তাছাতে জীবের মুখ। কণ্ঠস্বরের স্ফুৰ্ত্তি সেই শারীরিক ফুৰ্ত্তির অন্তর্গত । আপনি কাহাকে মুগ্ধ করিতে চাহেন ?” সন্ন্যাসী হাসিয়া বলিলেন, “আমার আপনার মনকে । মন আত্মার অনুরাগী নহে, আত্মার হিত কারী নহে । তাহাকে বশীভূত করিবার জন্য গাই ।” আমি । আপনার দার্শনিক, মন এবং আত্মা পৃথক বলিয়া মানেন । কিন্তু মন একটি পৃথকৃ, আত্মা একটি পৃথক পদার্থ, ইহা মানিতে পারি না। মনেরই ক্রিয়াতে দেখিতে পাই—ইচ্ছা, প্রবৃত্ত্যাদি আমার মনে । সুখ আমার মনে, দুঃখ আমার মনে ; তবে আবার মনের অতিরিক্ত আত্মা কেন মানিব ? যাহার ক্রিয়া দেখি, তাহাকেই মানিব ; যাহার কোন চিহ্ন দেখি না, তাহাকে মানিব কেন ? স। তবে বল না কেন, মন ও শরীর এক । শরীর ও মনের প্রভেদ কেন মানিব ? যে কিছু কাৰ্য্য করিতেছ, সকলই শরীরের কার্য্য—কোনটি মনের কার্য্য ? আমি । চিস্তা-প্রবৃত্তি-ভোগাদি । স। কিসে জানিলে, সে সকল শারীরিক ক্রিয়া নহৈ ? আমি । তাহাও সত্য বটে । ক্রিয় ৯ মাত্র । স। ভাল ভাল । তবে আর একটু এসো। ৰল না কেন যে, শরীরও পঞ্চভূতের ক্রিয়া মাত্র। গুনিয়াছি, তোমরা পঞ্চভূত মান না—তোমরা বহুভূতবাদী । তাই হউক, বল না কেন যে, ক্ষিত্যাদি বা অন্ত ভূতগণ, শরীর রূপ ধারণ করিয়া সকলই করিতেছে ? এই যে তুমি আমার সঙ্গে কথা কহিতেছ—আমি বলি যে, কেবল ক্ষিত্যাদি আমার সম্মুখে দাড়াইয়া শব্দ করিতেছে, শচীন্দ্রনাথ নহে। *ন ও শরীরাদির কল্পনার প্রয়োজন কি ? ক্ষিত্যাদি ভিন্ন শচীন্দ্রনাথের অস্তিত্ব মানি না । হারিয়া ভক্তিভাবে সন্ন্যাসীকে প্রণাম করিয়া উঠিয়া গেলাম। কিন্তু সেই অবধি সন্ন্যাসীর সঙ্গে একটু সম্প্রীতি হইল। সৰ্ব্বদা তাহার কাছে আসিয়া ঘসিতাম এবং শাস্ত্রীয় আলাপ করিতাম। দেখিলাম, মন শরীরের a Function of the brain. বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী সন্ন্যাসীর অনেক প্রকার ভণ্ডামী অাছে। সন্ন্যাসী ঔষধ বিগায়, সন্ন্যাসী হাত দেখিয়া গণিয়া ভবিষ্যৎ বলে, সন্ন্যাসী যাগ-হোমাদিও মধ্যে মধ্যে করিয়া থাকে —নল চালে, চোর বলিয়া দেয়, আরও কত ভণ্ডামী করে । এক দিন আমার অসহ হইয়া উঠিল । এক দিন আমি তাহাকে বলিলাম, “আপনি মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত ; আপনার এ সকল ভণ্ডামী কেন ?” স। কোনটা ভণ্ডামী ? আমি । এই নলচাল, হাতগণ প্রভৃতি । স। কতকগুলা আনিশ্চিত বটে, কিন্তু তথাপি কর্তব্য । আমি । য{হ অনিশ্চিত জানিতেছেন, তদ্বারা লোককে প্রতারণা কেন করেন ? স । তোমরা মড়া কাট কেন ? আমি । শিক্ষার্থ। স ! য হার শিক্ষিত, তাহারা কাটে কেন ? আমি । তত্ত্বাতুসন্ধান জন্য । স । আমরাও তত্ত্বানুসন্ধান জন্ত এ সকল করিয়া থাকি । শুনিয়াছি, বিলাতী পণ্ডিতের মধ্যে অনেকে বলেন, লোকের মাথার গঠন দেখিয়া তাঙ্গার চরিত্রের কথা বলা যায় । যদি মাথার গঠনে চরিত্র বলা যায়, তবে হাতের রেখা দেখিয়াই বা কেন না বলা যাইবে ? ইহা মানি যে, হাতের রেখা দেখিয়া কেন্থ এ পর্য্যস্ত ঠিক বলিতে পারে নাই, ইহার কারণ এই হইতে পারে যে, ইহার প্রকৃত সঙ্কেত অদ্যাপি পাওয়া যায় নাই, কিন্তু ক্রমে ক্রমে হাত দেখিতে দেখিতে প্রকৃত সঙ্কেত পাওয়া ধাইতে পারে । এ জন্য হাত পাইলেই দেখি । আমি । আর নলচtলা ? ল। তোমরা লৌহের তারে পৃথিবীময় লিপি চালাইতে পার, আমরা কি নলটি চালাইতে পারি না ? তোমাদের একটি ভ্রম আছে, তোমরা মনে কর ষে, যাহা ইংরেঞ্জেরা জানে, তাহাই সত্য, যাহা ইংরেজে জানে না, তাহাই অসভ্য, তাহা মনুষ্যজ্ঞানের অতীত, তাই অসাধ্য। বস্তুতঃ তাহা নহে । জ্ঞান অনন্ত । কিছু তুমি জান, কিছু আমি জানি, কিছু অন্তে জানে ; কিন্তু কেহই বলিতে পারে না যে, আমি সব জানি, আর কেহ আমার জ্ঞানের অতিরিক্ত কিছু জানে না। কিছু ইংরেজে জানে, কিছু আমাদের পূর্বপুরুষেরা জানিতেন। ইংরেজের যাহা জানে, ঋষিরা তাহা জানিতেন না ; ঋষিরা যাহ। জানিতেন, ইংরেজের এ.পৰ্য্যন্ত তাহা জানিতে পারেন