পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


కాక్షాకfఇఆ রন্ধে যুদ্ধ প্রথম পরিচ্ছেদ চঞ্চলের বিদায় প্রভাতে মোগল-সৈন্ত সাজিল ৷ রূপনগরের গড়ের সিংহদ্বার হইতে উষ্ণৗষকৰচ শোভিত, গুম্ফশ্মশ্রসমন্বিত, অস্ত্রসজ্জাভীষণ অশ্বারোহিদল সারি দিল । পাচ পাচ জন অশ্বারোহী এক এক সারি, সারির পিছু সারি, তার পর আবার সারি, সারি সারি সারি সারি অশ্বারোহীর সারি চলিতেছে ; ভ্রমরশ্রেণী-সমাকুল ফুল্লকমলতুল্য তাহীদের বদন-মণ্ডল সকল শোভিতে ছিল । তাহাদের অশ্বশ্রেণী গ্রীবাভঙ্গে সুন্দর, বল্গারোধে অধীর, মন্দগমনে ক্রীড়াশীল ; অশ্বশ্রেণী শরীরভরে হেলিতেছে, ফুলিতেছে এবং নাচিয়া নাচিয়া চলিবার উপক্রম করিতেছে । চঞ্চলকুমারী প্রভাতে উঠিয়া স্বান করিয়া রত্নালঙ্কারে ভূষিত হইলেন । নিৰ্ম্মল অলঙ্কার পরাইল । চঞ্চল বলিল, "ফুলের মালা পরাও সৰি—আমি চিতারোহণে যাইতেছি ।” প্রবলবেগে প্রবহমান অশ্রজল চক্ষুমধ্যে ফেরত পাঠাইয়া নিৰ্ম্মল বলিল, “রত্নালঙ্কার পরাই সখি, তুমি উদয়পুরেশ্বরী হইতে যাইতেছ।” চঞ্চল বলিল, “পরাও ! পরাও ! নিৰ্ম্মল! কুৎসিত হইয়া কেন মরিব ? রাজার মেয়ে আমি ; রাজার মেয়ের মত সুন্দর হুইয়া মরিব । সৌন্দর্য্যের মত কোন রাজত্ব ? রাজ্য কি বিনা সৌন্দর্য্যে শোভা পায় ? পরা।” নিৰ্ম্মল অলঙ্কার পরাইল ; সে কুসুমিত-তরুবিনিন্দিত কাস্তি দেখিয়া কাদিল । কিছু বলিল না। চঞ্চল তখন নিৰ্ম্মলের গলা ধরিয়া কাদিল । চঞ্চল তার পর বলিল, “নিৰ্ম্মল! আর তোমায় দেখিব না । কেন বিধাতা এমন বিড়ম্বন করিলেন ? দেখ, ক্ষুদ্র র্কাটার গাছ যেখানে জন্মে, সেইখানে থাকে ; আমি কেন রূপনগরে থাকিতে পাইলাম না ?” নিৰ্ম্মল বলিল, “আমায় আবার দেখিবে। তুমি যেখানে থাক, আমার সঙ্গে আবার দেখা হইৰে । আমায় না দেখিলে তোমার মরা হুইবে না ; তোমায় না দেখিলে আমার মরা হইৰে না ।” চঞ্চল । আমি দিল্লীর পথে মরিব । নিৰ্ম্মল । দিল্লীর পথে তবে অামায় দেখিবে । চঞ্চল। সে কি নিৰ্ম্মল ? কি প্রকারে তুমি যাইবে ? নিৰ্ম্মল কিছু বলিল না, চঞ্চলের গলা ধরিয়া কাদিল । --- চঞ্চলকুমারী বেশভূষা সমাপন করিয়া মহাদেবের মন্দিরে গেলেন। নিত্যব্রত শিবপূজা ভক্তিভাবে করিলেন । বলিলেন, “দেবদেব মহাদেব ! মরিতে চলিলাম, কিন্তু জিজ্ঞাসা করি, বালিকার মরণে তোমার এত তুষ্টি কেন প্রভু ? আমি বঁচিলে কি তোমার সৃষ্টি চলিত না ? যদি এতই মনে ছিল, কেন আমাকে রাজার মেয়ে করিয়া সংসারে পাঠাইয়াছিলে ?” মহাদেবের বন্দনা করিয়া চঞ্চলকুমারী মাতৃচরণ বন্দনা করিতে গেলেন । মাতাকে প্রণাম করিয়৷ চঞ্চল কতই র্কাদিল । পিতার চরণে গিয়া প্রণাম করিল। পিতাকে প্রণাম করিয়া চঞ্চল কতই কাদিল । তার পর একে একে সখীজনের কাছে চঞ্চল বিদায় গ্রহণ করিল। সকলে কাদিয়া গণ্ডগোল করিল । চঞ্চল কাহাকে অলঙ্কার, কাহাকে খেলান, কাহাকে অর্থ দিয়া পুরস্কৃত করিলেন । কাহাকে বলিলেন, “কঁাদিও না—আমি আবার আসিব ।” কাহাকে বলিলেন, *কাদিও না—দেখিতেছ নী, আমি পৃথিবীশ্বরী হইতে যাইতেছি ?” কাহাকেও বলিলেন, “র্কাদিও না-কাদিলে যদি দুঃখ যাইত, তবে আমি কাদিয়া রূপনগরের পাহাড় ভাসাইতাম ।” সকলের কাছে বিদায় গ্রহণ করিয়া চঞ্চলকুমারী দোলারোহণে চলিলেন । এক সহস্ৰ অশ্বারোহী সৈন্য দোলার অগ্ৰে স্থাপিত হইয়াছে ; এক সহস্র পশ্চাতে। রজতমণ্ডিত, রত্নখচিত সে শিবিক, বিচিত্র স্ববর্ণখচিত বস্ত্রে আবৃত হইয়াছে ; আশাসোটা লইয়া চোপদার বাগ জালে গ্রাম্য দর্শকবর্গকে আনন্দিত করিতেছে। চঞ্চলকুমারী শিবিকায় আরোহণ করিলেন, তুর্গমধ্য হইতে শঙ্খ নিনাদিত হইল ; কুক্ষম ও লাজাবলীতে শিবিক পরিপূর্ণ হইল ; সেনাপতি চলিবার আজ্ঞা দিলেন ; তখন অকস্মাৎ মুক্তপথ