পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৩০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ল। তুমি আমার কে ? তা ত জানি না । এ পৃথিবীতে তুমি আমার কেন্তু নও। কিন্তু যদি লোকান্তর থাকে— লবঙ্গলতা আর কিছুই বলিল না । আমি ক্ষণেক অপেক্ষা করিয়া বলিলাম, “যদি লোকাস্তর থাকে, তবে ?” - লবঙ্গলতা বলিল, “আমি স্ত্রীলোক-সহজে দুৰ্ব্বলা। অামার কত বল, দেখিয়া তোমার কি হুইবে ? আমি ইহাই বলিতে পারি, আমি তোমার পরম মঙ্গলাকাজী " আমি বড় বিচলিত হইলাম, বলিলাম, “আমি সে কথায় বিশ্বাস করি । কিন্তু একটি কথ। আমি কখন বুঝিতে পারিলাম না । তুমি যদি আমার মঙ্গলাক{জক্ষী, তবে আমার গায়ে চিরদিনের জন্য এ কলঙ্ক লিখিয়া দিলে কেন ? এ যে মুছিলে যায় ন!—কখন মুছিলে যাইবে না ।" লবঙ্গ অধোবদনে রহিল। ক্ষণেক ভাবিল । বলিল, “তুমি কুকাজ করিয়াছিলে, আমিও বালিকা বুদ্ধিতেই কুকাজ করিয়াছিলাম। যাহার যে দণ্ড, বিধাতা তাহার বিচার করিবেন, আমি বিচারের কে ? এখন সে অনুতাপ অামার-- কিন্তু সে সকল কথা না বলাই ভাল । তুমি আমার সে অপরাধ ক্ষমা করিবে ?” আমি । তুমি ন বলিতেই আমি ক্ষমা করিয়াছি। ক্ষমাই বা কি ? উচিত দণ্ড করিয়াছিলে—তোমার অপরাধ নাই । আমি আর আসিব ন—আর কখন তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হইবে না । কিন্তু যদি কখনও ইহার পরে -শোন যে, অমরনাথ কুচরিত্র নহে, তবে তুমি আমার প্রতি একটু—অণুমাত্ৰ— স্নেহ করিবে ? ল। তোমাকে স্নেহ করিলে আমি অধৰ্ম্মে পতিত श्इंद । আমি । না, আমি সে স্নেহের ভিখারী আর নহি । তোমার এই সমুদ্রতুল্য হৃদয়ে কি আমার জন্য এতটুকু স্থান নাই ? ল। না,—যে আমার স্বামী না হইয়া একবার প্রণয়াকাঙ্ক্ষী হুইয়াছিল, স্বয়ং তিনি মহাদেব ইলেও তাহার জন্য আমার হৃদয়ে এতটুকু স্থান নাই । লোকে পাখী পুষিলে যে স্নেহ করে, ইহলোকে তোমার প্রতি আমার সে স্নেহ কখন হুইবে না। আবার “ইহলোকে ” ষাকৃ—আমি লবঙ্গের কথা বুঝিলাম কি না, বলিতে পারি না, কিন্তু লবঙ্গ রজনী 86t আমার কথা বুঝিল না, কিন্তু দেখিলাম, লবঙ্গ ঈষৎ, কঁাদিতেছে । আমি বলিলাম, “আমার যান্থা বলিবার অবশিষ্ট আছে, তাহা বলিয়া যাই । আমার কিছু ভূ-সম্পত্তি আছে, আমার তাহাতে প্রয়োজন নাই । তাঁহা আমি দান করিয়া যাইতেছি ।” ল। কাহাঁকে ? আমি । যে রজনীকে বিবাহ করিবে, তাহাকে ] ল। তোমার সমুদয় স্থাবর সম্পত্তি ? আমি । ইঁ, তুমি এই দানপত্র এক্ষণে তোমার কাছে অতি গোপনে রাখিবে । যত দিন ন! রজনীর বিবাহ হয়, তত দিন ইহার কথা গ্রকাশ করিও না । বিবাহ হইয়া গেলে রজনীর স্বামীকে দানপত্র দিও। এই কথা বলিয়া ললিতলবঙ্গল তার উত্তরের অপেক্ষা না করিয়া, দানপত্র আমি তাহার নিকট ফেলিয়া দিয়া চলিয়া গেলাম। আমি সকল বন্দোবস্ত ঠিক করিয়া আসিয়াছিলাম --তামি আর বাড়ী গেলাম না । একেবারে ষ্টেশনে গিয়া বাষ্পীয় শকটারোহণে কাশ্মীরষাত্রা করিলাম । দোকানপাট উঠিল । চতুর্থ পরিচ্ছেদ ইহার দুই বৎসর পরে, একদা ভ্ৰমণ করিতে করিতে আমি ভবানীনগর গেলাম । শুনিলাম যে, মিত্রবংশীয় কেহ তথায় বাস করিতেছেন । কৌতুহল প্রযুক্ত আমি দেখিতে গেলাম। দ্বারদেশে শচীন্দ্রের সহিত সাক্ষাৎ হুইল । শচীন্দ্র আমাকে চিনিতে পারিয়া নমস্কার আলিঙ্গন পূৰ্ব্বক আমার হস্ত ধারণ করিয়া লইয়া উত্তমাসনে বসাইলেন । অনেকক্ষণ র্তাহার সঙ্গে নানাবিধ কথোপকথন হইল। র্তাহার নিকট শুনিলাম যে, তিনি রজনীকে বিবাহ করিয়াছেন । কিন্তু রজনী ফুলওয়ালী ছিল, পাছে কলিকাতায় ইহাতে লোকে ঘৃণা করে, এই ভাবিয়া, তিনি কলিকাতা পরিত্যাগ করিয়া ভবানীনগরে বাস করিতেছেন । র্তাহার পিতা ও ভ্রাত কলিকাতাতেই বাস করিতেছেন । আমার নিজ সম্পত্তি প্রতিগ্রহণ করিবার জন্ত শচীন্দ্র আমাকে বিস্তর অনুরোধ করিলেন। কিন্তু বলা বাহুল্য যে, আমি তাহাতে স্বীকৃত হইলাম না, শেষে শচীন্দ্র রজনীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্ত আমাকে