পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজসিংহ আমি ষ্ট্রীয় সাত দিনের জবসর ভিক্ষা করি—সাত সাত দিন আমি আপনাদিগকে দেখিয়া শুনিয়া छाग्रब्र भडं दिर्मीब्र झझेद ” রাজা একটু কাদিলেন, স্বলিলেন, “দেখি, সেনাপতিকে অনুরোধ করিব, কিন্তু তিনি অপেক্ষা করিবেন কি না, বলিতে পারি না ।” রাজা অঙ্গীকার মত মোগলসেনাপতির কাছে নিবেদন জানাইলেন । সেনাপতি ভাবিয়া দেখিলেন, বাদশাহ কোন সময় নিরূপিত করিয়া দেন নাই— বলিয়া দেন নাই যে, এত দিনের মধ্যে ফিরিয়া আসিবে । কিন্তু সাভ দিন বিলম্ব করিতে তাহার সাহস হইল না ; ভবিষ্যৎ বেগমের অনুরোধ একেবারে অগ্রাহ করিতেও পারিলেন না। আর পাচ দিন অবস্থিতি করিতে স্বীকৃত হইলেন। চঞ্চলকুমারীর বড় একটা ভরসা জন্মিল না। এ দিকে উদয়পুর হইতে কোন সংবাদ আসিল ন!—মিশ্র ঠাকুর ফিরিলেন না—তখন চঞ্চলকুমারী উৰ্দ্ধমুখে, যুক্তকরে বলিল, “হে অনাথনাথ দেবাদিদেব ! অবলাকে বধ করিও না ।” রজনীতে নিৰ্ম্মল আসিয়া তাহার কাছে শয়ন করিল। সমস্ত রাত্রি দুই জনে দুই জনকে বক্ষে রাখিয়া রোদন করিয়া কাটাইল । নিৰ্ম্মল বলিল, *আমি তোমার সঙ্গে যাইব ।” কয়দিন ধরিয়া সে এই কথাই বলিতেছিল। চঞ্চল বলিল, “তুমি অামার সঙ্গে কোথায় যাইবে ? আমি মরিতে যাইতেছি ।” নিৰ্ম্মল বলিল, “আমিও মরিব । তুমি আমায় ফেলিয়া গেলেই কি আমি বঁাচিব ?” চঞ্চল বলিল, “ছি ! আমন কথা বলিও না-আমার দুঃখের উপর কেন দুঃখ বাড়াও ?” নিৰ্ম্মল বলিল, “তুমি আমাকে লইয়া যাও ব৷ না যাও, আমি নিশ্চয় তোমার সঙ্গে যাইব—কেহ রাখিতে পারিবে না।” দুই জনে কাদিয়া রাত্রি কাটাইল । অষ্টম পরিচ্ছেদ মেহেরজান যে কয় দিন মোগল সৈনিকের রূপনগরে শিবিরসংস্থাপন করিয়া রহিলেন, সে কয় দিন বড় আমোদপ্রমোদে কাটিল । মোগলসৈন্তের সঙ্গে সঙ্গে নৰ্ত্তকীর দল ছুটত ; যখন যুদ্ধ ন হইত, তখন তাম্বুর ভিতর নাচগানের ধুম পড়িত। সৈনিকদিগের রূপনগরে S)లి আসা কেবল আনন্দ করিতে আসা। সুতরাং রাত্রিতে তামুতে নৃত্যগীতের বড় ধূম । নর্তকীদিগের মধ্যে সহসা এক জনের নাম অত্যন্ত খ্যাতিলাভ করিল । দিল্লীতে কেহ কথন । মেহেরজানের নাম শুনে নাই—কিন্তু যাহাঁদের নাম প্রসিদ্ধ, তাহারাও রূপনগরে আসিয়া মেহেরজানের ' তুল্য ষশস্বিনী হইতে পারিল না । মেহেরজান আবার নৰ্ত্তকী হইয়াও সচ্চরিত্রা, এ জন্ত সে আরও • ষশস্বিনী হুইল । মোগলসেনাপতি সৈয়দ হাসান আলি তাহার সঙ্গীত শুনিতে ইচ্ছা করিলেন । কিন্তু মেহেরজান প্রথমে স্বীকৃত হইল না। বলিল, “আমি অনেক লোকের সাক্ষাতে নৃত্যগীত করিতে পারি না ।” সৈয়দ হাসান আলি স্বীকার করিলেন যে, বন্ধুবৰ্গ কেহ উপস্থিত থাকিবে না । নর্তকী আসিয়া তাহাকে নৃত্যগীত শুনাইল । তিনি অতিশয় প্রীত হইয়া নর্তকীকে অর্থ দিয়া পুরস্কৃত করিলেন। কিন্তু নর্তকী তাহা লইল না, বলিল, “আমি অর্থ চাহি না । যদি সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন, তবে আমি যে পুরস্কার চাই, তাহাই দিবেন। নহিলে কোন পুরস্কার চাহি না ।” সৈয়দ হাসান আলি জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কি পুরস্কার চাও?” মেহেরজান বলিল, “আমি আপনার আশ্বারোহী সৈন্তভুক্ত হইবার ইচ্ছা করি ” হাসান আলি অবাক্—হতবুদ্ধি হইয়া মেহেরজানের সুন্দর সহাস্ত মুখখানির প্রতি চাহিয়া রহিলেন । মেহেরজান তাহাকে নিরুত্তর দেখিয়া বলিল, “আমি ঘোড়া, হাতিয়ার, পোষাকের দাম দিব ।” হাসান আলি বলিল, “স্ত্রীলোক অশ্বারোহী সৈনিক ?” মেহেরজান বলিল, “ক্ষতি কি ? যুদ্ধ ত হইবে না, যুদ্ধ হইলেও পলাইব না ।" হাসান আলি। লোকে কি বলিবে ? মেহেরজান । আপনি আর আমি জানিলাম, অন্য কেহ জানিবে না । হাসান আলি । তুমি এ কমন কেন কর ? মেহেরজান । যে জন্যই হোঁক—বাদশাহের ইহাতে ক্ষতি নাই । - হাসান আলি প্রথমে কিছুতেই স্বীকৃত হইলেন না ; কিন্তু মেহেরজানও কিছুতেই ছাড়িল না । শেষে হাসান আলি স্বীকৃত হইল । মেহেরজানের প্রার্থনা মঞ্জুর হইল । - মেহেরজান সেই দরিয়া বিবি ।