পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজসিংহ তার পর চঞ্চলকুমারী একটু হাসিল, বলিল, “নিৰ্ম্মল, তুমি আমার জন্য এক পদব্রজে রূপনগর হইতে চলিয়া আসিয়া মরিতে বসিয়াছিলে । আর আজ ! আজ তুমি স্বামী পাইয়াছ!” নিৰ্ম্মল অধোবদন হইল। আপনাকে শত ধিক্কার দিল ; বলিল, “আমি ও বেলা আসিব, যাহাকে মালিক করিয়াছি, তাহাকে একবার জিজ্ঞাসা করিতে হইবে । আর একটা মেয়ে ঘাড়ে পড়িয়াছে, তাহার একটা ব্যবস্থা করিতে হইবে ” চঞ্চল। মেয়ে না হয় এখানে আনিলে ? নিৰ্ম্মল। সে খ্যান্‌খ্যান্‌ প্যান্থ-প্যান এখানে কাজ নাই । একটা পাতান রকম পিসী আছে – সেক্টটাকে ডাকিয়া বাড়ীতে বসাইয়। আসিব । এই সকল পরামর্শের পর নিৰ্ম্মলকুমারী বিদায় লইল । গৃহে গিয়া মাণিকলালকে সমস্ত বৃত্তান্ত জানাইল । মাণিকলাল ও নিৰ্ম্মলকে বিদায় দিতে বড় কষ্ট বোধ করিল। কিন্তু সে নিতান্ত প্ৰভু ভক্ত, আপত্তি করিল ন । পিসাম আসিধু কন্যাটির ভার লইলেন । _ পঞ্চম পরিচ্ছেদ সে প্রয়োজন কি ? নিৰ্ম্মল শিবিকারোহণে দাসদাসী , সঙ্গে লইয়া রাণার অস্তঃপুরা’ভমুখে চলিতেছেন। পথিমধ্যে বড় চক বা চৌক । তাহার একটা বাড়ীতে বড় লোকের ভিড়। নিৰ্ম্মলের দোলা বহুমূল্য বস্ত্রে আবৃত ছিল । কিন্তু জনমদের শব্দে তিনি কৌতুহলাক্রান্ত হইয়া আবরণ উদ্‌ঘাটত করিয়া দেখিলেন । এক জন পরিচারিকাকে ইঙ্গিত করিয়া ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি এ ?” শুনিলেন, এক জন বিখ্যাত “জ্যোতিষী” এই বাড়ীতে থাকে। সহস্র সহস্ৰ লোক তাহার কাছে প্রত্যহ গণনা করাইতে আসে। যাহারা গণাইতে আসিয়াছে, তাহারাই ভিড় করিয়াছে। নিৰ্ম্মল আরও শুনিলেন, এই জ্যোতিষী সকল প্রকার প্রশ্ন গণিতে পারে এবং যাহাকে যাহা বলিয়া দিয়াছে, তাহ ঠিক ফলিয়াছে। নিৰ্ম্মল তখন দাসীদিগকে বলিলেন, “সঙ্গের পাইকদিগকে বল, লোকসকল সরাইয়া দেয়। আমি ভিতরে গিয়া গণনা করাইব । কিন্তু আমার পরিচয় দিবার প্রয়োজন নাই ।” পাইকদিগের বল্লমের গুতায় লোকসকল সরিল—নিৰ্ম্মলের শিৰিকা জ্যোতিষীর গৃহমধ্যে প্রবেশ を役 করিল। যে গণাইতে বসিয়াছিল-দে উঠিয়া গেলে, নিৰ্ম্মল প্রশ্নকৰ্ত্তার আসনে বসিল । জ্যোতিষীকে " প্রণাম করিয়া কিঞ্চিৎ দর্শনী অগ্রিম দিল । জ্যোতিষী জিজ্ঞাসা করিলেন, “ম, তুমি কি গণাইবে ?” নিৰ্ম্মল বলিল, “আমি যাহা জিজ্ঞাসা করিব, তাহা গণিয়। বলিয়া দিন ।” জ্যোতিষী । প্রশ্ন। ভাল, বল । * * নিৰ্ম্মল বলিল, “আমার এক প্রিয়সর্থী আছেন ।” জ্যোতিষী একটু কি লিখিল। বলিল, “তার পর ?” নিৰ্ম্মল বলিল, “তিনি অবিবাহিভা ? জ্যোতিষী আবার লিখিল । বলিল, “তার পর ?” নিৰ্ম্মল । তার কবে বিবাহ হইবে ? জ্যোতিষী আবার লিখিল। পরে খড়ি পাতিতে, লাগিল। লগ্নসারণী দেখিল শঙ্কুপটু দেখিল । নিৰ্ম্মলকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিল। অনেক: অঙ্ক কযিল । অনেক পুথি খুলিয়া পড়িল । শেষে নিৰ্ম্মলের দিকে চাহিয়া ঘাড় নাড়িল । নিৰ্ম্মল বলিল, “বিবাহ হইবে না ?” জ্যোতিৰী । প্রায় সেইরূপ উত্তর শাস্ত্রে লেখেt নিৰ্ম্মল । প্রায় কেন ? জ্যোতিষী। যদি সসাগর। পৃথিবীপতির মহিষী আসিয়া কখনও তোমার সখীর পরিচর্য্যা করে, তখন বিবাহ হইবে । নহিলে হুইবে না। তাহ অসম্ভব বলিয়াই বলিতেছি, বিবাহ হুইবে না । “অসম্ভব বটে !” বলিয়৷ নিৰ্ম্মল জ্যোতিষীকে আরও কিছু দিয়া চলিয়া গেল । ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ 嫁 আগুন জালিবার প্রস্তাব চঞ্চলকুমারীর হরণে ভারতবর্ষে যে আগুন জলিল, তাহাতে হয় মোগল সাম্রাজ্য, নয় রাজপুতান ংস প্রাপ্ত হইত। কেবল মহারাণা রাজসিংহের দয়া-দাক্ষিণ্যের জন্য এতটা হইতে পারে নাই । সেই আশ্চৰ্য্য ঘটনা-পরম্পরা বিবৃত করা উপন্যাসগ্রন্থের উদেশ্ব হইতে পারে না। তবে কিছু কিছু না বলিলেও এই গ্রন্থের পরিশিষ্ট বুঝা যাইবে না । রূপনগরের রাজকুমারীর হরণ-সংবাদ দিল্লীতে আসিয়া পৌঁছিল। দিল্লীতে অত্যন্ত কোলাহল পড়িয়া গেল। বাদশাহ রাগে স্বসৈন্সের নেতৃগণের মধ্যে